ডাক্তার প্রতিদিন

Published:
2020-06-26 11:44:35 BdST

যে কারণে তরুণদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে !



অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

_______________________

দেখা গেছে কিছু দেশে কিছু অঞ্চলে তরুণদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে ইদানিং । আমাদের দেশেও এমন ধাত লক্ষ্যনীয় ।
আমেরিকার কিছু ষ্টেটে এমন হচ্ছে । ২০-৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বাড়ছে সংক্রমণ ।
তাদের ব্যখ্যা হচ্ছে বেশি বেশি টেস্টিং , আর তরুণদের মধ্যে শারীরিক বিচ্ছিন্নতা ,মাস্ক পরিধান প্রত্যখ্যান , আর তরুণদের মধ্যে তারা সহসা সঙ্ক্রমিত হবেনা হলেও তা গুরুতর হবেনা এমন ভুল ধারনার কারনে বাড়ছে সংক্রমণ । এরা গুরুত্বের সাথে একে নিচ্ছেনা তা দুখজনক বলেন গবেষকরা । করোনা পজিটিভ বেশির ভাগের বয়স ৩৫ এর নিচে। নিউ জার্সির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লরেন্স ক্লাইমেন বলেন আমাদের পুঞ্জীভূত ধারনা যে এ কেবল বয়স্কদের বেশি আঘাত করে , কিন্তু বস্তুত এমন নয় যুবক যুবতীরা মান ছেন না শারীরিক বিচ্ছিন্নতা , পড়ছেন না মাস্ক , জন সমাজে ব্যপক ভাবে অবলোকন করলে মনে হয় এরা একসময় হবে স্প্রে ডারস এমনকি সুপার স্প্রেডারস ।
করোনার ব্যপারে ঘরে থাকা আর শারীরিক বিচ্চিন্নতা র ব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করে সি ডি সি দেখলেন বাইরে যাওয়া তেম্ন প্রয়োজন নয় এমন লোকদের ঘরে থাকার ব্যাপারে ১৮-২৪ বছর বয়সীদের মান্যতা কম , ৩০ শতাংশের নিচে এমন তরুণরা বলেন তারা ৬ ফিট দূরত্ব বজায় রাখেন আর ৪০ শতাংশ মনে করেন তারা বাইরে গেলে মাস্ক পরেন। প্রফেসার ক্লাইন্মেন বলেন বয়সের অদম্যতা , অপরাজেয় বোধ একটি বিষয় আর একটি মিথ যে এ কেবল বয়স্কদের বেশি আঘাত করে আর কাবু করে এমন ধারনা আর তরুণদের তেমন আক্রমন করেনা । জর্জিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের এপি ডে মিও লজির অধ্যাপক মারক এবেল বলেন ৯০ শতাংশ এমন তরুন উপসর্গ হীন এছাড়া এরা ঝুকি নিতে খুব তৈরি । টেস্টিং বাড়ানোতে এমন তথ্য উদ্ঘা ঘা টিত হয়েছে , প্রথমে শুধু উপসর্গ আছে এমন লোকদের টেস্ট করা হয়েছে এখন টেস্টিং ব্যপকতা বাড়াতে এসব বেরিয়ে এসেছে ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেহেতু তরুন রা বিধিনিষেধ মান্য করছেন না এতে করোনা বিস্তার হচ্ছে সহজতর । ওয়া শিং টন বিশ্ব বিদ্যালয়ের এপিডেমিও লজিসট জুডিথ মামগ্রেন বলেন " জন গোস্টি তে রোগের একটি বড় ডিপো চলমান , ফুটন্ত অবস্থায় এমন হতে পারে দ্রুত ভঙ্গুর পূর্ণ বয়স্কদের মধ্যে এটি ভয়ানক আকার ধারন করতে পারে । " অনেক তরুনের ধারনা করোনা তাদের বেশি আক্রমন করবে না আর করলেও গুরুতর অসুস্থ করবে না । তবে তাদের কাছ থেকে বয়স্কদের মধ্যে রোগ সক্রমন হতে পারে । কিভাবে তরুণদের সচেতন করা যায় বলছেন মেল্গ্রেন তারা প্রিন্ট মিডিয়া পড়েন কম তাই প্রচারনা হতে হবে সামাজিক মাধ্যমে , ছোট ছোট বাক্যে । দিতে হবে সরাসরি বার্তা । রাজনৈতিক নেতা , মহল্লার নেতা , সমাজের নেতা এরা বিভিন্ন তরুণদের গ্রপ এমন প্রচারনায় অংশ নিতে পারেন । কলেজের প্রশাসন , শিক্ষক এরা প্রচরনা করতে পারেন ,। এ নিয়ে হেলা ফেলা করা যাবেনা একবার সঙ্ক্রমন হলে বিস্তার লাভ করলে এ হয়ে যাবে নিয়ন্ত্রন হীন ।
আমাদের দেশেও এমন ধাত লক্ষ্য করা গেছে আর টেস্টিং বাড়লে আরও দৃশ্যমান হবে , আমাদের স্কুল কলেজ বন্ধ, তাই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন আর শিক্ষক রা তরুণদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন ।
তরুণদের গ্রুপ যেমন প্লা ট ফর্ম , সন্ধানী এরা ভুমিকা রাখতে পারেন ।
২.
আমরা করোনা প্রতিরোধ বা নিরাময়ের কতটুকু কাছাকাছি ?

হাইড্রক্সিক্লরকুইনকে শেষ বিদায় জানিয়েছি ? টিকা আবিষ্কারের কত কাছকাছি আমরা ? কো ভি ড ১৯ গবেষণা র ক্ষেত্রে প্রচুর বিতর্ক তবু আমরা সতর্ক আশাবাদের আলো দেখতে পাই । বিজ্ঞানীরা একে বলেন cautious optimism .। সঙ্ক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা আশা করেন সামনের বছরের প্রথম দিকে আমরা পেয়ে যাব এর টিকা । যারা টিকা আবিষ্কারের দৌড়ে আছেন তাদের আশা অক্টোবরের মধ্যে তারা কেউ না কেউ টিকা আনবেন বাজারে ।অক্সফোর্ডের উদ্ভাবিত টিকা অনেক দূর এগিয়েছে বলছেন বিজ্ঞানীরা । ক্লিনিকেল ট্রায়েলে আছেন দশ টি গ্রুপ ।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনা কর্তৃপক্ষ যখন চিনের উহানে অস্বাভাবিক নিউমোনিয়া রিপোর্ট করলেন এর পর থেকে কো ভি ড ১৯ নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা । এখন ও অবশ্য অনুমোদিত চিকিৎসা নেই , টিকাও এখনও ট্রায়েলের পর্যায়ে । পজিটিভ স্টাডি ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এফ ডি এ ইমারজেন্সি অনুমোদন দিয়েছেন রেমডিসেভির ড্রাগ হাসপাতালে রোগীদের জন্য । আবার জুন ১৫ তারিখে এফ ডি এ বাতিল করেছেন তাদের হাইড্রক্সিক্লরকুইন জরুরী অনুমোদন কারন এর প্রয়োগে হৃদ ছন্দে ভয়ঙ্কর ছন্দ পতন বিবেচনা করে ।সম্ভাবনা ময় আরও ওষুধ আছে দৌড়ে । ১৬ জুন অক্সফোর্ড বিশ্ব বিদ্যালয়ের গবেষক রা বললেন কম দামি অথচ কার্যকর অসুধ ডেক্সামিথাসন দিলে অনেক গুরুতর অসুস্থ রোগী র ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাবে ।
কার্যকর টিকা সম্বন্ধে বলেন ন্যাশনাল ইন্স টি টুট অব এলারজিক এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর প্রধান এন্থনি ফাউচি অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে বলেন , cautious optimism" আর বলেন ব্যাপক লোক সমাজে এর মাত্রা প্রয়োগ তৈরি হবে সামনের বছরের প্রথম দিকে।
গিলেয়াড সায়েন্সের তৈরি এনটিভাইরেল ওষুধ রেমডেসিভির বেশ সম্ভাবনাময় । এন এ জি এম এ প্রকাশিত প্রাথমিক গবেষণা ফল এর কার্যকরীতা দেখা গেছে ।
অবশ্য টিকা আবিষ্কারের পর এর বাজার জাত করন , বিতরন আর ধনি দরিদ্র নির্বিশেষে সম বণ্টন আর এর পর রাজনৈতিক কুট চাল হবে আরেক চ্যালেঞ্জ।

_____________INFORMATION________________

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়