RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-04-08 11:30:39 BdST
টানা ১৪ দিন কফি পান করলে কী হয়, ডা. শেঠি যা বলছেন
ডেস্ক
________________________
অনেকের দিন শুরুই হয় এক কাপ গরম কফি দিয়ে। সকালে চোখ মেলেই কফির কাপ হাতে না নিলে যেন দিনটাই ঠিকমতো শুরু হয় না। কেউ পান করেন শক্তি পেতে, আবার কারও কাছে এটি হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখার সহজ উপায়। তবে শুধু অভ্যাসই নয়, নিয়মিত কফি পান শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওতে তুলে ধরেছেন, টানা ১৪ দিন প্রতিদিন কফি পান করলে শরীরে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
ডা. শেঠির মতে, টানা দুই সপ্তাহ কফি পান লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে। এটি ফ্যাটি লিভার, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
অর্থাৎ লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা বা স্থায়ী ক্ষত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারে কফি। যদিও লিভার ভালো রাখার একমাত্র উপায় এটি নয়, তবুও চিকিৎসকদের কাছেও এখন এটি উপকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাক কফি শরীরের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ফ্যাট বার্নে ভূমিকা রাখে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে শরীরকে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে সংকেত দেয়। পাশাপাশি কফি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুধা কিছুটা কমায়, ফলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
মস্তিষ্কে বাড়তি কর্মক্ষমতা
‘ক্যাফেইন মনোযোগ, সতর্কতা ও মানসিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে,’ বলেন ডা. শেঠি। দীর্ঘ সময় কাজ বা পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেকেই কফির ওপর নির্ভর করেন। যদিও এটি ঘুমের ঘাটতি পূরণের বিকল্প নয়, তবে গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট মাত্রার ক্যাফেইন মানসিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হজম প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব
কফি অনেকের ক্ষেত্রে মলত্যাগে সহায়তা করে। ডা. শেঠির ভাষায়, এটি অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৯ শতাংশ কফি পানকারীর কফি খাওয়ার পর মলত্যাগের তাগিদ অনুভূত হয়। কফিতে থাকা কিছু উপাদান গ্যাস্ট্রিন হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা অন্ত্রের পেশিকে সক্রিয় করে।
তবে সতর্কতাও রয়েছে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কফি খেলে পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা গ্যাসের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই তাদের জন্য কফি পান সীমিত বা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ডা. শেঠি প্রতিদিন ১ থেকে ৩ কাপ ব্ল্যাক কফি পান করার পরামর্শ দিলেও বলেন, যদি কফি খাওয়ার ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, উদ্বেগ, অ্যাসিডিটি বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা কমিয়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি বা প্রসেসড ক্রিমার ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সৌজন্য এনডিটিভি
আপনার মতামত দিন:
