SAHA ANTAR

Published:
2022-09-19 08:50:00 BdST

মানুষের মনোজগৎ: নারী পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের অতলান্তিক রহস্যময়তা


 

রাজিক হাসান , লন্ডন থেকে
_________________


মানুষের মনোজগৎ হচ্ছে অতলান্তিক রহস্যময়৷ নারী পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ, সে আরো রহস্যময়৷
আধুনিক বিজ্ঞানীরা নারী-পুরুষের সম্পর্কের জৈব রাসায়নিক বিশ্লেষণের চেষ্টা করছেন৷ বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফল ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে, নারী-পুরুষের মনোজাগতিক রহস্যকে কয়েকটি সাধারণ সূত্রাবদ্ধ করেছেন৷ তার একটি হচ্ছে:-
"পুরুষ সাধারণত এমন হয় যে, সে মনে করে জগতের প্রতিটি নারীই তার৷ আর নারী মনে করে জগতের একটি মাত্র পুরুষ তার, তবে সে শুধুই তার৷"
অর্থাৎ পুরুষ মূলতঃ তার মনোজগতে বহুগামী স্বভাব ধারণ করে আছে৷ আর নারী তার মনোজগতে একগামী স্বভাব ধারণ করে আছে৷ এমন চরম পরস্পর বিরোধী মনোজাগতিক চেতনা পুরুষকে নারী থেকে ভিন্ন একটি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে৷
নারীর মনোজাগতিক বৈশিষ্টটা এমন যে, সে সাধারণত বহুগামী হতে পারেনা৷ তার মূল কারণ নারী প্রজন্মের ধারক; সে যদি বহুগামী হয় তবে, প্রজন্ম ধ্বংস হতে বাধ্য৷ প্রজন্মের প্রয়োজনেই সে নিরাপত্তা খুঁজে ফেরে, আর নিরাপত্তার প্রয়োজনেই সে একগামী হয়৷
তবে কোন নারীই যে বহুগামী হয়না, তা কিন্তু নয়৷ গবেষণায় দেখা গেছে বহুগামী নারীর চারিত্রিক বৈশিষ্টের মাঝেও একগামীতা প্রকট৷ তবে একজন বহুগামী নারী তার প্রত্যেক পুরুষ সঙ্গীর সাথে শারিরীক রসায়নে সমান সাড়া দেয়না, আর মানসিক ভাবে তো নয়ই৷ একাধিক সঙ্গীর মধ্য থেকে কেবল একজনের প্রতি তার মনোনিবেশ থাকে৷ অর্থাৎ তার বহুগামীতা মূলতঃ একরকম বাধ্য হয়ে৷ অপর দিকে বহুগামী পুরুষ, তার প্রত্যেক সঙ্গীনির সাথে শারিরীক রসায়নে সমান অনুভূতিপ্রবন হয়, এমনকি তার স্বীয় মনোজগতেও তার প্রত্যেক সঙ্গিনীকে সমানভাবে লালন করতে পারে৷
যে কয়টি কারণে নারী বহুগামী হতে পারে তা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়৷ সংক্ষেপে বলতে গেলে শারিরীক, অর্থনৈতিক বা মনোজাগতিক কোন বিকার, নারীকে বহুগামী করে তোলে৷ তবে এক্ষেত্রে আরো একটি বিষয়, কোন আকস্মিক দূর্ঘটনা নারীকে মনোবিকারগ্রস্থ করে ফেলতে পারে, যা থেকে তার বহুগামীতা তৈরী হতে পারে৷ ড্রাগ বা পর্ণোগ্রাফিক আসক্তি নারীকে বহুগামী করে তুলতে পারে৷ অর্থনৈতিক কারণে নারী বহুগামী হতে পারে, তবে এরকম বহুগামীতা তার স্বেচ্ছা বহুগামীতা নয়৷
নারী অবশ্য কয়েকটি বিশেষ গুণ ধারণ করে আছে, যেগুলি পুরুষের নেই৷ সেটি হল তার রহস্যময়তা, কমনীয়তা আর তার স্নেহশীলতা৷ প্রতিটি নারীই পারে, সঙ্গী পুরুষটির সামনে নিজেকে রহস্যময়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং মজার বিষয় হচ্ছে এটি সে প্রতিদিন পারে, চেষ্টা করলে আজীবন পারে৷ পুরুষ তার সঙ্গিনী নারীর রহস্যময়তার পেছনে চলতে চলতে কখন যে জীবন পার করে দেয়, তা সে নিজেও জানেনা ৷
অন্যদিকে যে নারী তার এই বিশেষ গুণগুলি যত বেশী দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারে সে নারী তত বেশী সফল হয়, ইতিহাস অন্তত তাই বলে৷
পুরুষ সঙ্গীটি যদি সঙ্গিনী নারীর প্রতি যত্নশীল, বিশ্বস্ত ও মনোযোগী হয়, তবে নারী সাধারণত বহুগামী হয়না; এমনকি বহুগামীতার উপযুক্ত পরিবেশ পেলেও নয়৷ কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও হতে পারে৷ তবে কথা হচ্ছে ব্যতিক্রম কখনো উদাহরণ হতে পারেনা৷
(তথ্য সূত্র : Discovery টিভি চ্যানেল)
---------------------------------------------------
ধারণাটি নেহাতই মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থান থেকে উদ্ভূত !! যদি আদিম সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার দিকে দেখি তখন নারীরাও বহুগামী। কিন্তু ব্যক্তিগত মালিকানার সৃষ্টি সেই মালিকানার উত্তরাধিকার এর প্রয়োজনীয়তার জন্ম দিল। এঙ্গেলস এর লেখায় এর একটা অসাধরণ চিত্র পাওয়া যায় যা ডিস্কভরী চ্যানেল কখনই দেখাবে না। আর এই উত্তরাধিকার এর প্রয়োজনীয়তা থেকেই নারীকে একগামী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল।
সমাজের প্রভাবে যৌনতা এতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে যে যৌনতার স্বাভাবিক প্রকাশ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। পিতৃতন্ত্র যখন এতোটা প্রকট ছিলনা তখন যৌনতা ছিল স্বাভাবিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত। দিনে দিনে নারীর উপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে পুরুষ, ফলে নারীর যৌনতা অবদমিত হয়ে পড়েছে। নারীর একগামিতা প্রধানত তারই ফসল। ধর্ম মানুষের লিঙ্গ প্রভেদকে পাকাপোক্ত করে তুলেছে । কিন্তু সুখের কথা সামাজিক অগ্রগতির ধারায়, বিজ্ঞান যতো বিকশিত হচ্ছে ততই দূর হয়ে যাচ্ছে স্বতঃস্ফূর্ত যৌনতার বাধাগুলি...। @

 

---------------

রাজিক হাসান

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়