|

ডেবরায় চিকিৎসককে মলমূত্র মাখানোর পাশাপাশি চার সেবিকার শ্লীলতাহানি


Published: 2017-09-16 14:26:41 BdST, Updated: 2017-12-18 20:48:17 BdST

 

 


ডা. রেজাউল করীম

___________________________________


গত ছ মাসে চিকিৎসক নিগ্রহের একান্নটি ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনাতেও দোষীদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ আইন (২০০৯) প্রয়োগ করা হয় নি। কয়েকটি ঘটনায় নিগ্রহের পাশাপাশি মহিলা চিকিৎসক ও সেবিকাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ডেবরার ঘটনায় চিকিৎসককে মলমূত্র মাখানোর পাশাপাশি চারজন সেবিকার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। পুলিস শ্লীলতাহানীর জন্য কোন মামলা করে নি। নিগৃহীতার মেডিক্যাল পরীক্ষা ও জবান বন্দীর যে আইনগত প্রক্রিয়া আছে তার কোন কিছুই মানা হয় নি। স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতাল সুরক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ আইনটি সম্পর্কেও পুলিশ অবহিত নয়।
অথচ, আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার আছে, স্বরাষ্ট্র দপ্তর আছে ও স্বাধীন গনতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে নাগরিকদের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। দেশে অবশ্য পুলিশ নাগরিক সুরক্ষা দেওয়ার সময় পায় না। কারন, ভি আই পি দের সুরক্ষা, ঘুষের আসামীদের সুরক্ষা, দাঙ্গাবাজ-খুনে-সাম্প্রদায়িক দস্যুদের সুরক্ষা দিতে তারা এত ব্যস্ত যে এই সব ছোট খাট কাজ করার তাদের সময় নেই। কে যেন বলেছিলেন- সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক ও যেন গনতন্ত্রের সুফল- লোকটা হদ্দ বোকা ছিলেন সন্দেহ নেই।
আমাদের দেশসেবকদের দুখের কথা ভাবুন। দেশে এত সব কোটিপতি ও অন্যান্য উচ্চকোটির মানুষ আছেন তাদের জন্য কত সময় চলে যায়-তাদের জন্মদিনের, তাদের নাতীর আয়ার বকুল ফুলের পিসির ছেরাদ্দ, তস্য পোষ্য মার্জারের শুভ জন্মদিন - এ্যাত্তো সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ফেসবুক, ট্যুইটার, হোয়াটসআ্যাপ, টেলিগ্রাম আরো কত নাম না জানা মাধ্যমে লেখালেখির ধকল কত কেউ কী জানে? তাপ্পর ধরুন রূপালী পর্দার নায়ক-নায়িকাদের হোস্ট করার ধকল, কলকাতাবাসী-কিন্তু-বাংলা ছাড়া সর্বত্র ইনভেস্টমেন্ট-পিপাসু শিল্পপতিদের টোস্ট করার জন্য সময় ও অর্থ সঙ্কুলান করার চাপ সামলে তারপর বিশ্ববাংলার জন্য প্রানপাত! সময় কোথায়? দুটো ডাক্তার মার খেয়েছে- খেয়েছে না নাটক করছে কে জানে- তাদের কথা ভাবার সময় কোতা?
যাক, অনেক হয়েছে এবার জনসেবায় নেমে পড়ো। একটা ভাল মন্তর শিখিয়ে দিচ্ছি। রোজ প্রাকটিস করতে শুরু করো।
ধরো তোমাকে এক কোটি টাকা দিলাম কিন্তু তুমি নিলে না। টাকাটা কার থাকল?
ধরো তোমাকে মারলো, তুমি নিলে না। মারটা কার থাকল!!
এত কি রে বাপু? গায়ে না মাখলেই তো হয়।
পেটে খেলে পিঠে সয়/ এতো কভু মিছে নয়।

____________________________


সেপ্টেম্বর ১৩ -------------------
আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সাগর দত্ত হাসপাতালের ঘনীভূত সঙ্কটের সাময়িক বিরতি হল। আশা করি ছাত্রছাত্রীদের দাবীর সুষ্ঠু মিমাংসায় সময়োচিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গত ১৮ মাসে একাধিকবার বিশেষত: ছাত্রীরা নানাভাবে হেনস্থা হয়েছে। অনেক সময় ওরা লজ্জায় সেটা কাউকে বলেও নি। আমি গতকাল জানতে পারলাম আমাদের একজন ছাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল, সে লিখিত অভিযোগ জানালেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। আরেকজন ছাত্রীকে হেনস্থা পর এফ আই আর দায়ের হলেও অভিযুক্ত বুক ফুলিয়ে সাগর দত্ত চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের অভিযোগের প্রতিলিপি থানায় পাঠিয়েছেন কিন্তু নিজেরা কেন এফ আই আর করেন নি সেটা বিস্ময়ের। গোটা রাজ্য জুড়ে কর্মরত চিকিৎসা কর্মীরা আক্রান্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এফ আই আর করেন না, চিকিৎসকদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান না। অথচ, থানার বড়বাবু বা চুনিপুঁটি আই এ এস দের দেখতে পেলেই সাত মন তেল পুড়িয়ে ফেলেন। গতকাল এফ আই আর না হওয়ার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পরও উপযুক্ত এফ আই না হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আশা করি কাল কর্তৃপক্ষ আইনানুগ পরিভাষা ব্যবহার করে যথাযথ এফ আই আর করবেন। সি সি টি ভি ফুটেজ সংগ্রহ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়ার পর দুটি ফুটেজ পুলিশ পেয়েছে, বাকি দুটি কাল পাবে ও আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মেডিকেয়ার ২০০৯ আইন অনুসারে অভিযুক্তরা গ্রপ্তার হবে, বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
================================================
পান্ডুয়ার ঘটনায় কেউ গ্রপ্তার হন নি। সন্ত্রাসের ঘটনায় ডব্লিউ বি ডি এফের ঘোষিত কর্মসূচি সবার জানা। আমরা সব সন্ত্রাসের ঘটনায় মেডিকেয়ার আইন প্রয়োগ করার জন্য কাজ করে যাব। পাশাপাশি আক্রান্তদের পাশে সর্বশক্তি নিয়ে দাঁড়াবো। পান্ডুয়ায় ও তার ব্যতিক্রম হবে না। খুব শিগ্রি পান্ডুয়া নিয়ে নেতৃত্ব উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলে আশা করি।

___________________________________

ডা. রেজাউল করীম । কলকাতার প্রখ্যাত লোকসেবী ডাক্তার ও লেখক কলামিস্ট

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।