Ameen Qudir

Published:
2018-07-30 12:44:47 BdST

সাবধান! ৩৯তম বিসিএস নিয়ে নবাব ও গোলামের পুত্ররা প্রতারণায় সক্রিয় হচ্ছে


 


ডা.কামরুল হাসান রাহাত
___________________________________

সামনে ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষা, নবাব ও গোলামের পুত্ররা নাকি আবার সক্রিয় হচ্ছে, তাই এই পরিবেশন ।

প্রশ্ন ফাঁসের গল্প:

রাত দুটা থেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা* ও গোলাম আজমকে* খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ করে ছেলে দুটো নিরুদ্দেশ হয়ে গেলো। আমরা হোস্টেলের গণরুমের ছেলেরাতো মহা চিন্তায় পরে গেলাম। ব্যাপারটা কি, এই রাতদুপুরে ছেলে দুটো গেলো কোথায়। তারপরের দুইদিনও তাদের কোন খবর নাই। ফোন ও বন্ধ। অবশেষে তৃতীয় দিন দুই জন বীর বেশে হোস্টেলে প্রবেশ করলো।

চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে দুই জনের উপর খুব ধকল গেছে। না ঘুমানোর কারনে চোখ লাল, চুল উষ্কো খুষ্কো, গালে দুই দিনের না কামানো খোঁচা খোঁচা দাড়ি। কিন্তু চেহারায় আকর্ণ বিস্তৃত হাসি। ছেলে পেলে তো ছেঁকে ধরলো “মামা কাহিনী কি? কই ছিলি দুই দিন?” কিন্তু নবাব ও গোলাম শুধুই হাসে কিছুই বলে না।

অত:পর ধীরে ধীরে রহস্যের জট খুলতে লাগলো। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও গোলাম আজম এই দুই দিন দেশের সেবা করেছে। ওনারা আউট হওয়া মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করেছে।

তারপরের কাহিনী একটু চমকপ্রদ। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গোলাম ও নবাব একটু বিপদে পড়ে গেলো। এতো টাকা দিয়ে কি করবে বেচারারা ভেবে পেলো না। একবার বাইক কিনে তো আরেকবার ল্যাপটপ কিনে .. কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন কিছুই কেনার জন্য মনস্থির করতে পারলো না। অবশেষে গোলাম ও নবাবের মধ্যে দায়িত্ববোধ জেগে উঠলো। গোলাম তার দেশ সেবার টাকায় তার ভগ্নির উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলো। আর নবাব আর যাবতীয় অর্থ তার পিতৃদেবের হাতে তুলে দিলো। এই না হলে যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান।

*ছদ্মনাম

বি:দ্র:

১. ২০০৬-২০০৭ সেশনে সারাদেশে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আউট হয়। এটা সেই সময়ের একটি ঘটনা। ঘটনাস্থল ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রাবাস। যদিও এনিয়ে তৎকালিন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং কমিটি ঘোষণা করে কোন প্রশ্ন আউট হয়নি।

২. এই ঘটনার সকল চরিত্র বাস্তব শুধু নামগুলো কাল্পনিক। তাই কারও জীবনের কোন ঘটনার সাথে উপরের ঘটনা মিলে গেলে সে ক্ষেত্রে সে ব্যক্তি নিজেই দায়ী থাকবেন।
______________________________

ডা.কামরুল হাসান রাহাত। ডেন্টাল সার্জন । সুলেখক।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়