Ameen Qudir

Published:
2019-09-10 08:27:38 BdST

সরকারি হাসপাতালে বাবুর্চিকন্যার বিয়ের নাচগান অনুষ্ঠান: বিষাক্ত কটুক্তির মুখে 'নন্দ ঘোষ' ডাক্তাররা


 

ডেস্ক
______________________

 

যেখানে রোগ শোক জরা মৃত্যুর মিছিল; যেখানে মানুষের বাঁচার আশ্বাস; সেখানেই বিবাহের গান!
মৌজ মাস্তি। হায়রে ক্ষমতা! এ হচ্ছে এক বিক্ষুব্ধর বক্তব্য। সম্প্রতি টঙ্গি সরকারি হাসপাতালে বাবুর্চিকন্যার বিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন হলে সারাদেশে আবারও তিক্ত বিষাক্ত কটুক্তির মুখে ডাক্তাররা। এই ঘটনার সাথে ডাক্তারদের কোন সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও সকল দোষ এখন নন্দ ঘোষ ডাক্তারদের। অনেকেই বলছেন, হাসপাতালকে কমিউনিটি সেন্টার বানাচ্ছেন ডাক্তাররা।
চিকিৎসক সমাজ বলছেন, পুরোটাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অপরিনামদর্শী কাজের কুফল। আর কর্মচারিদের বাড়াবাড়ির ফল। যার দুর্ণাম ভোগ করতে হচ্ছে ডাক্তারদের।

 

এ বিষয়ে ঢাকার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় লেখা হয়:
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে বিয়ের আয়োজন!

শুক্রবার দুপুরে বৌভাত। তাই বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে উচ্চশব্দে বাংলা-হিন্দি গান বাজছে। মাঝে মধ্যে নাচও হচ্ছে। আর পাশের রুমেই শুয়ে আছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা।

 

এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে (বর্তমানে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল)-এর তৃতীয় তলায়।

 

হাসপাতালের বাবুর্চি আলী আজগরের মেয়ে সুমি আক্তারের বিয়ের আয়োজন হয়েছে ওই সরকারি হাসপাতালের ভেতরে।
এলাকাবাসী ও হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালের বাবুর্চি আলী আজগর হাসপাতালের ভেতরেই বসবাস করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখে গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে। নিচতলায় শুক্রবার দুপুরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছে।

 

তৃতীয় তলায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের পাশের একটি কক্ষে আয়োজন করা হয়েছে গায়ে হলুদ। সেখানে বাংলা-হিন্দি গান বাজানো হচ্ছে। গানের তালে তালে ছেলেমেয়েরা নাচও করছে।

 

হাসপাতালের পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় রোগীদের বেড। আর নিচতলায় একটি কক্ষে রাখা হয়েছে রান্নার দ্রব্যাদি। হাসপাতালে বিয়ের আয়োজন করায় রোগীরা যেমন বিরক্ত হচ্ছেন তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ডেঙ্গু ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন সালমা আক্তার বলেন, এটি হাসপাতাল নাকি কমিউনিটি সেন্টার। একটি সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বিয়ের আয়োজন করে গান বাজনা হচ্ছে। আর রোগীরা পাশের ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী বলেন, বিকাল থেকে হাসপাতালে গান বাজানো হচ্ছে। এখন হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়