Ameen Qudir

Published:
2019-04-17 23:01:31 BdST

৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে সাত একর জমির ওপর অত্যাধুনিক হাসপাতাল চালু হচ্ছে


 

 

সংবাদদাতা
______________________

চিকিৎসা সেবায় আগামী অন্তত ১৫ বছর দেশের সব হাসপাতাল থেকে এগিয়ে থাকার আশা নিয়ে শীঘ্রই চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা চট্টগ্রামের এই হাসপাতালে ইউরোপ এবং সিঙ্গাপুরের সমমানের স্বাস্থ্যসেবা মিলবে। হাসপাতালটি চালু হলে চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার হয়রানি, ভোগান্তি এবং মানসিক কষ্ট থেকে নিস্তার পাবে।

ট্রাস্ট পরিচালিত এই হাসপাতালে দেশের মানুষের আর্থিক বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দেশের শীর্ষ হাসপাতালগুলোর চেয়ে দশ থেকে ১৫ শতাংশ কমে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেডের বোর্ড চেয়ারম্যান ও চিটাগাং আই ইনফারমারি এন্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্সের (সিইআইটিসি) ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য নয়, চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে গত দশ বছরের চেষ্টায় ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। চট্টগ্রামের কিছু মহৎ হৃদয়ের মানুষ লাভের চিন্তা না করেই এই হাসপাতালের জন্য টাকা দিয়েছেন। হাসপাতাল অঙ্গনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডা. রবিউল হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল করার জন্য ১০ বছর আগেই আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরপর নানাভাবে চেষ্টা করে অবশেষে আমরা স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছি। রোজার আগে আমরা কয়েকটি বিভাগ নিয়ে সফট ওপেনিং শুরু করবো। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা বড় আকারে হাসপাতাল উদ্বোধন করবো।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয় যে, চট্টগ্রামে উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ায় অনেককে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছুটতে হচ্ছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া একজন রোগীর এবং পরিবারের নানা হয়রানি ভোগান্তি এবং কষ্টের কথা উল্লেখ করে ডা. রবিউল হোসেন বলেন, বিশেষায়িত ‘ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চালু হলে এই অবস্থা থেকে অনেক অংশে পরিত্রাণ পাবেন রোগী। পাশাপাশি তাদের পরিবার আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড মেম্বার ও সিইআইটিসি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ মালেক, আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, পরিচালক সেলিম আহমেদ, হাসপাতালের এঙিউটিভ ম্যানেজার রিয়াজ হোসেন, কমিশনিং কনসালটেন্ট এড লি হ্যানসেন, ম্যানেজার (মার্কেটিং এন্ড পাবলিক রিলেশন) শেখ আবদুস সালাম প্রমূখ।

খ্যাতনামা চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, নগরীর পাহাড়তলীতে সাত একর জমির ওপর ৫টি ভবন নিয়ে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গায় এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই হাসপাতালে থাকছে নার্সেস এবং টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং যাবতীয় আনুষাঙ্গিক সেবার সুবিধা। হাসপাতালের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি বিখ্যাত স্থাপত্য সংস্থা এই হাসপাতালের মূল নকশা প্রণয়ন করে এবং একটি ইউরোপিয়ান কনস্যালটেন্ট গ্রুপ নকশানুযায়ী কাজ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন – প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি এবং বায়োমেডিকেল বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে। এই হাসপাতাল বাস্তবায়নে ৩টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে – সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ (ইনফেকশান কন্ট্রোল), রোগীদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা। এখানে রয়েছে উন্নতমানের সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্‌ ইত্যাদি সম্বলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার; আছে ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনস্যালটেন্ট রুম সম্বলিত বহির্বিভাগ এবং আধুনিক মানসম্পন্ন ৬৪টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড; নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং ৮টি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ।

বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আরো বলেন, ভারতের বিখ্যাত নারায়ণা হেলথ এবং ইমপেরিয়াল যৌথভাবে কার্ডিয়াক সেন্টার পরিচালনা করবে এবং ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে; রোগী ও তার সাথে আগত স্বজনদের জন্য হাসপাতাল পরিধির মাঝে থাকার সুব্যবস্থা এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত আছে। এখানে পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতাল জৈব বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য সরকারী নীতিমালা অনুসরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ; হসপিটালিটি বিভাগের মাধ্যমে যাবতীয় সেবা প্রদানের ব্যবস্থা আছে। হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তার, নার্স এবং সর্বস্তরের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ চলছে।
ডা. রবিউল হোসেন বলেন, এ হাসপাতালে ৮৮টি সিঙ্গেল, ৭৬টি ডাবল কেবিন, রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য ৪০টি রুম এবং ২৭১ জন থাকার ডরমেটরিও থাকছে। হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত ও নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য আধুনিক লাইফ সাপোর্ট চিকিৎসা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা থাকছে। একই সাথে দূরবর্তী এলাকা থেকে রোগীদের আনার জন্য থাকছে হেলিপ্যাড সেবা।
ডা. রবিউল হোসেন এ হাসপাতালকে নিজের ড্রিম প্রজেক্ট বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশের উচ্চ আয়ের মানুষরা চিকিৎসার জন্য ভারত বা সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। আর মধ্য এবং নিম্ন আয়ের মানুষরা অনেকক্ষেত্রে ভালো চিকিৎসা সেবা পান না। সবার জন্য সুষ্ঠু এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই চট্টগ্রামের এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করছি আমরা।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড মেম্বার ও সিইআইটিসি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ মালেক বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই হাসপাতালের সাথে যুক্ত হয়েছি। নিজের বাইপাস অপারেশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা করানোর ভোগান্তি অনেক। অবস্থাপন্নরা বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলেও অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। আমরা চিকিৎসা সেবাটা মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছাতে চাই। লায়নিজমের আদর্শে বিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবে সেবার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা থাকার কথা উল্লেখ করে এম এ মালেক বলেন, দেশের যে কোনো হাসপাতাল থেকে কমমূল্যে আমরা এখানে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করবো। চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল আসলেই স্বাস্থ্যখাতে একটি নীরব বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়