Ameen Qudir

Published:
2019-05-28 08:51:23 BdST

রোজানামচা: নোয়াখালীতে শিয়ালের মাংস! ঢাকায় গরুর মাংসে বিষাক্ত কেমিকেল রঙ


 


ডেস্ক
_____________________

পবিত্র মাহে রমজানে এসব কি হচ্ছে। মানুষের মূল্য বোধ আজ কোথায়। ধর্মীয় পাপপূণ্য বোধও সততায় উদ্বুদ্ধ করছে না ব্যবসায়ীদের। বিবেকের এ কি অধ:পতন। নোয়াখালীতে শিয়ালের মাংস বিক্রি করছিল ব্যবসায়ী। ঢাকায় গরুর মাংসে বিষাক্ত কেমিকেল রঙ দিয়ে বিক্রি করছিল ক্রেতা আকর্ষণের জন্য। ক্রেতা আকর্ষণ নাকি ক্রেতাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া! দুটি অবিশ্বাস্য ঘটনায় আদালত শাস্তি দিয়েছে অসাধুকে।

মাংস বিক্রেতারা ফ্রিজে রাখা বাসি ও শুকিয়ে যাওয়া মাংসে বিষাক্ত রঙ মিশিয়ে তা বিক্রি করছেন। বোতলে রাখা রক্তবর্ণের এসব রাসায়নিক রঙ ক্ষণে ক্ষণে মাংসে লেপ্টে দিয়ে তা সতেজ ও তাজা বলে বোকা বানাচ্ছেন ক্রেতাদের। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে অভিযান চালাতে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখতে পেয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় অসাধু তিন মাংস বিক্রেতাকে আটকের পাশাপাশি রঙ মেশানো ৬ মণ মাংসও জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, অভিযানের সময়ে কাঁচাবাজারের মাংসের দোকানগুলোতে দাম যাচাই করা হচ্ছিল। ওই সময়ে ফ্রিজে মজুদ করা মাংসও পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে মজুদ রাখায় এসব মাংস ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। কিন্তু ফ্রিজেই পানির জারের ভেতর পাওয়া যায় রাসায়নিক রঙ। প্রথম দিকে দেখে মনে হচ্ছিল রক্ত। কিন্তু রক্ত তো জমাট বাধার কথা। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদে মেলে এগুলো বিষাক্ত রঙ। যা ক্ষণে ক্ষণে মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে তা টাটকা ও তাজা রাখতে ব্যবহার করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, শুরুতে মাংস ব্যবসায়ীদের এমন প্রতারণা ক্রেতারা বুঝতেই পারবেন না। কিন্তু রঙ মেশানো বাসি মাংস কিনে প্রতারিত হচ্ছিলেন সবাই। এজন্য তিনটি দোকানের তিনজনকে আটক ও রঙ মেশানো ৬ মণ মাংস জব্দ করা হয়।

অভিযানে থাকা র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, শুধু মাংসে রঙই নয়, নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের এসব দোকানগুলোতে মহিষের মাংস ছোট ছোট টুকরা করে তা দেশী গরুর মাংস হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট এজন্য তিনটি দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মাংস ব্যবসায়ীদের এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে বিভিন্ন মার্কেটেই অভিযান চালানো হবে।

নোয়াখালীতে শিয়ালের মাংস!
সংবাদদাতা জানান,
নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সামনে খাঁচার মধ্যে একটি শিয়াল শাবক আটকে রেখে পাতিল ভর্তি শিয়ালের মাংস বিক্রি করছিলেন তিনি।


নোয়াখালী মাইজদী শহরে শিয়ালের মাংস বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

রোববার রাতে শহরের নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান খানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আব্দুল মতিন (৪২) হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পাছারগাঁও গ্রামের মনোহর উদ্দিনের ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামান খান জানান, রোববার রাতে আব্দুল মতিন নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সামনে খাঁচার মধ্যে একটি শিয়াল শাবক আটকে রেখে পাতিল ভর্তি শিয়ালের মাংস বিক্রি করছিলেন। এ সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তিনি আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেন। এ সময় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের ৩৪ এর ‘খ’ ধারায় তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আব্দুল মতিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রোকনুজ্জামান আরও জানান, উদ্ধার করা শিয়াল শাবকটি বন বিভাগের মাধ্যমে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়