SAHA ANTAR

Published:
2021-04-06 11:28:07 BdST

আমেরিকায় ৪ পরিবার সদস্যকে হত্যা করে ২ বাংলাদেশীর আত্মহত্যা :কেন এই ট্রাজেডি


 

প্রফেসর ডা সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
কনসালটেন্ট ওসিডি ক্লিনিক, জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
----------------------------

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের উপকণ্ঠের একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (৫ এপ্রিল) তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে,ধারণা করা হচ্ছে- ওই পরিবারের দুই ভাই আত্মহত্যা করার ব্যাপারে একমত হন এবং এর আগে তাদের পুরো পরিবারকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার (হত্যার) সিদ্ধান্ত নেন।’
কেন এই নিজ পরিবারকে কতল ও কেন এই অাত্মহতা?
বিষয়টি বিশ্লেষণ দরকার।
এই অাত্মহত্যাএড়ানো যেত কি। এই জীবন গুলো বাঁচান যেত কি।
সেই বিশ্লেষণের আগে খবরটা জেনে নেই।


নিহতরা অভিবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে- পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে দুই ভাই অন্য চার সদস্যকে হত্যা করেন এবং তারপর নিজেরা আত্মহত্যা করেন।
এদিকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যালান শহরের পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারের কোনো এক সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের পারিবারিক এক বন্ধু পুলিশকে জানানোর পর তারা ওই বাড়িতে যান।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস মর্নিং নিউজকে পুলিশ সার্জেন্ট জন ফেলতি জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে- ওই পরিবারের দুই ভাই আত্মহত্যা করার ব্যাপারে একমত হন এবং এর আগে তাদের পুরো পরিবারকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার (হত্যার) সিদ্ধান্ত নেন।’
নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দু’জন টিনএজ বয়সী ভাই, তাদের এক বোন, তাদের বাবা-মা এবং দাদি রয়েছেন। সবচেয়ে কমবয়সী নিহতের বয়স ১৯ বছর।

কেন এই ট্রাজেডি, জীবনগুলো বাঁচানো যেত যেভাবে
-----------------------------------

কিছু দিন একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী পরিবারের দুই মনোরোগীকে ভিডিও কনসালটেশন করেছি।
তারা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা দীক্ষা প্রতিষ্ঠায় উন্নত পরিবার।
কিন্তু ৫ সদস্যর পরিবারের ২ নবীন মেধাবী সদস্য এখন সারাক্ষণ অন্ধকারে থাকে। তারা অালোতে অাসতে চায় না।
তারা বিশ্বাস করে, এটা ভীষণ ভালো পথে। লেখা পড়া তারা অপ্রয়োজনীয় মনে করে। তারা বিভিন্ন গায়েবী অাওয়াজ শোনে। তারা গায়েবি নির্দেশ পায়।
সেই গায়েবি নির্দেশ মোতাবেক তারা অন্ধকারে জীবন যাপন শুরু করেছে।
ও-ই রোগীদের পিতামাতা ডক্টরেট। বড় চাকুরী বাকুরী করেন। তারা কনভিন্সড ছিলেন, তাদের ২ সন্তান অন্যজগতের এলেম পেয়েছে। এটা অতি সৌভাগ্যর ব্যাপার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডক্টরেট ডিগ্রি ধারী। অথচ সেই উচ্চশিক্ষিত পিতা মাতা তাদের সন্তানদের অস্বাভাবিকতা পাত্তা দেন নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন হাসপাতালে মানসিক রোগ চিকিৎসা করান নি।
বরং সন্তানের অস্বাভাবিকতার মধ্যে অলৌকিকতা খুঁজে পেয়েছেন।
তারা বাংলা দেশের একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ র মাধ্যমে প্রথম ধারনা পান, তাদের সন্তানরা মানসিক রোগী।
বলা যায়, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের প্রতি সদয় হয়ে তারা অামার শরণাপন্ন হন।
অামি ভিডিও কনসালটেশন চেম্বার এ বসে ভিডিওতে তাদের চিকিৎসা দেই। রোগীদের সঙ্গে কথা বলি। কি ধরনের মানসিক রোগ, তা চিন্হিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিই।

নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা নিচ্ছে তারা।
দুই সন্তান অনেকটা সুস্থ। কাজে কর্মে মনে দিয়েছে। অফিস করছে।
অাশা করি, নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা নিলে তারা জীবনভর সুস্থ জীবন যাপন করবে বলে অামি অাশাবাদী মানসিক রোগ চিকিৎসক হিসেবে।
মনে রাখতে হবে, এই দুটি মানসিক রোগীকে ভালো থাকতে হলে দীর্ঘদিন ফলোআপ চিকিৎসা নিয়মিত নিতেই হবে। বাদ দেওয়া যাবে না।

সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলা দেশি পরিবারটির ট্রাডেজিতে ভীষণ ভাবে মর্মাহত বোধ করি। শোক জানাই।
কেন তারা অাত্মঘাতী হল, এখনো সঠিক কারণ জানা যায় নি।

শুধু অাফসোস হচ্ছে, অাশঙ্কা হচ্ছে, এই সবাইকে হত্যা করে অাত্মঘাতী দুই সন্তানও মানসিক রোগী ছিলো কিনা।
যদি তারা, তাদের পরিবার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বা বাংলা দেশের কোন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কনসালটেশন নিতেন, নিশ্চয়ই পরিবারটি এই মর্মান্তিক ট্রাজেডি থেকে রক্ষা পেত। মনোরোগ চিকিৎসকরা তাদের জীবন রক্ষা করতে পারতো।

মনে রাখতে হবে, পরিবারে মানসিক রোগী থাকলে লুকোবেন না। দেশে বিদেশে যেখানে থাকুন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তাকে দেখান। নিজে বাঁচুন।মনোরোগীদের অসুখ থেকে বাচিয়ে সুস্থ জীবন নিশ্চিত করুন।

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়