Ameen Qudir

Published:
2019-11-14 12:17:02 BdST

গুলতেকিনের শুভ বিবাহকে যেভাবে স্বাগত জানালেন চিকিৎসক,পেশাজীবিরা


 

 

 

ডেস্ক
_______________________

জনপ্রিয় প্রয়াত লেখক চলচ্চিত্রকর হুমায়ুন আহমেদের তালাক প্রথম পত্নী কবি গুলতেকিন খান সম্প্রতি বিয়ে করেছেন একজন কবি ও সচিবকে।
হুমায়ূনকে স্বেচ্ছায় ছেড়ে যান নি কখনও গুলতেকিন। বরং এক নবীনাকে দ্বিতীয় বিয়ের টানাপোড়েনে হুমায়ূন তাকে তালাক দেন। তারপর দীর্ঘ পথ চলা একাকী গুলতেকিনের। প্রায় দেড় যুগ পরে তিনি প্রজাপতি নির্বন্ধে আবার গাটছড়া বাঁধলেন। এ নিয়ে তুমুল আলোচনা গুলতেকিন এবং হুমায়ূনের ভক্তদের মাঝে। কিভাবে দেখছেন তারা ! এ বিষয়ে একজন শীর্ষ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, সাংবাদিক, প্রবাসী ভক্তর মিশ্র প্রতিক্রিয়া এখানে পত্রস্থ হল।

বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ , লেখক, মনের খবর সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব শুভকামনা জানিয়ে লিখেছেন,

স্ট্যাটাস: একটা ভালোলাগা খবর।

গুলতেকিন -এর বিয়ের খবরটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। একটা অতি স্বাভাবিক ও কাঙ্খিত কাজই তিনি করেছেন। উনি কে, পরিচয় কী, কেন এ কাজ করেছেন এসব নিয়ে হয়তো অনেক বড় একটা গল্প লেখা যায়। সেরকম একটা লেখা লেখার অনুভব থাকলেও যোগ্যতা আমার নাই।

পরিশেষ: মৌমাছি নেয় মধু আর মাকড়সা নেয় বিষ। যার মুখের বা ভিতরের গড়ন যেমন তার সেটাই নেয়ার কথা। গুলতেকিন একটি ফুলের জন্ম দিয়েছেন, এখান থেকে যার যা নেবার নিতে পারবেন। আধুনিক-অতি আধুনিক, ক্রিয়াশীল-প্রতিক্রিয়াশীল, যার যা মন চায়।

গুলতেকিন, কামনা করি- বাকিটা জীবন আপনার সুখ ও আনন্দে কাটুক।

 

গুলতেকিন ও নবপরিনয়বদ্ধ কবি আফতাব আহমেদ । ফাইল ছবি

----------------------

সবার মনেই কৌতুহল মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন তার ছেলেমেয়েরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিয়েটা ছিলো সবার সম্মতিক্রমেই। গুলতেকিন তার সন্তানদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন নতুন করে জীবনটা শুরু করার জন্য।

একটি গণমাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিন খানের  ছেলে নুহাশ মায়ের বিয়ে নিয়ে নিজের মতামতও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মা শক্ত হাতে আমাদের বড় করেছেন। কখনো কোনো অভাব বুঝতে দেয়নি। মা সবসময়ই আমাদের কাছে আইডল। মা যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন আমার কোনো দু:খবোধ ছিল না। বরং আমি অনেক খুশি হয়েছি।

আমি মায়ের সঙ্গেই ছিলাম এ ব্যাপারে। তাদের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাচ্ছি। আমি নিজে থেকে মায়ের বিয়ে দিয়েছি। আর এটা লুকানোর কিছু নেই। সামনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও হবে। এটা নারীদের জন্য নতুন একটা দ্বার উম্মোচন হলো বলতে পারেন।’

--------

লেখক হুমায়ুন আহমেদের একান্ত ভক্ত সাংবাদিক লেখক গীতিকার প্রবাসী দর্পণ কবির লেখেন, গুলতেকিনের বিয়েও মানতে পারছি না!

জনপ্রিয় ও নন্দিত কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের (কন্যার বান্ধবী) মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করাটা যেমন মানতে পারিনি, তেমনি গুলতেকিন খানের (56 বছর বয়সে) দ্বিতীয় বিয়েটাও মানতে পারছি না। যুক্তি-তর্কে এ বিয়ের সমর্থক বেশি হতে পারে, গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকার করতে পারেন অনেকে-আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের বিয়ের বিরোধী। ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসের চেয়ে কখনও কখনও সামাজিক দায়বদ্ধতা বড় হয়ে দেখা দেয়। পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্কগুলোর মূল্যটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। প্রথমে ভাবতে হবে-পরিবারের লোকগুলো, আত্মীয়-স্বজনসহ সমাজ কীভাবে দেখছে। জীবনের প্রয়োজনে এমন বিয়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা গভীরভাবে ভেবে দেখলে নিশ্চয় একটা দেয়াল সামনে এসে দাঁড়ায়। এই দেয়ালটা আবেগ নির্ভর হয়ে ভেঙে ফেলা যায় সহজে, কিন্তু একটি অসহিষ্ণু পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে হয়। সমাজ সামনে এসে চোখ রাঙায় না ঠিক, তবে অগ্রহণযোগ্য বিয়ে ‘অবক্ষয়’ বলে বিবেচিত হতে থাকে। যা বিব্রতকর। যারা এমন বিয়েকে ‘অধিকার আছে’ বলে সোচ্চার হচ্ছেন, তাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করছি না। কিন্তু আমার মনে এর পক্ষে সমর্থন পাই না।
হতে পারে একজন মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনের চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-বেদনা, নির্ভরতা, বিশ্বাস-ভালবাসা এবং আরো যত মানবিক-শারীরিক-সামাজিক কারণে বিয়ে করছেন (হুমায়ুন-গুলতেকিন-শাওনের মত)। প্রেম-ঘৃণা-প্রতিশোধও থাকতে পারে এমন ঘটনার নেপথ্যে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-এভাবে আসলেই কি সুখি হওয়া যায়? অন্তত যারা জনপ্রিয় বা প্রতিভাবান তাদের কি এসব করতেই হবে? ত্যাগ বলে কি জীবনে কিছু থাকবে না? ত্যাগের মহত্ব নেই? সাধারণ মানুষ তাঁদের জীবন নিয়ে কৌতুহলী থাকে। যে জীবনে ব্যক্তিত্ত্ব উজ্জ্বল, সেই জীবনের আলোকধারাই তো আমরা দেখতে চাই।
এতোদিন গুলতেকিন খান আমার কাছে (হয়তো সকলের কাছে) ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী হিসোবে মূল্যায়িত ছিলেন। এবার তিনি যা করেছেন, হুমায়ুন আহমেদের মতই কাজটি করেছেন। নিচে নেমে এসেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ত্বের মহিমা এক লহমায় মিইয়ে গেছে।
বলতে হচ্ছে-কয়েক বছর আগে নিউইয়র্কে গুলতেকিন খানের একটি সাক্ষৎকার নিয়েছিলাম। হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর পর এটি ছিল তাঁর প্রথম সাক্ষাতকার। অনেক কষ্টে তাঁকে রাজী করিয়েছেন তাঁর কাজিন জলি এবং তার স্বামী জামাল আবদীন খোকা। খোকা ভাইয়ের বাসায় যখন সাক্ষাতকার নিতে গুলতেকিনের মুখোমুখি বসি, গুলতেকিন খান প্রথমেই আমাকে জানিয়ে দেন-হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে একটি প্রশ্নও করা যাবে না। সেদিন আমি লক্ষ্য করেছিলাম গুলতেকিন খানের মনে হুমায়ুন আহমেদ কী যন্ত্রণার খরস্রোত বইয়ে দিয়েছেন। পাথুরে অভিমান, নাকি প্রবল ঘৃণা ছিল তার মনে? যাই হোক-এক প্রশ্নের জবাবে গুলতেকিন খান অবশ্য হুমায়ুন আহমেদকে কথা বলেছিলেন।
ভব্যিষতে কবিতার বই বের করবেন, নিজের পরিচয়েই চলতে চান-নানা প্রিন্সিপাল (প্রয়াত) ইব্রাহিম খাঁ’র আদর্শে মানুষ হয়েছেন-এসব কথা বলেছিলেন। আমি গুলতেকিন খানকে নিয়ে সাক্ষাতকারটি প্রকাশও করেছিলাম। শ্রদ্ধা ও শুভকামনা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনায় আমার শ্রদ্ধায় যেন বিষন্নতা ছেয়ে গেল। বিয়ের আনন্দ নয়, একতাল বিষন্নতায় ডুবে গেলাম।

 

 

লেখক হুমায়ুন আহমেদের একান্ত ভক্ত সাংস্কৃতিক কর্মী প্রবাসী নাজমীন মর্তুজা লেখেন,“জীবন কাঁটাময় এক যাত্রা
সাহস দিয়ে যাকে করতে হয় জয়...
বানানো রাস্তায় তো সবাই চলতে পারে
রাস্তা বানিয়ে নেয় যে, মানুষ বলে তার পরিচয়”

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী কবি গুলতেকিন খান দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর ভাসছে।
দুই সপ্তাহ আগে অতিরিক্ত সচিব ও কবি আফতাব আহমেদকে বিয়ে করলেও খবরটি সামনে আসে বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দুজনের ছবি পোস্ট দিয়ে অনেকেই বিষয়টি জানান দিচ্ছেন।
১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের তরুণ শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদকে কিশোরী গুলতেকিন প্রেমে পড়ে বিয়ে করেছিলেন। তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০০৩ সালে। তাদের ঘরে এক পুত্রসহ তিন কন্যা সন্তান রয়েছেন। ২০১২ সালে হুমায়ূন আহমেদ তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ইন্তেকাল করেন।
২০০৫ সালে শাওনকে হুমায়ূন বিয়ে করলেও গুলতেকিন আর বিয়ে করেননি।
অপরদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমেদের তার ব্যারিস্টার স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে ১০ বছর আগে। তার একমাত্র সন্তান লন্ডনে লেখাপড়া করছেন।
আমি ব্যর্থ হয়েছি কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমি দুঃখ পেয়েছি সামলে নিয়েছি।
আমি ভুল করেছি শিক্ষা নিয়েছি।
আমি অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লড়াই করে বেঁচে আছি। থাকতে হয়েছে , হাজার কষ্ট বুকে নিয়ে ঘুমোতে হয়েছে , চোখের জল কপলের চাতালে শুকোতে হয়েছে । সন্তানদের অগোছালো প্রশ্নের কাছে বার বার বলতে হয়েছে জেনেও জানি না । দু:খ ভালোবেসেই প্রেমের খেলা খেলতে হয় , আগুনে মন পুড়ে অলংকার বানাতে হয় । সত্যিই তাই !
গুলতেকিনের জীবন বলেছে -
আমি নিখুঁত নই আমিও একজন মানুষ। আমার যা আছে তা নিয়েই আমি খুঁশি।
কথা গুলো গুলতেকিনের হৃদয়ের , জীবন তো ওকে নিয়ে কম ভেল্কিবাজী করেনি !
এই নারীকে দেখলে আমি যেন একটা অদৃশ্য শক্তির আলো দেখতে পাই ।
হাজার ঝড় বাজ মাথার উপরে নিয়েও কি আত্মবিশ্বাসে দাঁড়িয়ে ছিল সময়ের কাছে ।
একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেলে আর একটা দরজা খুলে যায়..। কিন্তু কখনো কখনো আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজাটার দিকে তাকিয়ে এত লম্বা সময় ধরে বিলাপ করি,যে খোলা দরজাটা আমাদের চোখেই পড়ে না ।
গুলতেকিন জীবনের শেষ প্রহরে একটি দরজা খুঁজে পেয়েছে । আমার মনে একটা আনন্দ খেলা করছে , একটা উৎসবের আনন্দ , একটা ভরাট হাটের শত মানুষের কলরব আমি ফিল করছি , যখন শুনলাম গুলতেকিনের জীবনের নতুন আয়োজন ।
একটা সময় অবধি ভদ্রভাবে সবকিছু সহ্য করা যায়,
কিন্তু তার পরে,সবাইকেই বলতে হয়,ব্যাস! আর নয়..!
এনাফ ইজ এনাফ !
আমি মনে মনে কতবার গুলতেকিনকে বলেছি -এমন একদিন নিশ্চই আসবে যেদিন এমন কেউ আপনার জীবনে আসবে যে আপনার অতীত নিয়ে মাথা ঘামাবে না কারণ সে আপনার সাথে বাকি ভবিষ্যতটা মন দিয়ে কাটাতে চাইবে...অপার সুন্দরের পথে নিয়ে যাবে ।
হয়ত কতো কথার খই ফুটবে সোস্যাল মিডিয়ায় ..
থোরাই মন খারাপ ... সব কথা বলাইয়ারা যায় ভাঁড় মে ..
আপনার যাত্রাটা সবাই বুঝতে পারবে না...
কিন্তু তাতে সমস্যাটা কোথায়...
আপনি নিজে নিজের জীবন বাঁচতে এসেছেন
কাউকে কিছু বোঝাতে নয়...।
শুভকামনা প্রিয়মানুষ খুব ভালো থাকবেন
এইটুকু চেয়ে আত্মতৃপ্তিতে বলছি
খুব ভালো থাকুন জীবনের বাকি সময় টুকু যাপন করুন , মনের মাধুরী মিশিয়ে ।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়