Ameen Qudir

Published:
2018-07-24 12:27:04 BdST

হাঁটলে হাড় ক্ষয়, চুমুতে ৬ ক্যালরি ক্ষয় : ভাইরাল চুমু নিয়ে এক চিকিৎসকের রসরচনা



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই চুমুর ছবিটি এখন ভাইরাল । চলছে নানামুখী আলোচনা। ছবির সম্পর্কে জানা যায়,এটি আলোচিত্রী জীবন আহমেদের তোলা। বর্ষার দিনের ছবি প্রেমিক মনে তুলেছে আবেগের ঝড়। সমালোচক মনে তুলেছে তিক্তার ঢেউ। অবশ্য অন্য কিছু অসমর্থিত ভার্সনে জানা যায়,এটি কোন নাটক বা শর্ট ছবির শ্যুটিংএর চিত্র। ছবির আলোকচিত্রী অবশ্য তার সাক্ষাতকারে তেমন কোন তথ্য জানান নি।
এ নিয়ে আমরা ডাক্তার প্রতিদিনের তরফে একজন চিকিৎসক লেখকের অনন্য রসচনা প্রকাশ করলাম। আর পাঠকের অধিকতর পাঠ তৃষ্ণা মেটাতে শেষে চ্যানেল আই আই অনলাইনের সৌজন্যে ছবি সম্পর্কে তাদের একটি প্রামান্য লেখাও প্রকাশ করলাম।


ডা. মোঃ বেলায়েত হোসেন
______________________________

চুমু খাওয়া ভালো,কোথায় যেন পড়েছিলাম একবার দুই মিনিট চুমু খেলে অন্তত ৬ ক্যালরি খরচ হয়,সেখানে প্রতি মিনিট দ্রুত হেটে পোড়ে সেই ৬ ক্যালরি।

ওই ভাইটি আপুকে নিয়ে দুই মিনিটে ৬ ক্যালরি হিসাব করে চুমু খেয়ে দুইজনের ৬+৬=১২ ক্যালরি খরচ করতে চেয়েছিলেন,তাতে আপনার আমার সমস্যা কি?
আপনারা কি দেখেন নাই,বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিলো?এই বৃষ্টিতে হাটা সম্ভব?এই স্বাস্থ্য সচেতন ভাইয়া আপুটিকে আপনারা কোথায় উৎসাহ দেবেন,তা না করে পিছনে লেগে গেলেন।

শুধু কি তাই?হাটলে হাড় ক্ষয় হয়,সাথে আছে রাস্তায় দুর্ঘটনার ভয়।হাটলে শরীর থেকে বিচ্ছিরি ঘাম হয়,আর কি দুর্গন্ধ রে বাবা।তার চেয়ে তো এইটাই ভালো,না ঘাম বের হবে,না দুর্গন্ধ।অন্য কিছু বের হলেও হতে পারে,থাক,সেই আলাপে না যাই।

আর এমনও তো হতে পারে,ভাইয়াটি আপুটিকে নিয়ে আজ একটু বেশি খাওয়াদাওয়া করে ফেলেছিলেন,অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়ানোর জন্যই তারা এই কাজটি করেছেন।হতে পারে না?

আর সর্বোপরি ভালোবাসা সর্বজনীন,এইটা কোন স্থান কাল পাত্র মেনে হয় না।আপনি নিচু মানসিকতার বলে তাদেরকেও তেমন হতে হবে এমন কোন কথা আছে???

বিঃদ্রঃ বোকারা ওজন কমাতে গাধার মতো হাটে,বুদ্ধিমানেরা চুমু খায়।
___________________________

 

ডা. মোঃ বেলায়েত হোসেন
শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ
০২ ব্যাচ।
________________________

অন্যদিকে অসমর্থিত সূত্রের যারা ছবিটি শ্যুটিংএর বলে দাবি করছেন ,তারা এই জোড়া ছবি প্রকাশকরছেন। তাতে অবশ্যই পাত্রপাত্রীকে অন্য একটি ফটোশেসনে সাইকেলে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোন তথ্য আমাদের হাতে এখনও আসে নি।
______________________

চ্যানেল আই অনলাইন
ভাইরাল হওয়া ছবি নিয়ে যা বলছেন ছবিটি তোলা ফটো সাংবাদিক শিরোনামে ২৩ জুলাই, ২০১৮ অনবদ্য তথ্যমূলক লেখা প্রকাশকরেছে। লিখেছেন

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ । তাদের সৌজন্যে লেখাটি দেয়া হল।

জীবন আহমেদ। পেশায় ফটো সাংবাদিক। অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল বৃষ্টির ছবি তোলার। টিএসসি এলাকায় লেন্স তাক করে ঘুরছিলেন। কোনো ছবিই মনঃপূত হচ্ছে না।

হঠাৎ চোখে পড়লো একটি দৃশ্য। আকাশী-সাদা পোশাক পরা এক জুটি বৃষ্টিতে ভিজছেন। বৃষ্টির দিনে খুব স্বাভাবিক দৃশ্য এটি। তারপরও চোখ আটকে যায় জীবন আহমেদের। কারণ, ভালোবাসার চুমুতে ভালোবাসাবাসিতে তারা।

পরিষ্কার দিনের আলোয়, প্রকাশ্য চুমুতে ভালোবাসা এদেশে স্বাভাবিক দৃশ্য নয়। নির্মল, বিশুদ্ধ ভালোবাসা বিনিময়ের দুর্লভ দৃশ্য দেখে জীবনের আলোকচিত্রী সত্ত্বা জেগে উঠলো।

লেন্স বাগিয়ে ছবি তুললেন। ছবি পাঠালেন অফিসে। পোস্ট করলেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। ক্যাপশন দিলেন, “বর্ষামঙ্গল কাব্য… ভালোবাসা হোক উন্মুক্ত।” তারপর ইতিহাস! ছবিটা বৃষ্টির পানির মতো উপচে পড়তে থাকে ফেসবুকের হোমপেজে। জীবন আহমেদের আইডি থেকে পোস্ট দেওয়া ছবিতেই পাঁচঘণ্টায় লাইক পড়ে ছয় হাজার। আড়াই হাজার শেয়ারের পাশাপাশি হাজারের উপরে কমেন্ট।

জীবন আহমেদ
হাজার হাজার মানুষ ছবিটি ডাউনলোড করে পোস্ট দেন নিজ নিজ আইডি থেকে। কেউ ছবিটাকে সাহসী ও সত্য, নির্মল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ দেখছেন নোংরামি হিসেবে।

পুরো বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন জীবন আহমেদ? চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, কে কীভাবে নিলো সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। যেকোনো ছবির ভালো খারাপ দুটি দিকই থাকে। যে যেভাবে গ্রহণ করে। তবে এই ছবি বেশির ভাগ মানুষই ভালোভাবে গ্রহণ করেছে, এবং নির্মল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে।

জীবন আহমেদ বলেন, প্রকাশ্য ভালোবাসায় নোংরামি থাকতে পারে না। ছবিটা দেখলে খেয়াল করবেন, তাদের শরীরী ভাষায় শুধুই ভালোবাসা এবং তাদের সততার বিষয়টাও স্পষ্ট।

‘ভালোবাসা বিশুদ্ধ এবং প্রকাশ্যই হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার সময় জীবন আহমেদ ছবিটি ট্যাগ দেন প্রচ্ছদ শিল্পী চারু পিনটুকে। এতে করে অনেকে মনে করেন ছবির পুরুষ লোকটা চারু পিনটু। জীবন আহমেদ জানান, ছবির লোকটা চরু পিনটু নন। ছবি তোলার সময় চারু পিনটু তার সঙ্গে ছিলেন বলেই তাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব-পশ্চিম নামে একটি পোর্টালের ফটো সাংবাদিক জীবন এর আগে কাজ করেছেন ইত্তেফাক, বাংলার চোখ, নিউজ নেক্সট বাংলাসহ বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে।

জীবন আহমেদ এর আগেও বেশ কিছু আলোচিত ছবি তুলেছেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকের সামনে আঙ্গুল নাচিয়ে হুমকি দেওয়ার ছবি, অভিজিৎ রায়ের রক্তাক্ত ছবিসহ বেশকিছু ছবি এর আগে ভাইরাল হয়েছে। তবে এই ছবিটি আগের সব ছবিকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
_______________________________

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়