Ameen Qudir

Published:
2019-04-16 10:16:06 BdST

সুদান ও আলজেরিয়াকে বদলে দিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা




ডেস্ক
______________________


মহান আন্দোলনে বদলে গেছে ও যাচ্ছে সুদান ও আলজেরিয়া। সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই বদল আনলেন রাজনীতিকরা নয়; আনলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী-আইনজীবীরা । এদের বয়স বেশীর ভাগের ত্রিশের মধ্যে। কল্যানসংগ্রামীদের বড় অংশ নারী।
সুদানে যে গণবিক্ষোভে সম্প্রতি ৩০ বছরের একনায়ক শাসনের অবসান হয়েছে তার নেতৃত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে নেই। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) নামে একটি পেশাজীবী সংগঠন। প্রধানত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং আইনজীবীরা মিলে এই সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন।

সুদানের গণ-বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছেন এক নারী। তাকে বলা হচ্ছে - নুবিয়ান কুইন আল সালাহা। নারীরা ছিল ৭০ ভাগ। সুদানের এবারের গণ-বিক্ষোভে নারীদের যেরকম ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তার নজির বিরল। বলা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ৭০ শতাংশই নারী। সমাজের সব অংশ থেকেই নারীরা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন। রাস্তায় যেমন তারা সোচ্চার, সোশাল মিডিয়াতেও একইভাবে তৎপর। এই নারীদের বিরাট একটি অংশ যে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইছেন তা নয়, সুদানে শারিয়া আইনের বদল দাবি করছেন তারা। সুদানের রক্ষণশীল সমাজে নারীদের বিরুদ্ধে নানা বৈষম্যমুলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে স্লোগান তুলছেন তারা। সামাজিক সংস্কারের দাবিতে তোলা এক নারীর স্লোগানের ভিডিও টুইটারে এবং অন্যান্য সোশাল মিডিয়ায় লাখ লাখ বার শেয়ার হয়েছে। ঐ নারী এখন সুদানের গণ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি "কানদাকা" বা "নুবিয়ান কুইন" খেতাব কুড়িয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সিংহভাগই তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী। তবে বিভিন্ন বয়সের লোকজনও অংশ নিয়েছে।

 

বিক্ষোভকারী লাখো মানুষের মাঝে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারের ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন অভিজাত পোশাক পরিহিতা নারী আলা সালাহ। উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে উজ্জীবিত করছেন আন্দোলনকারীদের। তার কানের দুলে প্রতিফলিত হচ্ছে অস্তপ্রায় সূর্যের ছবি। সেটি যেন সুদানে দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবশেষে সত্যিই লাখো সুদানির আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে। পর পর দুইদিনে দু’দফা সরকার পতনের বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছে তারা। আর এতে সরব অংশগ্রহণ করেছে আলা সালাহর মতো হাজার হাজার সুদানি নারী।

 

আলজেরিয়ায় ফিরছে গণতন্ত্র।
যার মুলচালিকায় যুবজাগরণ।।
---------------------------------------------------------

এবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে আলজেরিয়ায়। সেখানে দুই দশকের বেশি ক্ষমতায় ছিলেন আবদেল আজিজ বুটেফ্লিকা। তিনি পঞ্চম দফা ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর চাপে ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল ২০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন আবদেল কাদের বেনসালাহ। কিন্তু তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজের অনুগত। তিনি আগামী ৪ জুলাই অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে গণতন্ত্রের দাবিতে, গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে যুবসমাজ রাস্তায় নেমেছে। তারা কিছুতেই আবদেল কাদেরের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না যে, তিনি একটি অবাধ নির্বাচন দেবেন। এ জন্যই রাজপথে যুবসমাজ।, রাজধানীর গ্রান্ডে পোস্টে অথবা পোস্ট অফিসের বাইরে তারা শুক্রবার বিশাল বিক্ষোভ করেছে। এমন বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে থাকে নি যুবসমাজ। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বয়স ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানেরউ ছাত্রী আমিনা জুয়াদি (২২) অন্যতম। এ সময় সাদা পোশাকে বেশ কিছু পুলিশ তাদের পিছু নেয়। সবুজ হেডস্কার্ফ পরা আমিনা তাদের কথামতো চলতে থাকেন এবং কথা বলতে থাকেন। তিনিবলেন, এখন আমরা আর ভীত নই। আমরা যুবশক্তি। আমাদের রয়েছে পূর্ণাঙ্গ সাহস। জনগণই এখানে হিরো। তারা আলজেরিয়ার স্বৈরশাসক আবদেল আজিজ বুটেফ্লিকার রক্তচক্ষু দেখেছেন। তিনি দুই দশক ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছেন। তারা বলছে, ‘নি পুভোয়রের’ দিন শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে আবদেল আজিজের সামরিক সহযোগী, ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কথা বোঝানো হয়েছে।

শুক্রবার পোস্ট অফিসের বাইরে যে জনতার সমুদ্র ডেকেছিল তাতে বৃটেনের ব্রেক্সিটের সুর ছিল। কোনো কোনো ব্যানারে লেখা ছিল, লিভ মানে লিভ। আমিনা বিশ্বাস করেন শাসকগোষ্ঠী এবার আর খুব জোরোলো ধাক্কা দিতে পারবে না। যদি তারা লড়াই করতে চায় তাহলে প্রথম দফায়ই সামনে আসা উচিত। এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী একজন ছাত্রী মিরিয়াম সাউদ। তিনি বলেন, যেসব মুখ আমরা ২০ বছর ধরে দেখে আসছি তাদেরকে বিদায় নিতে হবে। আমরা চাই আমাদের জনপ্রতিনিধি। তারা আমাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। আমাদের কথা শোনা হোক এমনটা চাই আমরা। আমরা চাই সব কিছু পরিবর্তন করে দিতে।
বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী টার্গেট হলো অন্তর্বর্তী নতুন প্রেসিডেন্ট আবদেল কাদের বেনসালাহ। তিনি আবদেল আজিজের অনুগত। আবদেল কাদের আগামী ৪ঠা জুলাই আলজেরিয়াকে একটি অবাধ নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে অল্প কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন যে, তিনি সে পর্যন্ত টিকে থাকবেন। যদি আবদেল কাদের ও পুরনো সরকারের বাকি সদস্যরা যার যার জায়গায় থেকে যান তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনোই সুযোগ নেই। তারা অতীতেও জালিয়াতি করেছে এবং এবারও তাই করবে। , এরা তারা, যারা গত ২০টি বছর ধরে চুরি করে আসছে। প্রতারণা করে আসছে কমপক্ষে ২০ বছর। তারা বলে আসছে, দয়া করে আমার ওপর আস্থা রাখুন। আমি পরিচ্ছন্ন থাকবো। একটি স্বচ্ছ ভোট করবো। সবাই জানে তাদের এ কথার সঙ্গে এবারও প্রতারণা করবে।

তাদের অনেকে শাসনযন্ত্রকে পাল্টে দিতে চাইছেন। , এটা আমার দেশ। আমার স্বাধীনতা আছে। এখন সব সময়ের জন্য আমরা এই পোস্ট অফিসে অবস্থান নেবো। আমি রাত কাটিয়েছি এখানে। এখানে তরুণদের জন্য, আমাদের শিশুদের জন্য যোগ দিয়েছি। , তরুণ প্রজন্মের সামনে কিছুই নেই। তাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। তাদের বাসস্থান নেই। তাই তারা বিয়ে করতে পারছে না। তাই আমরা চাই এই পুরো শাসন ব্যবস্থা বদলে যাক। বিক্ষোভে যারা যোগ দিয়েছেন তাদের অনেকে পরেছেন লাল, সবুজ ও সাদা রঙের পোশাক। আলজেরিয়ার পতাকার রঙ এটা। রাবিয়া ফেরুকি নামে একজন তো আরো একটু এগিয়ে গিয়েছেন। তিনি মুখে একে নিয়েছেন দেশের পতাকা।

, এখানে তারা পরিবারের সঙ্গে এই গণতন্ত্রের আন্দোলনে যোগ দিতে পেরে খুব খুশি। এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে থামাতে, যুব সমাজকে আগামী দিনের সুযোগ করে দিন। ২০ বছর খুব বেশি ধৈর্য্য ধরেছে জনগণ। তা এখন শেষ হয়ে গেছে। আলজেরিয়ানরা যদি বদ্ধপরিকর থাকে তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি তাদেরকে গণতন্ত্রে পৌঁছা থামাতে পারবে না। এটা আলজেরিয়ার ইতিহাস বলে।

লেখা ইন্টারনেট ।

আপনার মতামত দিন:


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়