রাতুল সেন

Published:
2020-06-02 17:54:39 BdST

নি:শ্বাস নিতে পারছি না , আমি মরে যাচ্ছি: তারপরও জর্জকে শ্বাসরোধ করে পিষে মারল ডেরেক



ডেস্ক
________________________

জর্জ ফ্লয়েডের অপরাধ এতটূকুই যে সে ২০ ডলারের একটি জাল নোট দিয়ে দোকান থেকে কিছু কিনেছিল। এটা এমন কোন অপরাধ ছিল না যে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তার গলার উপর হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতে হবে। একজন মানুষ বাঁচার জন্য বারবার আকুতি করে বলছে ....আই কান্ট ব্রীদ, আই কান্ট ব্রীদ...এরপরেও পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শেভনের পাষান হৃদয় নির্বিকার ছিল। সে জর্জের মৃত্যু নিশ্চিত করেই তাকে ছেড়ে দিয়েছে।


প্রখ্যাত লেখক ডা. খোশরোজ সামাদ বলছেন, ,
বর্ণবাদের নতুন দৈত্য : করোনা আমাদের কী শেখালো? তিনি লিখেছেন,

ছবিটি ভাল করে দেখুন। এক পুলিশ অফিসার কালো এক মানুষের গলা ভয়ংকর উন্মত্ততায় পা দিয়ে চেপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করছে।কালো মানুষটি একটু অক্সিজেন নেয়ার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করছে। না, এটি হলিউডের কোন একশান চলচ্চিত্রের দৃশ্য নয়। অতি সম্প্রতি প্রায় তুচ্ছ অপরাধে ফ্লয়েড নামের ৪৫ বছরের কালো মানুষটিকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করবার খন্ড চিত্র।

।আমেরিকাতে অবস্থিত বাংলাদেশীসহ লাখো লাখো করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগী বর্ণ --মান -কুল-মান উপেক্ষা করে করে স্রস্টার কাছে যখন একটু অক্সিজেন খুঁজছে তখন আমেরিকার মত মুক্ত সংস্কৃতির দেশে বুক ভরে অক্সিজেন নেয়ার ঈশ্বর প্রদত্ত অধিকার আরেকবার পায়ে পিষে হত্যা করা হল।

প্রখ্যাত লেখক সাংবাদিক সুব্রত নন্দী লিখেছেন,

জর্জ ফ্লয়েডের অপরাধ এতটূকুই যে সে ২০ ডলারের একটি জাল নোট দিয়ে দোকান থেকে কিছু কিনেছিল। এটা এমন কোন অপরাধ ছিল না যে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তার গলার উপর হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতে হবে। একজন মানুষ বাঁচার জন্য বারবার আকুতি করে বলছে ....আই কান্ট ব্রীদ, আই কান্ট ব্রীদ...এরপরেও পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শেভনের পাষান হৃদয় নির্বিকার ছিল। সে জর্জের মৃত্যু নিশ্চিত করেই তাকে ছেড়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কালোদের প্রতি সেখানকার অনেক পুলিশের একশন যে পরিষ্কার বর্ণবাদী আচড়ন সেটা ইতিপূর্বের বহু পুলিশি এনকাউন্টার থেকেও সহজেই বোঝা যায়। ছোট একটি চাকু হাতে অথবা লাঠি হাতে কোন কালো মানুষ চিৎকার চেঁচামেচি করছে, সেখানে পুলিশ তাকে থামাতে পারে কিন্তু সামান্যতম রিক্স না নিয়ে কুকুর শিয়ালের মতো তাকে গুলি করে মেরে ফেলে। গতবছরে এমন আরো একটি ঘটনায় সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। কিন্তু কালোদের প্রতি পুলিশি বর্বরতার অবসান হয়নি। সুতরাং কালোদের পুন্জিভূত ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে জর্জ
ফ্লয়েডের এই একটি মাত্র আকুতি .....আমি দম নিতে পারছি না ( I can't breath).

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের হাতে এই বিচার বহির্ভূত দন্ড প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে সে দেশেরই আইন প্রণেতারা। সেখানকার পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের অজুহাতে একজন মানসিক রোগীকেও মেরে ফেলতে পারেন নির্দ্বিধায়। এই কাজটি কানাডার পুলিশের মধ্যেও দেখা যায়, তাদের হাতেও সমান ক্ষমতা, সুতরাং এই মুহুর্তে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের ঢালাও অভিযোগ করছেন এবং কানাডাকে গনতন্ত্রের সূতিকাগার বলে আত্মতৃপ্তি বোধ করছেন তাদের বলে রাখি ২০০০ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মাত্র ৮ বছরে শুধু টরন্টোতেই ৫২ জন পুলিশি হত্যার শিকার হন যাদের হত্যার ঘটনা ইচ্ছে করলেই এড়ানো যেতে পারতো । ২০১৩ সালের ২৭ জুলাই টরন্টো ডাউন টাউনে শামী ইয়াতিম [১৮] নামের মানসিক ভারসাম্যহীন একজন সিরিয়ান বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান যুবককে একটি খালি ষ্ট্রিট কারের মধ্যে গুলি করে হত্যা করেন জেমস ফরসিলো নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। শামীর হাতে ছোট্ট একটি চাকু ছিল যা দিয়ে মুরগি জবাই করাও সম্ভব ছিল না। আদালত জেমস ফরসিলোর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনলেও সে ৬ বছর পর নির্দোষ খালাস পেয়ে যান। এমন অনেক ঘটনা আছে যা লিখতে গেলে পাঠক ধৈর্য হারাবেন। আমি নিজেও গত ২০ বছরে ২ বার পুলিশের বর্ণবাদী আচড়নের শিকার হয়েছি। একবার সিএনই তে ডগ শো দেখতে গেলে একজন পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা জাকির আমার স্ত্রীর সিঁথিতে সিদুর দেখে তাকে ভেতরে ঢুকতে দিতে বাঁধা দিচ্ছিলেন , অথচ আমাদের চোখের সামনেই হিজাবিরা ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন!! অভিযোগের পর টরন্টো পুলিশ বিভাগ থেকে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। আমাদের জন্য আলাদাভাবে একটি ডগ শো দেখাবার ব্যবস্থাও তারা করতে চেয়েছিলেন।

জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি পুলিশের বর্ণবাদী আচড়নের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হোক একজন মানবিক মানুষ হিসেবে সেটা আমি সমর্থন করি। এই প্রতিবাদে কালোদের সঙ্গে সামিল হয়েছেন শ্বেতাঙ্গ, হিসপানিক, আরব, ভারতীয় সহ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ। তবে এই আন্দোলনটি ইতিমধ্যেই হাইজ্যাক হয়ে গেছে কিছু দুর্বৃত্ত মানসিকতার মানুষের দ্বারা। তারা প্রতিবাদের নামে অবিরাম ভাংচুর , লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আর এতে সংগত কারনেই প্রেসিডেন্টকে মিলিটারি তলব করতে হয়েছে। এমনিতেই ভয়াবহ করোনা মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্র সবচাইতে খারাপ সময় পাড় করছে, এর মধ্যে সুযোগ সন্ধানীদের এমন সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ খুব অসহায় বোধ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র যাদের আশ্রয় দিয়েছে, অর্থনৈতিক সক্ষমতা দিয়েছে, নাগরিকত্ব দিয়েছে , এহেন লুটতরাজ প্রমান করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শত্রু আসলে এরাই। 'যে পাতে খায় সেই পাতেই হাগে' এমন লোকজনদের নাগরিকত্ব কিন্তু সেখানেই বহাল থাকে, অন্য কোন দেশে নয়।

গোটা যুক্তরাষ্ট্রেই বর্ণবাদ আছে আমি এই সরলীকরণে বিশ্বাস করি না। কিছু শিক্ষিত অশিক্ষিত শ্বেতাঙ্গ এখনো বংশ পরম্পরায় কালো ও ব্রাউন ইন্ডিয়ানদের দেখতে পারে না। পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শেভন এদের একজন। কিন্তু পুলিশ বিভাগের বেশিরভাগ সদস্যই অগাধ ক্ষমতা ধারন করলেও জনগনের বন্ধু হিসেবেই তারা পরিচিত। নিজেদের জীবন বাজি রেখেও এরা নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে অকুতোভয় হয়েই দায়িত্ব পালন করে থাকেন । তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পুলিশ বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশের কোর্সের দরকার যেমন আছে তেমনি সন্দেহ হলেই বুলেট দিয়ে সমাধান এই একশন থেকে পুলিশকে খুব তারাতারি বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখি আফ্রিকান কালোদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ থাকলেও ক্যারাবিয়ান বংশোদ্ভূত কালদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা অনেক বেশি। ভায়লেন্স , শুটিং , রবারি, মাদক ব্যবসা সব কিছুতেই এরা এগিয়ে। জন্মের পর থেকেই অপরাধ সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আবহ এদের শিক্ষিত হতে দেয় না। এজন্য তারা হাই প্রোফাইল চাকুরিতে পিছিয়ে থাকে। এর উপর সবার একটা স্টেরিওটাইপিকাল এটিটিউট থাকে যে কালো মানেই অপরাধ সংশ্লিষ্ট, এটাই তাদের প্রতি একটা প্রি জাজমেন্টাল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেয়। অথচ শিক্ষিত হলে তাদেরকে কেউ যে চাকুরি দিচ্ছেন না এমন ঢালাও ঘটনা আমি কানাডা, আমেরিকার কোথাও দেখিনি। টরন্টো পুলিশ প্রধান নিজেই একজন আফ্রিকান। পুলিশ বিভাগে দুই দেশেই যথেষ্ট কালোরা আছেন। এবছর টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৩ জন কালো ছাত্র মেডিক্যালে পড়তে আসছেন, যা কিনা কানাডার ইতিহাসে এই প্রথম ঘটনা।

পরিশেষে একটি কথা বলি যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শেভনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ও আফ্রিকানদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখানোর ঘটনা এর আগেও ছিল তবু কিভাবে সে চাকরিতে বহাল ছিল সেটাই কথা। আর জর্জ ফ্লয়েড জাল টাকা দিয়ে সেদিন কিছু কেনেন নাই, দোকানদার কালোদের প্রতি তার একপেশে ধারনা থেকে পুলিশ ডেকে বসে। ডেরেক একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং চাকুরিও করতেন এবং সর্বোপরি একজন ভাল মানুষ ছিলেন। আমরা যারা ভারতবর্ষের মানুষ আমরা নিজেরাও কিন্তু প্রচন্ড বর্ণবাদী, কালো মানুষ দেখলে শেতাঙ্গদের চাইতেও বেশি নাক সিঁটকাই আমরাই, এটা একটা গবেষণা রিপোর্টের ফলাফল। আর ধর্মীয় বর্ণবাদ তো আমাদের শিরায় শিরায়। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদের এই ঘটনায় চিৎকার করে গলা ফাটানোর আগে নিজেদের বর্ণবাদী মনটাকে দমন করুন তাহলে দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।

 রাজেশ পাল লিখেছেন,
জজ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড ও রেসিজমের করাল গ্রাস:
……………………………………………………

৯০ এর দশকে বিটিভিতে প্রচারিত অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ছিলো "রুটস", যার বাংলা অর্থ শেকড়। আমেরিকান লেখক এলেক্স হেইলীর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস "রুটস" অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিলো সিরিজটি। বাংলাসহ একাধিক ভাষায় অনুদিত হয় উপন্যাসটি। কালোদের অর্থাৎ আফ্রিকান আমেরিকানদের কিভাবে ক্রীতদাস হিসেবে জাহাজে ভরে আফ্রিকা থেকে বন্দী করে আনা হয়েছিলো আমেরিকায়। কিভাবে বংশানুক্রমে জীবন কেটেছে তাদের , কিভাবে হয়েছিলো তাদের দাসত্ব মোচন সেই ইতিহাসের সুলুকসন্ধান করেছেন লেখক এলেক্স হেইলী। সেই ক্রীতদাসত্বের যুগ পেরিয়ে এই আফ্রিকান আমেরিকানরা হয়েছেন সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে রাস্ট্রপতি পর্যন্ত। আমেরিকার ইতিহাসের অত্যন্ত জনপ্রিয় রাস্ট্রপতি ছিলেন বারাক ওবামা। অর্ধশতাব্দী আগেও যাদের "নিগার" বলে সম্বোধন করা হতো , তারা আজ গর্ব করেই নিজেদের পরিচয় দেন আফ্রিকান আমেরিকান বলে।

আমেরিকানদের নিজস্ব কোন জাতিসত্বা নেই। সেখানকার আদিবাসী রেড ইণ্ডিয়ানদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তি পত্তন করেছিলো মিশ্র জাতিগোষ্ঠীর এই রাস্ট্রটির্। সারা পৃথিবী থেকেই অভিবাসীরা গিয়ে গড়ে তুলেছে আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর ও সম্পদশালী এই রাস্ট্রটি। রেড ইণ্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে চালানো সেই এথনিক ক্লিনজিং এর ইতিহাস বর্ণিত আছে "বেরী মী এট উইণ্ডেড নী" বইটিতে। যার বাংলা অনুবাদ হয়েছে "আমাকে কবর দিও হাটু ভাঙার তীরে".

কিন্তু আজো বর্ণবাদ টিকে আছে দেশটিতে ভয়াবহ মাত্রাতেই। অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা দেশটিতে সাংস্কৃতিক সংঘর্ষ নিয়ে নির্মিত হয়েছিলো অস্কারজয়ী "ক্রাশ" চলচ্চিত্রটি। "হোয়াইট সুপ্রিমেসী" বা শ্বেতাঙ্গদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলেছে সিক্রেট সোসাইটি kkk (ক্লু ক্লক্স ক্ল্যান). উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী এই সংগঠনটি জন্মলগ্ন থেকেই ঘৃণা আর বিদ্বেষ ছড়িয়ে চলেছে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে। একদিকে কৃষ্ণাঙ্গরা হচ্ছেন রাস্ট্রপ্রধান , অন্যদিকে হচ্ছেন তীব্র বর্ণবিদ্বেষের শিকার্। এই চরম বৈপরীত্য নিয়েই আজকের আমেরিকা।

সম্প্রতি একটি ২০ ডলারের জাল নোটকে কেন্দ্র করে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে উত্থাল আমেরিকা। কৃষ্ণাঙ্গ সংগঠন "Nation of Islam" এর নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এর মৃত্যুর পরে এতোটা বর্ণবাদী বিরোধী বিক্ষোভে ফেটে পড়েনি আমেরিকা আর কখনোই। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। তার স্ত্রী পর্যন্ত তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। হাটু গেড়ে বসে নিজেদের অনুতাপ প্রকাশ করেছেন আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশবাহিনী। কিন্তু বিক্ষোভ প্রশমিত হওয়ার বদলে বৃদ্ধিই পাচ্ছে উত্তোরোত্তর্।

এর মাঝে লক্ষণীয় আরেকটি দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে বিক্ষোভের সূযোগে প্রতিবাদের নামে গণহারে বিভিন্ন দোকানপাটে হামলা আর লুটপাট চালাচ্ছেন কিছু আফ্রিকান আমেরিকান প্রকাশ্য দিবালোকেই। ক্যামেরার সামনে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করছেন তারা লুটের মালামাল দেখিয়ে।এদেশের কেউ কেউ এটাকে বলছেন প্রতিবাদের ভাষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক অধ্যাপকও বিশাল একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন একে প্রতিবাদের ভাষা ট্যাগ দিয়ে। উনার স্ট্যাটাসে একটি কমেন্ট করে জানতে চেয়েছিলাম ,

"লুটপাট যদি প্রতিবাদের ভাষা হয় , তাহলে এদেশের সংখ্যালঘু বা আদিবাসীরা নির্যাতনের শিকার হলে যদি এভাবে লুটপাট করেন , তবে সেটাকেও প্রতিবাদের ভাষা বলা হবে কিনা?"

বলাইবাহুল্য , সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।

সহিংসতা সবসময় সহিংসতাই ডেকে আনে। এটাই হলো ইউনিভার্সাল ট্রুথ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনামোতায়েনের ঘোষণা পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। তার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। আমেরিকার পুলিশ বাহিনীর যেমন "ট্রিগার হ্যাপী"বলে বদনাম রয়েছে যখন তখন গুলি চালানোর অভ্যাসের কারণে , ঠিক তেমনি এটাও সত্যি যে শহুরে অপরাধ বা গ্যাং ক্রাইমের হার কালোদের মাঝে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত বেশী। এর পেছনে কাজ করে মূলতঃ অশিক্ষা , বেকারত্ব আর ঘৃণার রাজত্ব। ফলে বেড়েই চলেছে "ক্রাশ অফ দ্য সিভিলাইজেশনস"

আমাদের উপমহাদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা যেভাবে বাসুকির নাগপাশে বন্ধন করে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। ঠিক একইভাবে বর্ণবাদ বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে ইউরোপ আর আমেরিকায়। পার্থক্য শুধু এই উপমহাদেশে বিচারের বাণী নিভৃতে কাদে , আর সেখানে বিচারের দাবীতে উত্থাল হয়ে ওঠে রাজপথ।

পুলিশের ব্রুটালিটি যেভাবে চরম মানবাধিকারের লংঘন , ঠিক একইভাবে লুটপাট , হামলা , ভাঙচুরও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম হুমকি। এর একটিকেও জাস্টিফাই করার কোনো অবকাশই নেই।

জজ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করি। সেই সাথে প্রত্যাশা করি অবসান হবে লুটপাটের অরাজকতার্।

সাদা , কালো , এশিয়ান , আফ্রিকান , জাতি , ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে গড়ে উঠুক একটি সাম্যের পৃথিবী। সেই প্রত্যাশাই করি কায়মনোবাক্যে।

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এর ভাষাতেই বলি ,

I_have_a_dream.

______________________________

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়