Ameen Qudir

Published:
2019-09-02 12:18:13 BdST

নারী ও শাড়ি নিয়ে সায়ীদ স্যারের লেখা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছেই


 

ডেস্ক
_________________________

ঢাকার একটি বহুল প্রচারের দৈনিকে নারীর পরিধেয় শাড়ি নিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিবন্ধ লেখার পর বিতর্ক যেন থামছেই না। এ পর্যায়ে মনোবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কৃষ্ণ রায় এবং সাংবাদিক , লেখক , নাট্যকর সুব্রত নন্দীর লেখা প্রকাশ হল। সাংবাদিক , লেখক , নাট্যকর সুব্রত নন্দী লিখেছেন,
বাঙালি নারী শাড়িতেই শৈল্পিক । আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যার মনে হয় এটা বুঝাতে গিয়ে বাঙালি নারী শাড়িতেই সেক্সি এটা অবচেতন মনে লিখে ফেলেছেন। প্রথম আলোতে প্রকাশিত ওনার লেখাটি বার কয়েক পড়বার পর মনে হল শাড়ির চাইতে সেখানে নারীদেহের ভাঁজ খুব সস্তা শব্দ উঁচু নীচু, পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি, পাঁচ ইঞ্চি দেহ বল্লরি ইত্যাদিতে সয়লাব হয়ে গিয়ে রসময় গুপ্তের উপাখ্যান হয়ে গেছে। আমি এতে স্যারের তেমন গুরুতর দোষ খুঁজে পাইনি। কারন আবহমান বাঙালি নারীর চিরায়ত পোষাক শাড়ি এখন জিন্স, হিজাব,সালোয়ার কামিজের দাপটে বিলুপ্ত প্রায় ( যদিও হিজাবকে তিনি অনুল্লেখ করে গেছেন ) আর শাড়িকে বিলুপ্তির পথ থেকে উদ্ধার করার একটি চিন্তা থেকেই তিনি তাঁর লেখাটিকে গ্লামারাস করার ইচ্ছাতেই একটু যৌন উদ্দীপক কথামালা দিয়ে সাজিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের পাঠকরা ইউ টিউবে গিয়ে শাড়ির বিজ্ঞাপনের আড়ালে নারী দেহের উঁচু নিচু অংশ গুলো দেখে থাকে, স্যার এই বাস্তবতা টুকু অস্বীকার না করে তার লেখায় সন্নিবেশিত করেছেন। স্যার আধুনিক মানুষ, যুগের চাহিদা বোঝেন । কথা বার্তায় তাঁর আধুনিকতার ছোঁয়া যেমন আছে সেটা লেখায় থাকবে না সে কি করে হয়! তবে লেখাটি তিনি তাঁর শিল্প বোধে রুচিশীল করতে পারতেন যেটা যে কোন কারণেই হোক সম্ভব হয়ে ওঠে নাই। এতে করে তাঁর ভক্তকুলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে । বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে শত সহস্র আলোকিত মানুষ তৈরি করা আলোর পথের দিশারি আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যার হয়ে গেছেন চটি গল্প লেখক একজন রসময় গুপ্ত !! হতেই পারেন , বাংলাদেশে এখন সর্বত্রই পরিবর্তনের ছোঁয়া । মুক্ত মনের কোটি কোটি মানুষ হয়ে গেছেন এক একজন কাঠ মোল্লা, ফকির হয়েছে কোটিপতি, মুর্খ হয়েছে ভন্ড জ্ঞানী, তো একজন শিক্ষক হতেই পারেন চটি লেখক , তাকেও তো এই গড্ডালিকা প্রবাহের দেশে টিকে থাকতে হবে কি বলেন !!
কষ্ট হয় বাঙালি সংস্কৃতির বারোটা বাজাতে একদল হুজুর বলছেন শাড়ি হল অশ্লীলতার পোষাক, হিন্দুস্তানি পোষাক তখন আমারও শাড়ির আঁচলের জড়োয়ার নান্দনিকতাকে ভুলে গিয়ে প্রচার করছি শাড়িতে নারী কত যৌন আবেদনময়ী; পাহাড়ের খাঁজের মত নারীর বক্ষ নিতম্বের উঁচু নীচু শাড়িতে কত প্রকটভাবে প্রতিভাত ।!!

মনোবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কৃষ্ণ রায় লিখেছেন,শাড়ি ও নারী নিয়ে।

যদিও শাড়ি পরা অনেক কঠিন শৈল্পিক কাজ তবুও শাড়িই সম্ভবত নারীর সবচাইতে চমৎকার, দৃষ্টিনন্দন, ফ্যাশানেবল, অভিজাত, আরামদায়ক, শিল্পিত, মার্জিত পোশাক। বাঙালি পুরুষের চোখে শাড়ি পরিহিতা নারীর চাইতে আর অন্য যেকোন পোশাকে নারীকে ততটা কাঙ্ক্ষিত, মোহময়ী লাগবে কিনা সন্দেহ। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার নারীর শারীরিক গঠনের সাথে(ঢেউ খেলানো) পোশাক শাড়ির যে চমৎকারিত্ব এবং পোশাকের আবরনে নারীর শারীরিক রহস্যময়তার যোগসূত্র দেখিয়েছেন তা সম্ভবত অধিকাংশ বাঙালি পুরুষেরই অবচেতনে পরম কাঙ্ক্ষিত নারীর পোশাকি ছবি। এমনকি একান্ত মুহূর্তে পুরুষ নারীকে কিভাবে আবিষ্কার করবে(খুলবে) তাতেও শাড়ির যে রহস্যময়তা এবং কল্পিত উত্তেজনার যোগ আছে, পুরুষের তা অন্যকোন পোশাকে আসবে কিনা জানা নেই। শাড়ি এবং তার আঁচল শিল্পীর রঙের খেলার এক অবারিত ক্যানভাস। এখানে রাঙানো সম্ভব কল্পনার সব রঙ। উৎসবে আনন্দে তাই রঙিন, হলুদ কিংবা বাসন্তী শাড়িতে নারী সেজে উঠলে তবেই প্রকৃতি যেন হেসে উঠে; শাড়ি, নারী এবং প্রকৃতি যেন সমার্থক হয়ে উঠে। ভেজা শাড়িতে নারী পুরুষের চোখে হয়ে উঠতে পারে কল্পিত সিনেমার নায়িকা কিংবা স্বর্গের কোন অপ্সরী। গ্রামের ছোট্ট লাজুক ছেলে-মেয়েরা মায়ের আঁচলে মুখ লুকাতে পারে, খাওয়ার পর গামছা নাইতো মায়ের আঁচলে মুখ মুছতে পারে, গ্রামের মায়েরা-মেয়েরা আঁচলে শাক তুলতে পারে, ছোট্ট বাচ্চাকে শাড়ির আঁচলে পিঠে বেধেই মায়েরা কাজ করতে পারে, নিজের সম্ভ্রম রেখেই শাড়ির আঁচলে ঢেকে বাচ্চাকে দুধ পান করাতে পারে। বাঙালি পুরুষের চোখে তাই নারী এবং শাড়ি যেন সমার্থক। পোশাক শাড়ির বৈচিত্র্য, আভিজাত্য এবং এর ফ্যাশানেবল বৈশিষ্ট্যের কাছে পুরুষের যেকোন পোশাক সম্ভবত নিতান্তই সাদামাটা, একঘেয়ে, বৈচিত্র্যহীন।

সময়ের সাথে মানুষের রুচি, সংস্কৃতির পরিবর্তন খুব স্বাভাবিক বিষয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতি(যেমন কর্মব্যস্ততা, আকাশ সংস্কৃতি) পরিবর্তিত পোশাক নির্বাচনে উৎসাহিত করতে পারে। তবে উপমহাদেশের একান্ত নিজস্ব খ্রিষ্টপূর্বাব্দ আবিষ্কৃত এই পোশাক হতে পারে আমাদের অত্যন্ত গর্বের ঐতিহ্য; যাতে সহজেই সলজ্জ কোন বাঙালি নারী আঁচলে মুখ লুকাবে, যাতে নারী পরম যত্নে রোদেপুড়ে ক্ষেতে কাজ করা স্বামীটিকে শাড়ির আচলে ঘাম মুছে দেবে, আঁচল টেনে প্রেমিকের সাথে লুকোচুরি খেলবে দুষ্টুমতি কোন মেয়ে- গেয়ে উঠবে 'এলোমেলা বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল', কোন উৎসবে আনন্দে কিংবা প্রাত্যহিক দিনযাপনে বাঙালি মধ্যবিত্ত নারী শাড়িতে রঙিন হবে, শাড়ির আঁচল হয়ে উঠবে শিল্পীর কল্পনার রঙের ক্যানভাস, আর শাড়ি পরিহিতা নারীর রহস্যময় শারীরিক ভাজে পুরুষের মন বুনবে কল্পনার যত কামনাবাসনার জাল। হয়তো প্রেমিক মন গেয়ে উঠবে 'তোমার ভাঁজ খোলো, আনন্দ দেখাও; করি প্রেমের তর্জমা'।

(উল্লেখ্য, এ লেখা শাড়ির প্রতি পছন্দ দেখাতে গিয়ে অন্যকোন পোশাককে ছোট করে নয়)।

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়