ডা শাহাদাত হোসেন

Published:
2022-10-31 09:48:31 BdST

স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন: লক্ষণ চিনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন


অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী: প্রাক্তন অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ


অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যাচার্য
____________________

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, স্ট্রোক সম্বন্ধে জানুন। আর লক্ষণ চিনে স্ট্রোক মনে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। কারণ মুহূর্তের তৎপরতা বাঁচাতে পারে জীবন। কোনো কারণে মস্তিষ্কের কোনো অংশের রক্ত সরবরাহ থেমে গেলে সে এলাকার কোষগুলো নিস্তেজ হতে হতে এক সময় মরে যায় বা অকেজো হয়ে যায়। এটাই স্ট্রোক।


বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে বলেছে, প্রতি চারজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর ফলে হচ্ছে প্যারালাইসিস। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অনেকটাই দায়ী স্ট্রোকের জন্য। এটি বয়স্কদের রোগ হলেও আজকাল তরুণেরাও এর আক্রমণ থেকে বাদ যাচ্ছেন না।

স্ট্রোক হয়ে গেলে রোগীর বেঁচে থাকা বা দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সময় খুবই মূল্যবান। মগজের টিস্যু আর লাখ লাখ নিউরন কর্মশক্তিহীন হতে থাকে স্ট্রোকের পর। সে ক্ষেত্রে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


অনেক কারণ আছে স্ট্রোকের—

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো ক্রনিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে।
মস্তিষ্কের রক্তনালির স্বাভাবিক কাজকর্ম আটকে গেলে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে।
স্ট্রোক দুই ধরনের। একটি ইস্কিমিক স্ট্রোক, অন্যটি হেমোরেজিক স্ট্রোক।


ইস্কিমিক স্ট্রোকে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় রক্ত নালিতে। হয়তো চর্বির ছোট্ট পুঞ্জ রুদ্ধ করল রক্ত চলাচলের পথ। মগজের কোনো এলাকা রক্ত না পেয়ে গেল শুকিয়ে। দুর্বল রক্ত নালি ফেটে বা ছিঁড়ে পাশের ব্রেন টিস্যুতে পড়ে। এ অবস্থাই হেমরেজিক স্ট্রোক।

আরও দুটি ধরন

আবার অল্প সময়ের জন্য রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে খুব অল্প সময়ের জন্য অজ্ঞান হওয়ার মতো ব্যাপার ঘটে। এটি হলো ট্রাঞ্জিয়েন্ট ইস্কিমিক অ্যাটাক বা টিআইএ। এটি হয়তো ঘটনার মুহূর্তে তেমন বিপজ্জনক কিছু নয়। তবে বারবার হলে বড় স্ট্রোক হতে পারে। ভয়ের কারণে হঠাৎ দৃষ্টি হারিয়ে ফেলাকে ব্ল্যাক আউট স্ট্রোক বলে। এর প্রভাব হতে পারে স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদি।মগজের কোনো অংশে স্ট্রোক হলো আর কত দ্রুত এর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হলো, এসবের ওপর নির্ভর করে এর মেয়াদ কাল। স্ট্রোক থেকে বেঁচে ওঠেন যারা, তাঁদের হতে পারে নানা ধরনের অক্ষমতা। চলা ফেরা বা কথা বলার সমস্যা এমনকি, চিন্তা ভাবনা বা অনুভূতির সমস্যাও হতে পারে। অনেকের কথা বলা বা চলা ফেরার স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। স্মৃতি আর বোধ বুদ্ধিও হয় নষ্ট। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে পারলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্ট্রোকের লক্ষণ

স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ হলো এফএএসটি (FAST)—

মুখ ঝুলে আসা বা ফেসিয়াল ড্রপিং
এক পাশের বাহুর দুর্বলতা বা আর্ম উইকনেস।
কথা বলার সমস্যা অর্থাৎ কথা জড়িয়ে আসা বা স্পিস প্রবলেম।
এখন সময় হলো অ্যাম্বুলেন্স ডাকার বা টাইম টু কল।
অনেকের হতে পারে দৃষ্টি শক্তিতে পরিবর্তন এবং শরীরের ভারসাম্য হানি। হাত অবশ আর মুখ ঝুলে পড়া স্ট্রোকের বড় লক্ষণ।


স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে

আমাদের প্রতিদিনের অনেক অভ্যাস বাড়াতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই কিছু অভ্যাস এড়ানো উচিত।

ফাস্ট ফুড ও প্রসেস করা খাবার বাড়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি। চর্বি, প্যাকেট জাত কুকিস, চিপস, চানাচুর, আচার এসবে লবণ থাকে অনেক বেশি। আর বেশি লবণ দারুণ ক্ষতির কারণ।
নিয়মিত মদ্যপান স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আজকাল মদ্যপানকে স্বাস্থ্যকর বলা হয় না।
বেশি বেশি ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া।
স্ট্রোকের বড় ঝুঁকি হলো উচ্চ রক্তচাপ। রক্তে কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমাণ বাড়লে ধমনির স্থিতিস্থাপকতা কমে। তাই রক্ত প্রবাহের জন্য ধমনিগুলোকে চাপ নিতে হয় বেশি। এ চাপ বেড়ে গেল রক্ত চাপ বাড়ে এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে।
ধুম পান, শরীর চর্চা না করা, বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, হৃদ স্পন্দনে অসংগতি, স্থূলতা, জেনেটিক প্রবণতা এবং মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার কারণেও স্ট্রোক হয়।
___________________

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী: প্রাক্তন অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়