Ameen Qudir

Published:
2019-09-30 10:31:11 BdST

দূর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ মাঝপথে থুবড়ে না পড়লে বিশাল এক ঝাঁকুনি খেতে যাচ্ছে দেশ


ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ_____________________________

যতদূর বুঝতে পারছি,
দূর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান যু্দ্ধ যদি ভিন্নপথে বাঁক না নেয় বা যদি মাঝপথেই মুখ থুবড়ে না পড়ে তাহলে বিশাল এক ঝাকুনি খেতে যাচ্ছে এই দেশ!
এই ঝাকুনিতে কমপক্ষে ষাট থেকে সত্তরভাগ দূর্নীতিবাজ ঝরে যাবে!
শুধু ঝরেই যাবে না বরং এই যু্দ্ধ যদি সফল হয় তাহলে তা ভবিষ্যৎ দূর্নীতিবাজদের জন্য একটি ভীতিকর মেসেজ রেখে যাবে, ভবিষ্যতে দূর্নীতি করতে কেউ শুধু একবার নয় বরং হাজারবার ভাববে!

 

এটা প্রমানিত সত্য যে, দূর্নীতির প্রাণশক্তি বা মাইটোকণ্ড্রিয়া হলো রাষ্ট্রক্ষমতা!
একথাও বোধ করি কেউ অস্বীকার করবেন না যে, ক্ষমতাসীনদের আহ্লাদে প্রহ্লাদেই দূর্নীতি পূর্ণতা পায়!যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারাই বা তাদেরকে ব্যাবহার করে সুবিধাবাদীরাই দূর্নীতি করে যায়, দেশের সম্পদ লুটেপুটে খায়!
তাই একটামাত্র পর্দার দাম সাড়ে সাইত্রিশ লাখ টাকা হয় কিংবা একটামাত্র বালিশের দাম ছয় হাজার টাকা হয়!আর এভাবেই ক্ষমতার বলয়ের আশেপাশে যারা থাকে তারা ধনী থেকে আরো ধনী হয় আর যারা ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থাকে তারা দরিদ্র থেকে আরো দরিদ্র হয়!বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বিগত টানা প্রায় এগারো বছর।
এই টানা ক্ষমতার প্রথম দু'এক বছর বাদ দিয়ে(বাদ দিচ্ছি কারন নতুন সরকারের প্রথম দু'এক বছর প্রসাশনসহ সর্বত্রই পূর্ববর্তী সরকারের রেশ থেকে যায়!) শেষের নয়'দশ বছরের দূর্নীতির দায় অন্যকারো ঘাড়ে চাপানোর কোন সুযোগ নেই!টানা এগারো বছরের শেষের নয়দশ বছরে দেশে যে দূর্নীতি হয়েছে তার সাথে ক্ষমতাসীনরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত এটা মানতেই হবে!সরকারের এমপি মন্ত্রী নেতা পাতিনেতা এবং সুযোগসন্ধানী ব্যাবসায়ী কাম রাজনীতিবিদেরাই সরাসরি এই দূর্নীতি করেছে অথবা বিএনপি জামাত বা অন্য কাউকে দূর্নীতি করার সুযোগ দিয়ে নিজেরা বখরা খেয়েছে!এর আগেও এইদেশে ক্ষমতাসীনরাই দূর্নীতি করেছে।
আমরা মি.টেন পার্সেন্ট তারেক রহমানের দূর্নীতির কথা শুনেছি।

 

বিএনপি বা তারেক রহমানের দূর্নীতির সাথে আওয়ামীলীগের দূর্নীতিবাজ নেতাদের পার্থক্য হলো তারেক রহমান বা বিএনপির যারা দূর্নীতি করেছে তারা তাদের দূর্নীতি শুধু নিজেদের নেতাকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে, অন্য কাউকে ভাগ দেয়নি!তারেক রহমান বা বিএনপির নেতারা আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে নিয়ে একসাথে বিষ্ঠা খেয়েছেন এমনটি কখনো শুনিনি!
বলতে পারেন এক্ষেত্রে তারা স্বার্থপরতা দেখিয়েছে! : আর আওয়ামীলীগ এক্ষেত্রে উদারতা দেখিয়েছে! : 
আওয়ামীলীগের দূর্নীতিবাজ নেতারা শুধু নিজেরাই দূর্নীতি করেনি তারা বিএনপি জামাতকেও ভাগ দিয়েছে!
তাই এখন যেসব দূর্নীতিবাজরা ধরা পড়ছে বা যাদের নাম আসছে, দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকেই বিএনপি জামাতের রাজনীতির সাথে একসময় জড়িত ছিলো!আওয়ামীলীগের দূর্নীতিবাজ নেতারা বিএনপি জামাতের এইসব নেতাদেরকে উচ্চহারের বখরার বিনিময়ে শুধু দূর্নীতি করার সুযোগই দেয়নি বরং কোথাও কোথাও তাদেরকে দলে আত্ত্বীকরন করেও নিয়েছে!
দলের ত্যাগী কর্মীদের জন্য বিএনপি জামাতকে আওয়ামীলীগে আত্ত্বীকরনের ব্যাপারটার মতো এমন হতাশার খবর আর কিছুই হতে পারে বলে মনে করিনা!বিএনপির দূর্নীতির সাথে আওয়ামীলীগের দূর্নীতির আরেকটা পার্থক্য হলো বিএনপির দূর্নীতিবাজরা কখনোই নিজ দলীয় প্রধান বা নিজ সরকারপ্রধান দ্বারা কোন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েননি!কিন্তু আওয়ামীলীগের দূর্নীতিবাজদের দূর্ভাগ্য হলো তারা নিজ দলীয় প্রধান বা নিজ সরকারপ্রধান দ্বারা বারবার প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন!
শেখ হাসিনা তাদেরকে একেবারে ছাই দিয়ে ধরেছেন!আওয়ামীলীগের জন্য অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়।
এর আগেও বঙ্গবন্ধু তার নিজ দলসহ সারাদেশের প্রতিটা সেক্টরে দূর্নীতি দমনের জন্যই মূলত বাকশাল গঠনের মাধ্যমে সবেমাত্র যু্দ্ধটা শুরু করেছিলেন!
কিন্তু নিজদল ও দলের বাইরের স্বার্থান্বেষী চক্রের প্রবল প্রচণ্ড ষড়যন্ত্রের কারনে তিনি সফল হতে পারেননি!
নিজের জীবন দিয়ে তিনি তাঁর পাহাড়সম সততার মাসুল দিয়ে গেছেন!! :শেখ হাসিনাও ঠিক একই যুদ্ধ শুরু করেছেন!
এই যুদ্ধে দলের বাইরের দূর্নীতিবাজ ক্রিমখোড় তস্করেরা যেমন শেখ হাসিনার বিনাশ চায়বে তেমনি দলের ভিতরের দূর্নীতিবাজরাও তার বিরুদ্ধে একাট্টা হবে!
এটাই স্বাভাবিক!আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে!
দলের ভিতরের ও বাইরের এইসব স্বার্থান্বেষীরা যেন আরেকটা পঁচাত্তর ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, অতন্দ্র প্রহরায় থাকতে হবে!আমরা খেয়াল করছি আওয়ামীলীগের এইসব দূর্নীতিবাজ নেতাদের কিছু তল্পীবাহক তেলতেলে 'সহমত ভাই' আছে যারা শেখ হাসিনার চেয়েও তাদের 'ভাই'(নেতা)দেরকে বড় মনে করে!
তাদের আনুগত্য শেখ হাসিনার কাছে নয় বরং তাদের আনুগত্য তাদের 'ভাই'দের কাছে!দূর্নীতিবিরোধী শেখ হাসিনার এই যুদ্ধে তারা তাদের এইসব দূর্নীতিবাজ 'ভাই'দের পক্ষাবলম্বন করছে, স্যোসাল মিডিয়ায় ইনিয়েবিনিয়ে তাদের 'ভাই'দেরকে নির্দোষ নিষ্কলুষ ও ফুলের মতো পবিত্র প্রমাণ করতে চায়ছে!
এই কাজের মাধ্যমে এইসব তেলতেলেরা প্রকারন্তরে দূর্নীতিবিরোধী শেখ হাসিনার এই যুদ্ধে শেখ হাসিনার বিপক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে!এদেরকে চিনে নিন!
এরাই পঁচাত্তরের মোশতাক!
এরাই ইতিহাসের মীরজাফর!
এদেরকে প্রতিহত করুন, এখনই প্রতিহত করুন।

______________________________________

 

ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ।
সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ,স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক পরিষদ, বিএসএমএমইউ।
Doctor ,t Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University
Former Secretary General বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ,দিনাজপুর।
Studied MBBS. at Dinajpur Medical College, Dinajpur

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়