ডা শাহাদাত হোসেন

Published:
2022-09-22 09:38:54 BdST

ফরেনসিকগাজীপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে মাদ্রাসায় ধর্ষণ ও গর্ভপাত:"মাদ্রাসায় মেয়ে ভাল হবে:ডাক্তার"


মাদ্রাসার পরিচালক এমদাদুল হক (২৮)মাঝখানে




সংবাদদাতা
__________________

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক অবুঝ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক মওলানা এমদাদুল হককে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অবুঝ শিক্ষার্থীর পিতা মাতা অশ্রুসজল হয়ে বলেন," 'আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না। মেয়েটাকে এক ডাক্তার দেখালে সেই ডাক্তার বলেছিলেন, তোমার মেয়েকে মাদ্রাসায় দিলে সে ভাল হয়ে যাবে। কথা বলতে পারবে। তার সব সমস্যা কাটিয়ে উঠবে , কোরানে হাফেজ হয়ে আল্লাহর পেয়ারা বান্দা হবে , এই মকসুদে তাকে মাদ্রাসায় দাও। ডাক্তারের কথায় মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। এমদাদ হুজুরও সেই ওয়াদা করেছিল , মেয়েকে ভাল করে দেবে। কিন্তু হুজুর এভাবে তাকে নষ্ট করে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করবে , কল্পনাও করি নাই। এই হারামী হুজুরদের কঠোর বিচার চাই। আমরা এখন এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না। "

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ছাতির বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মওলানা এমদাদুল হক ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ছাতির বাজার এলাকার দারুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক।


মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর মা শ্রীপুরে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন এবং বাবা গ্রামে ঘুরে ঘুরে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে গত ঈদুল ফিতরের পর তারা মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় থাকতো।


গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় মাদ্রাসার এক শিক্ষক ফোন করে পরিবারের কাছে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানান। ওইদিন রাত ৮টায় মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষার্থীকে রক্তক্ষরণরত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরদিন ২২ আগস্ট তাকে নিয়ে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তাকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, 'আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না। তার কাছে জানতে চাইলে সে ইশারায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার পরিচালক এমদাদকে শনাক্ত করে এবং তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। এ ঘটনায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তেলিহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলামের কাছে আমি বিচার চাই। তিনি আমাকে থানায় অভিযোগ করতে বলেন। পরদিন আমি শ্রীপুর থানায় এমদাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি।'

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়