RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-01-31 21:17:11 BdST
‘সুপার-আর্থে’ প্রাণের বিকাশ
ডেস্ক
__________________
সৌরজগতের বাইরের ‘সুপার-আর্থ’ বা পৃথিবীর চেয়ে বড় গ্রহগুলোর মধ্যে জীবন সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আশাবাদ আরও বাড়ছে। 'নেচার অ্যাস্ট্রোনমি' সাময়িকী তে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব গ্রহ নিজেরাই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, যা ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে তাদের রক্ষা করে এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রাণের বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সুপার-আর্থ হলো এমন গ্রহ যা আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে বড় কিন্তু নেপচুনের চেয়ে ছোট। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এই ধরনের গ্রহ পাওয়া গেছে। অনেক সুপার-আর্থ তাদের নক্ষত্রের ‘বাসযোগ্য অঞ্চলে’ অবস্থান করছে, যেখানে তরল পানি থাকা সম্ভব, যা প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।
নিউইয়র্কের ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টারের অধ্যাপক মিকি নাকাজিমা বলেন, ‘‘শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র একটি গ্রহকে প্রাণধারণের যোগ্য করে তোলে। সুপার-আর্থগুলো তাদের কেন্দ্র নয়, বরং কেন্দ্র এবং ম্যান্টলের মাঝামাঝি অবস্থিত গলিত পাথরের স্তর থেকে ডায়নামো তৈরি করতে পারে, যা গ্রহগুলোর বাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়।’’
গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর মতো গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র প্রধানত কেন্দ্রের কঠিন অন্তঃকেন্দ্রের চারপাশের তরল লোহার স্তর থেকে তৈরি হয়। তবে সুপার-আর্থের কেন্দ্র ভিন্ন হওয়ায় সেখানে এই প্রথাগত প্রক্রিয়া কাজ করে না। নতুন গবেষণা অনুযায়ী, এসব গ্রহের গভীরের ম্যাগমা মহাসাগর থেকে ‘বিএমও-চালিত’ চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
বিএমও-প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র ও ম্যান্টলের মাঝামাঝি স্তরের আয়রন-সমৃদ্ধ গলিত পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, এমন স্তরগুলি কয়েকশ কোটি বছর ধরে স্থিতিশীল থাকে এবং সুপার-আর্থের দীর্ঘস্থায়ী চৌম্বক ক্ষেত্র বজায় রাখে।
গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার সুপার-আর্থগুলোর বাসযোগ্যতা ও সেখানে প্রাণের বিকাশের সম্ভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। পৃথিবীর তুলনায় বড় হওয়ায় এগুলোর চৌম্বক ক্ষেত্র হতে পারে আরও শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী, যা মহাজাগতিক ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেয়।
আপনার মতামত দিন:
