Ameen Qudir

Published:
2019-05-02 18:21:35 BdST

চিকিৎসককে গালি দিয়ে কিছু মানুষ মজা পান ,আবার  অসুস্থ হয়ে তার কাছে হাজির হন


 

ডা: এ কে এম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাসুম


____________________________


চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে কিছু বলতে ও লিখতে হলে সর্বপ্রথম এই পেশার লোকদের মেধা , পড়াশুনা , পরিশ্রম , ত্যাগ এবং হাসপাতালের তাদের ডিউটি ও ডিউটি রোষ্টার সম্পর্কে জানতে হবে । কোন বড় রাজনীতিবিদ কোন দিন এ পেশার লোকদের অসম্মান করেন নি । অনেক বড় বড় রাজনীতি বিদ , সাংবাদিক , বুদ্ধিজীবি, সরকারী বড় অফিসারের ছেলে মেয়েরা আজ দেশ ও বিদেশে চিকিৎসক হিসেবে সুনাম অর্জন করে সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছেন । যে কোন অভিভাবক এর স্বপ্ন তার ছেলে মেয়ে যেন ডাক্তার হয় । সেবা, সৎ ও সন্মানের পেশা চিকিৎসা ।কিন্তু এ ঘুনে ধরা সমাজে আমরা চিকিৎসকেরাও কিছু অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত ।
এ সুযোগে স্বার্থান্বেষী মহল এই পেশাতেও ধ্বংসের কাজে লিপ্ত ।
চিকিৎসকেরা পেশাগত কাজে সবচেয়ে বেশী সময় ব্যয় করেন । ২৪ ঘন্টা ৩৬৫দিন একমাত্র এই পেশার লোকেরা জনগনের সেবা দিয়ে থাকেন । ঈদ , পুজা , বড় দিন , রোজা , তারাবি , সেহরী কোন সময়ের জন্য চিকিৎসকের কাজ বন্ধ থাকেনা । ৮-২.৩০ টা অফিস করে , বিকেলে চেম্বার করে রাতে হাসপাতালে রাউন্ডে যান এদেশের চিকিৎসকেরা ।অন্য কোন পেশার লোকে ১০-৫ টা অফিস করার পর পাওয়া যায় ।চিকিৎসা পেশার লোকেরা সবচেয়ে বেশী ট্যাক্স দিয়ে থাকেন ।তাদের সৎ পথে রোজগার visible .কিন্তু যারা invisible income করে তাদের ছেলে মেয়েকে বিদেশে পড়ান বা বিদেশে বাড়ি করে বিলাশ বহুল জীবন যাপন করেন তাদের নিয়ে কেন কেউ কথা বলে না ।বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ বেতন ভুগী কর্মকর্তার ছেলে মেয়েকে বিদেশ কেন দেশের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো সম্ভব নয় ।
কেউ কি কোন দিন জিজ্ঞেস করেছেন আপনার মাসিক বেতন কত ? কিভাবে আপনার সন্তান বিদেশে পড়েন ।আপনার নামে বেনামে ফ্ল্যাট , বাড়ী গাড়ী কি ভাবে কিনলেন ।
মেধাবীরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়তে আসেন । অথচ তাদের নিয়ন্রন করেন কম মেধা সম্পন্ন লোকেরা ।
চিকিৎসক কে গালি দিয়ে কিছু মানুষ মজা পান আবার গভীর রাতে নিজে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে হাজির হন ।
একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হল “ চিকিৎসক কর্তৃক রোগীনি কে ধর্ষন “ কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেল ধর্ষন কারী কোন চিকিৎসকই নন , তিনি একজন ঔষধ বিক্রেতা । সংবাদ দাতা ও প্রকাশক হয়তো এতে খুব মজা পেয়েছেন ।
মাশরাফি তাঁর চিকিৎসার জন্য কার কাছে যান বা কোথায় যান আমরা জানি ।
১/১১ সময় এদেশের চিকিৎসক সমাজ যদি রাজনীতিবিদদের পাশে না দাঁড়াতো তা হলে অনেক নেতাকে জেলে মরতে হতো ।আমি নিজে তখন বি এস এম এম ইউর কার্ডিওলজী বিভাগে অধ্যয়ন রত অবস্থায় দল মত নির্বিশেষে সকল জাতীয় নেতাকে সহযোগিতা করেছি । কার্ডিওলজী বিভাগের সকল চিকিৎসকের সহযোগিতায় জাতীয় নেতারা মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে সার্টিফিকেট নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন ।
দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা পেশা আজ হুমকির মুখে । অনেকেই পেশা ছেডে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন । পররাষ্ট্র , প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারে চিকিৎসকেরা চলে যাচ্ছেন ।
এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই বিবেকবান মেধাবীরা দেশ ছেড়ে চলে যাবেন ।
জেলা উপজেলায় কর্মরত চিকিৎসকদের খোঁজ নেন রাজনীতি বিদ , এমপি , মেয়র , উপজেলা চেয়াম্যান । কিন্তু তারা কি কোন দিন অন্য পেশার কে উপস্থিত ,কে অনুপস্থিত তার খবর রেখেছেন । আমার জানা মত অনেক এমপি মন্ত্রী থানার ওসির এপয়ন্টমেন্টও পান না ।
মাশরাফি কি তার থানার ওসির সাথে এমন ভাষায় কথা বলতে পারবেন ? না পারবেননা ।

কথায় কথায় বলে চিকিৎসকের জনগনের ট্যাক্সের টাকায় পড়া শুনা করেছেন কিন্তু আপনারা কার টাকায় পড়াশুনা করেছেন ?
চিকিৎসকের সেবক ,আপনারা কি ?
রাষ্ট্রের বেতন ভুক্ত সবাই জনগনের সেবক ।
কেউ কারো প্রভু নয় ।
অনেক কিছু লেখা যায় ,বা বলা যায় ।
রাষ্ট্রের মেরামত জরুরী ।
সবক্ষেত্রে সচ্চতা ও জবাব দিহিতা ও সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকার ফলে যে যার মত সুযোগ নিচ্ছে ।
পাদটীকা :
আজ বি এম এ তে ডা: মাজেদ - ডা: জালাল - ডা: গাজী সাহেবেরা নেই । জালাল ভাই থাকলে ও তিনি ও আজ শৃংখলিত ।তাই তো চিকিৎসকের আজ গরীবের সুন্দরী বউ ।
সাধু সাবধান ! সুদান বিপ্লবের নায়ক কিন্তু চিকিৎসকেরা।
____________________________

ডা: এ কে এম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাসুম
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়