Ameen Qudir

Published:
2019-09-12 09:54:46 BdST

ডা. আকাশের আত্মহত্যা: স্ত্রী মিতু, মিতুর মা, বাবা, বোন ও বন্ধুর বিরুদ্ধে চার্জশিট


 

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা/ ডেস্ক
_________________________

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের (৩২) আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে স্ত্রী ও তার পরিবারের   সদস্যসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার মা শামীম শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং মিতুর কথিত বন্ধু ডা. মাহবুল । অভিযুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে মিতু সাত মাস কারাভোগ করার পর গত ৪ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের জানান।

১১ সেপ্টেম্বর বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের বিষয়টি
বিস্তারিত মিডিয়াকে জানিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেয় পুলিশ।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান মিডিয়াকে বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বিকেলে অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন শাখায় জমা পড়েছে। মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ছিল। ১১ সেপ্টম্বর আমরা সেটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়েছি। সেখানে অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানির সময় নির্ধারিত হবে।
গত ৩১শে জানুয়ারি সকালে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসায় মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন। তার আগে স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তানজিলা মিতু। ওই দিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তানজিলা মিতুকে আটক করে। এই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন তানজিলা মিতু। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

এর আগে গত ৩১শে জানুয়ারি সকালে স্ত্রীর উপর অভিমান করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ (৩২)। তার আগে স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান মিতু।
আত্মহত্যার পূর্বে আকাশ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। প্রচণ্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই। আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত।…আমিতো বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে, কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবে না। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১ বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল। মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারিতে ২০১৯ এ আমার ইউএসএ যাওয়ার কথা।…আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট কর না মিথ্যা বল না।’

‘আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশে তো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল না লাগলে সুন্দরভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট কর না মিথ্যা বল না। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবে না এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যাখ্যা করলাম।…ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম না। মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলে না।…’

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়