Dr. Aminul Islam

Published:
2020-11-24 23:10:50 BdST

লর্ড ভানু বলেছেন “দেকি না কি হয়”


 
প্রফেসর ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল
_____________________________

 

“এক লক্ষ চিকিৎসক কে,
হে মেডিকেল কলেজ আর বিএমডিসি –
রেখেছ ডাক্তার করে
মানুষ কর নি।”
শুরুতেই বলে রাখি সদ্য জামিনে মুক্ত ডা. মামুনকে সতীর্থের কোলে দোল খেতে দেখে যারা পুলকে বিগলিত আমি
তাদের দলে নই।
ঢাকার মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুল করিমের আকস্মিক মৃত্যু (জেনে শুনেই লিখলাম) আর এর
ধারাবাহিকতায় মানসিক রোগ ইন্সটিটিউটের ডাঃ মামুনের গ্রেফতার,রিমান্ড,হাতকরা,জামিন নামঞ্জুর:শেষমেশ জামিন
আর পাশাপাশি আমাদের চিকিৎসক সংগঠনের নেতাদের আস্ফালন নিয়ে কিছু লিখবো না বলে এতদিন পণ করেছিলাম।
আর এর মাঝে টেলিভিশন শো (আপনারা যারা এটাকে টক শো বলেন) তে একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার আইনের
প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার দৃঢ় অবস্থান, সাংবাদিক নেতাদের (টেলিভিশন শো গুলোতে সাধারনত সাংবাদিক নেতাদেরই দেখা
যায়) বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জেহাদী মনোভাব আর তার বিপরীতে চিকিৎসক নেতাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টায়
পুতু পুতু কন্ঠে উপস্থাপিকার করুনা অর্জনের প্রবল প্রচেষ্টা দেখে ইচ্ছেটা প্রায় সংকল্পে পরিনত হতে চলেছিল। এর মাঝে
হঠাৎ শ্যামলীতে সরকারী হাসপাতাল পাড়ার রাস্তায় চিকিৎসকদের সংহতি সমাবেশ আর পেছনের কক্ষে সমঝোতা সভার
খবর শুনে (যেখানে চিকিৎসক নেতারা ছাড়াও আছে কয়েকজন চিকিৎসা পেশাজীবী, বড় বড় আমলা আর পুলিশ কর্মকর্তা)
দৃঢ় সংকল্প প্রায় ধনুর্ভঙ্গ পনে রূপান্তরিত হয়েছিলো। আমার পরিচিত দু’একজন সংহতি সমাবেশ থেকে ফিরে এসে বিমর্ষ
কন্ঠে যখন বলছিল, স্যার, সমাবেশে সবই নেগেটিভ' একটাই পজেটিভ হবার আশঙ্কা- সেটা করোনা। যেহেতু অবাক
হবার কিছুই ছিল না, তাই ঠান্ডা গলায় বললাম, আইনের নিজস্বগতিকে গতিরূদ্ধ করার সমাবেশে পিঠে দু’চারটা শৃঙ্খখলা
বটিকার চিহ্ন ছাড়াই ফিরেছ যখন, তখন এশার নামাজের সাথে দু’রাকাত শোকরানা নামাজ যোগ করে নিও আর এখন
দয়া করে কাপড় -জামাগুলো টগবগে গরম আর নিজেকে হালকা গরমে চুবিয়ে আঙ্গুলে পালস অক্সিমিটার আর বগলে
থার্মোমিটার গুঁজে নিয়মিত চেক করো নাকে বায়ু নিঃসরনের গন্ধ পাও কি না। এরই মধ্যে শুক্লপক্ষের চিকন চাঁদের সাথে
আনন্দ বার্তা এল আলোচনার সমঝোতা সফল, আইন প্রয়োগকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মামুনের জামিনের
ব্যবস্থা হবে, কারাগারে হবে ডিভিশন, ডাক্তারদের আর হয়রানি হবে না। আজ রবিউস সানির ৫ তারিখ, আকাশে নতুন
চাঁদ, ঈদের চাঁদের মতোই চিকন- আব্বাস উদ্দীন সাহেবের গাওয়া সেই বিখ্যাত নজরুল গীতির কথা মনে পড়লো
চকিতে, “ও মন... এলো খুশীর ঈদ”। গনগনে আগুন ধিকি ধিকি ছাই চাপা থেকে এতক্ষনে প্রায় নির্বিষ ঠান্ডা ছাইয়ে
পরিনত হয়েছে- তখন কথাটা বলাই যায়। এযুগের ডাক্তার সাহেবদের উত্তেজনা প্রিম্যাচিউর-ইজাকুলেশনের মত, প্রস্তুতি
ভালো কিন্তু ফিনিশিং খারাপ। আর তার পরবর্তী পর্যায় তো বুঝতেই পারেন, তখন আর কিছুই ভালো লাগে না; শুধুই
ক্লান্তি- ক্লান্তি- আর ক্লান্তি- মানে-“ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু”। আমার অবস্থাও তাই, ফলে উত্তেজনার ধনুর্ভঙ্গ পণের
তীর-ধনুক এখন আপনাদের মত আমারও অনেকটা নতজানু সুতরাং মিন মিন করে এখন বোধ হয় কিছু বলাই যায়।
পুলিশ কর্মকর্তার অকাট্য যুক্তি-
এক. ডাঃ মামুন এএসপি সাহেবকে মাইন্ড এইড হাসপাতলে পাঠানোর পরামর্শ কেন দিলেন? হুম! ঠিকই তো, লুচির
মাংস নয় পাঠার মাংস নয়; মাইন্ড এইডে কেন? মাইন্ডে এইড প্রাপ্তির কিছু সম্ভবনা না থাকলে ওখানে তো পাঠাবার কথা
নয়!
দুই. এএসপি সাহেব মাইন্ড এইডে গুরুতর অসুস্থ জেনে সাত তাড়াতাড়ি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ
ইন্সটিটিউটে নেয়া কেন? নিজে অপরাধী না হলে তার তো এটা করার কথা নয়। আরে তাই তো, এটাতো মাথায়
আসেনি। ডাক্তারের আরেক নাম তো কসাই। তাকে কোন কসাই খানায় না নিয়ে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে বেচারী
তো   স্বজাতির অপমানই শুধু করেনি, পুলিশের হাতে মোক্ষম মোটিভ তুলে দিয়েছে। বার বার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধানএবার বুঝবে মজা। রিমান্ড কাকে বলে।
তিন. ষোল মাসে ১০ লাখ টাকা কমিশন কামিয়েছে ডাঃ মামুন। এই অপরাধের কোন মাফ নেই। দেশের চতুর্থ শ্রেণীর
কর্মচারীর উপরি আয়ের কাছাকাছি যেতে না পারা ডাঃ মামুন তো গর্হিত অপরাধ করেছে। আর রাজশাহীতে দুঃস্থ
রোগীদের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা দান করা ‘হাসি মুখ’; আরে রাখেন ওসব, আইনের লোককে বেকুব মনে করেন। আমরা
সব বুঝি, ভেতরে ভেতরে মালের ব্যবস্থা না থাকলে কেউ নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়? যতসব বুজরুকী।
তবে হ্যাঁ তাদের কয়েকটা কারনে ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়।
এক- ডাঃ মামুনের পকেটে কোন ইয়াবা পাওয়া যায়নি।
দুই- ডাঃ মামুনের কোমড়ে কোন লাইসেন্স বিহীন পিস্তল পাওয়া যায়নি।
তিন- রিমান্ডে ডাক্তারী পরীক্ষায় ডাঃ মামুনের রক্তে মাদকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চার- মাঝরাতে মামুনকে নিয়ে তার সহযোগীদের ধরতে যাওয়ার অভিযানে কোনো বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি।
তবে, এটাই শেষ কথা নয়, তদন্ত অব্যাহত আছে, এসব কিছু পাওয়া যেতে পারে। আর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের
খোঁজে এতক্ষনে দুদকের কেউ মাঠে নামেনি বলে নামবে না, এমন ভাবার কারন নেই?
তবে আমার কিছু খটকা কাটছে না:
এএসপি সাহেব কতটা অসুস্থ আগে থেকে ছিলেন, কদিন নিদ্রাহীন ছিলেন, অভুক্ত ছিলেন কত দিন, কাক ডাকা ভোরে
বরিশাল থেকে মানসিক রোগ ইন্সটিটিউটে আসার সময় তার হাত বাঁধা ছিল কিনা, কেন হাত বাঁধতে হয়েছিল, তিনি
মানসিক রোগ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এসবে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তিনি হঠাৎ হৃদরোগ বা অন্য কোন তাৎক্ষনিক
কারনে মৃতুবরণ করেছেন কিনা? এসব বিষয়ে আমাদের সবার তথ্য ভান্ডার ইতোমধ্যেই বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। সুতরাং
এসব নিয়ে বাহুল্য কচকচানি অর্থহীন। এএসপি সাহেবের চাকুরীর স্বাভাবিকতা রক্ষা করতে রোগটার চিকিৎসা যে কাগজে
কলমে চিহ্ন রেখে করা যাবেনা- আড়ালেই রাখতে হবে, সে কটুবুদ্ধি প্রয়োগের জন্য খুব দুর্দান্ত কুটীল হবার প্রয়োজন
নেই।
সন্দেহ নেই যে কোন অপমৃত্যুই অনাকাঙ্খিত । এসএসপি সাহেবের মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত। তবে বোন আর
ভগ্নীপতি উভয়েই চিকিৎসক বিধায় এরকম পরিস্থিতিতে শোকের পাশাপাশি তাদের বিব্রতকর অবস্থাও সহজে অনুমেয়।
তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সহানুভূতির কমতি নেই।
কিন্তু খটকাগুলো পরিস্কার হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।
১. আইনের লোকজন- তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ যে কোন হত্যাকান্ডের সাথে একটা বিষয়ের যোগসূত্র খুঁজতে চেষ্টা
করেন- সেটি হলো ‘মোটিভ বা উদ্দেশ্য’। মাইন্ড এইড হাসপাতালের কর্মচারী-ওয়ার্ড বয়-নিরাপত্তাকর্মী এরা
এএসপি সাহেবকে দলবদ্ধভাবে হত্যা করবেন কোন কারনে- উদ্দেশ্য কি- কি লাভ তাদের। খুব সাদা মাটা এই
প্রশ্নের উত্তর দরকার। এতে তাঁদের হাসপাতলের দূর্নাম ছাড়া লাভটা কোথায়? একজন ভর্তি রোগী মারা গেলে
দূর্নামের পাশাপাশি আর্থিক ভাবেও তো তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। হাসপাতালের আয় থেকেই তো তাদের জীবিকা
নির্বাহ হয়। তাহলে মোটিভটা কী?
২. পুরো ঘটনা সিসি টিভিতে ধারন করা, আর তা ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দেশের সবার কাছে পৌছে গেল। অপরাধ
প্রবণ একটা ঘটনার পরে অপরাধীরা তো সবার আগে আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তেমন কোন
কিছুর চেষ্টা দেখা গেল না কেন? আর ঐ হাসপাতালের কর্মীরা তো জানতোই যে এখানে সিসি টিভিতে সব
কিছু রেকর্ড হয়। কেউ কি একটা রেকর্ডেড হত্যাকান্ড ঘটাবে? আর হাসপাতল কর্তৃপক্ষ যদি সবকিছু আড়ালই
করতে চাইবেন তাহলে রোগীর কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখতেন কি?
৩. যতদুর মনে হয় ঘটনার কক্ষটির দেয়াল, মেঝে নরম রাবার ফোমে আচ্ছাদিত। সম্ভবত ভায়োলেন্ট রোগীদের
নিরাপত্তার জন্য মানসিক হাসপাতালে এ জাতীয় রোগীদের জন্য এমনই ব্যবস্থাই থাকবার কথা। সে দিক
বিবেচনায় এই হাসপাতাল মানহীন- সপাটে এমন বলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত। মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের
অনুমোদন থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরটা ছিলোনা, যা বড় অসঙ্গতি। এর কারন উদ্ঘাটিত হতে পারে, শাস্তিও
দেয়া যেতে পারে সেটা নিয়ে কোনো কথা নেই।
৪. বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুংখানুপুঙ্খ ভাবে সিসি টিভির ফুটেজ ফ্রেম বাই ফেম না দেখে- ঐ হাসপাতালের কর্মীরা
নির্যাতন করে এএসপি সাহেবকে হত্যা করেছ এমন ঢালাও কথা বলা যাবে কি না। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা
মন্তব্য করতে পারেন যে, রোগীকে নিবৃত্ত করার জন্য তাদের প্রচেষ্টার কোন কোন কোন অংশ অগ্রহনযোগ্য
ছিল। মনে রাখার দরকার ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলো কিন্তু অপরাধের সাথে জড়িত নয় এমন কোনো নির্দোষের
শাস্তি না হওয়াটাই সুবিচার। মনে রাখতে হবে পুলিশ, চিকিৎসক, সাংবাদিকদের মতন এরকম ছাপোষা
কর্মচারীদের কোনো সংগঠন নেই যারা তাদের পাশে এসে দাড়াবে।
৫. এএসপি সাহেবের পোষ্ট মর্টেম পরীক্ষা হয়েছে কি না। আমাদের সীমিত ফরেনসিক জ্ঞানে এটুকু বলে ঐ
পরিস্থিতিতে ঐ নরম মেঝের কক্ষে একমাত্র শ্বাসরোধ ছাড়া হত্যাকান্ড ঘটানো একরকম অসম্ভব এবং ময়না
তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে খুব বেশী বেগ পাবেন বলে তো আমার মনে
হয় না।
৬. মামলার অন্য আসামীরা ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে বলেছে ডাঃ মামুন ঐ হাসপাতাল থেকে মাসে লাখ লাখ
টাকা কমিশন নিয়েছেন। ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে একজন বন্দি আসামী শুধু মাত্র তার নিজের জবানীতেই
বক্তব্য দেয় বলে জানি। এখানে তাকে প্রশ্ন করার কোন অবকাশ নেই। তাহলে হত্যাকান্ডের সাথে ডাঃ মামুনের
কমিশনের বক্তব্য জবানবন্দীতে কোন সংশ্লিষ্টতায় আসবে, যদি না এটা রিমান্ডের দাওয়াইতে তার মাথায় ঢুকিয়ে
দেয়া হয়। ধান ভানতে শিবের গীতের এই অংশটাই পুঁজি করে মামুনের গ্রেফতার, হাতকড়া, রিমান্ড। পুরো
বিষয়টা আমরা এত সরলভাবে দেখছি কেন?
৭. পুলিশ বিভাগ সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে জানিয়েছেন যে, ডাঃ মামুন রিমান্ডে স্বীকার করেছেন যে, তিনি
ষোল মাসে দশ লাখ টাকা কমিশন নিয়েছেন মাইন্ড এইড হাসপাতাল থেকে। প্রশ্ন হলো এটা একটা হত্যা
মামলা। রিমান্ডের ¯স্বাভাবিক নিয়মে তাকে প্রশ্ন করার কথা এই হত্যাকান্ডে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয় নিয়ে। কমিশন
শব্দটাকে সামনে এনে কি বোঝালেন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা। কমিশনের লোভে তিনি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন?
আর তা ঘটনা সম্পর্কিত প্রশ্ন না হলে বুঝতে হবে এটা প্রচলিত সাধারন পাবলিক সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে
চিকিৎসকদের অপদস্থ করার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করা।
তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ালো; দাঁড়ালো এরকম             ১. মামুন গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং রিমান্ডে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটো আইনের কাগজ দাঁড় করানো হয়ে গেছে।
এক- অন্য আসামীদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে মামুনের নাম, আর রিমান্ডে মামুনের তথাকথিত কমিশন
নেবার স্বীকারোক্তী।
২. জাদরেল চিকিৎসক নেতা, কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী বা পুলিশের অনুকম্পা নয়, ডাঃ মামুনের জামিন আইনের
স্বাভাবিক নিয়মেই হবার কথা। প্রথম স্তরের নি  আদালতে তা না হওয়া বা তার রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টিও
স্বাভাবিক- এমনটা কেউই ভাবছে না। আর কারাগারে তাঁর ডিভিশন- এনিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রোয়জন - বাংলা
ব্যকরনে এরুপ পরিস্থিতিকে উদ্ধৃত করার মত কয়েকটা প্রচলিত বাগধারা সবারই জানা। যেমন- ‘কি যেন মেরে
কি যেন দান’।
৩. তাহলে অন্য আসামীদের ১৬৪ আর মামুনের ১৬১ এ দুটোই এখন আইন আর আদালতের সম্পদ। পুলিশের
কোন ক্ষমতাবান কর্মকর্তারও না, আমাদের নেতাদেরও না।
ফলে চার্জ গঠনের শুণানীর সময় ডাঃ মামুনের নাম উচ্চারিত না হলে অন্য আসামীর আইনজীবীরা আপত্তি
তুলবেন। কারন ডাঃ মামুনকে আসামী করা অন্য আসামীদের জন্য জীবন মরন সমতূল্য। কারন ডাঃ মামুন
আসামীভূক্ত থাকলে চিকিৎসকদের বিক্ষোভে মামলার ফলাফলে প্রভাব পড়বে এমনটাই ধারণা থাকবে তাদের।
৪. হ্যাঁ, মামুন এত কিছুর পরেও মুক্তি পাবে নিঃসন্দেহে এবং অবশ্যই সসম্মানে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে কবে? আর কি
ভাবে? জামিনে? নাকি মামলার চূড়ান্ত রায় অব্দি আমাদের অপেক্ষা করতে হবে- যা গড়াতে পারে সুপ্রীম কোর্ট
পর্যন্ত। আর সময়? সে উত্তর আমার জানা নেই।
৫. অপেক্ষার প্রহর যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে নিশ্চিত এই জেলী ফিস চিকিৎসকদের ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি ততদিনে
মামুনকে মনে রাখতে পারবেনা। তখন আদালতের বারান্দায় ঘুরবে মামুনের স্ত্রী, পরিবার, দু-একজন সহপাঠী,
নিতান্তই একাকী নিঃসঙ্গ- একাকী।
হাত দুটো সামনে এনে দু’হাতে হাতকড়া পরা, বিধ্বস্ত, কম্পিত মামুনের মাঝে আমি আমার নিজের প্রতিচ্ছবি
দেখি। দেখি নিজেকে নিঃর্জন বিভিষিকার রিমান্ডে-নিঃসঙ্গ, যন্ত্রনায় পরাজিত। দেখি সহ¯্র হায়েনার মত লোলুপ
দৃষ্টি দেয়া অসংখ্য ক্যামেরার লেন্স আর লেন্সের পেছনে দাঁড়ানো অযুত হলুদের বিজাতীয় উল্লাস। দেখি আমার
নপুঃসক নেতৃত্বের সিঙ্গাড়া চিবুনো হাত কচলানো অপমানকর তথাকথিত ছেলে ভুলানো সমঝোতা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী- খুব শান্ত ঠান্ডা গলায় জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধ করলে গ্রেফতার হবেই। বার্তা
পরিস্কার। চিকিৎসকরা একা- আর তারা রাজার প্রজা। আরো বলেছেন, আন্দোলনে রোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে দায়ী হবেন
চিকিৎসকরা।
আজ আমরা কেউই ডাঃ ফজলে রাব্বী, ডাঃ আলীম চৌধুরী, ডাঃ মিলন কিম্বা ডাঃ শাহ আলম অথবা ডাঃ সিতারার
উত্তরসূরী নই। আজ আমরা সবাই মেরুদন্ডহীন জেলী ফিস, কর্দমাক্ত ক্লীব।
তাই আজ চাই অঙ্গীকার। সত্যের পাশে থাকার অঙ্গীকার। মামুনের পাশে শক্ত হয়ে ওকে সসম্মানে সব অভিযোগ থেকে
মুক্ত করে না আনা অব্দি ওর পরিবারের পাশেÑ সসম্মানে নির্দোষ পূর্ণ মর্যাদায়, তা সে যত দিন লাগুক। অঙ্গীকার জেলী
ফিসের মত ভুলে না যাবার।
অঙ্গীকার, মামুনের মত আর কোন চিকিৎসককে হাতকড়া হাতে অপমানিত না হতে দেবার অঙ্গীকার। অঙ্গীকার ঐক্যের,
অঙ্গীকার পেশাকে সম্মানিত রাখার।
আমি আছি অঙ্গীকারের প্রথম উচ্চারণে  আর কেউ আছো কি?
না আমি সবাইকে চাই নাড় চাই না অধ্যাপক নামের তাঁদেরকে যাঁরা প্রাকটিস আর অর্থের কাছে এতটাই ধরাশায়ী যে, পছন্দের পোষ্টিং এর
জায়গা আকড়ে রাখতে নিরাপত্তা কর্মী, সুইপার বা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বিপরীতে সংযুক্তি দিলেও এতটুকু
অপমানিত বোধ না করে গ্রহণ করবেন পরম তৃপ্তিতে।
 চাই না নেতা নামের সেই সব মেরুদন্ডহীনদের, যাঁরা একটা বিবৃতি লিখতে গিয়ে বার বার সংশোধন করেন, পাছে
কারো বিরাগ ভাজন হতে হয় এই ভয়ে।
 চাই না সেই দল কানাদের যারা নেতাদের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত টয়লেট অবদি আটকে রাখে দাঁতে দাঁত
চেপে।
চাই সেই সব জেষ্ঠ্যদের যাঁরা শত প্রতিকুলতাতেও নীতি বিচ্যুৎ হন নি এতটুকু। ডিগ্রীকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার না
বানিয়ে যোগ্য শিক্ষক হবার কাজে লাগিয়েছেন।
চাই সেই সব তরুনকে যারা সহজ প্রাপ্তির সরল সমীকরনকে নীতির কঠোর অনুশাসন দিয়ে প্রত্যখ্যান করেছেন।
চাই সেই সব যোদ্ধাকে যারা যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে যতটা তেজোদীপ্ত যুদ্ধের শেষ লগ্নে তার চাইতেও ক্ষুরধার, অকম্পিত
আর লক্ষে অবিচল।
আমরা সংখ্যায় কতটা জানি না। শুধু এটুকুই জানি আদর্শের সাথে আপোষহীন, মর্যাদার জন্য নিবেদিত এই তরুনরাইএকমাত্র আশার আলোক বর্তিকা। এসো আমরা সবাই মামুনদের
পাশে দাঁড়াই। 
এই সুতীব্র অন্ধকারে, আমাদের পেশার দৈন্য দিনে একমাত্র আশার আলোক বর্তিকা। এসো আমরা সবাই মামুনদের
পাশে দাঁড়াই। 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়