SAHA ANTOR

Published:
2020-07-29 12:29:23 BdST

ফেসবুক লাইভে এসে বাবার হাতে নির্যাতিত মাকে বাঁচাল ঢাকার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে


ছবি প্রতিকী


ডেস্ক
___________________

ফেসবুক লাইভে এসে নির্যাতিত মাকে বাঁচাল ঢাকার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে । এই ঘটনায় ইন্টারনেট এখন তোলপাড়। পুলিশ অবশেষে তৎপর হয়েছে। মেয়েটির মাকে নির্যাতন করছিল মেয়েটিরই বাবা। যদিও দুজনার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তারপরও সাবেক স্বামী নির্যাতন করে চলছিল তালাক হওয়া স্ত্রীকে।
ঘটনা করুণ ও নাটকীয়।
রাজধানীর একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের এক শিক্ষার্থী ফেসবুক লাইভে এসে বলছিল, ‘প্লিজ, কেউ আমার আম্মুকে বাঁচান, প্লিজ। একে পুলিশ ধরে না। আমরা পুলিশকে খবর দিছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। আমার বাবা, আমার আম্মুকে খুব মারতেছে। কেউ বাঁচাচ্ছে না। কেউ বাঁচান, প্লিজ।’

মায়ের সামনে ভয়ার্ত ওই কিশোরীর এই আর্তনাদ ফেসবুকে ভাইরাল হল । ঘটনাটি পুলিশের নজরেও এসেছে। মেয়েটি যখন মাকে বাঁচাতে আকুতি জানাচ্ছে, তখন লোকটির ঘরের ভেতরেই ছিলেন।


হাজারীবাগ থানার পুলিশ বলছে, ফেসবুক লাইভে আসা কিশোরীর ভিডিওটি দেখে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরীর মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা।


ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, ধানমন্ডির মধুবাজার এলাকায় মাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে ফেসবুক লাইভে আসা কিশোরীর ভিডিওটি আমরা সোমবার সকাল ১০টায় দেখি। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পুলিশকে তারা সহযোগিতা করছিল না। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় একজন নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আবার ওই বাসায় যান। পরে ওই কিশোরী এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। পুলিশের কাছে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যে লোকের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

ফেসবুক লাইভে যাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ,সে এক ক্যাডার । খসরু ওই কলেজছাত্রীর বাবা। তার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা আছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

স্বামী ও স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়েছে দুই বছর আগে। এই দম্পতির দুই মেয়ে।

ফেসবুক লাইভে এসে মেয়েটি বলেছে, ‘আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। আমার বাবা আম্মুকে খুব মারতেছে। কেউ বাঁচাচ্ছে না। কেউ বাঁচান, প্লিজ। এই লোকটাকে কেউ ধরে না। পুলিশও ধরে না। এত নির্যাতন করে আম্মুর ওপর কিন্তু কেউ ধরে না। দুপুরে দুবার মাকে ফাঁস লাগিয়ে মারতে গেছে। এই লোক খুব টর্চার করতেছে। প্লিজ, কেউ আম্মুকে বাঁচান।

এই ফেসবুক লাইভে মেয়েটির মা বলেন, ‘সকালে ভয়ংকর অপরাধীর মতো নির্যাতন করেছে। সব ম্যানেজ করে বেড়ায়। সাহেদের থেকে একশগুন বেশি অপরাধী। শুধু মিথ্যা কথা বলে। অকল্পনীয় নির্যাতন করে। অনেক বাজে কাজও করে। নেশা করে। ড্রাগ এডিক্টেড। সারা জীবন নির্যাতন করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডার। তাঁর অকল্পনীয় পাওয়ার। পুলিশ আমাদের কথা শোনে না। মাদক ও নারী ব্যবসা করে। আমাকে বেঁচে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে। এই বাসা, দেহ ব্যবসার কাজে ব্যবহার করত। ২০১৭ সালে ধরা পড়ে। তারপর তাকে আমি ডিভোর্স দিয়ে দিছি। কিন্তু তাও আমাদের ওপর নির্যাতন করে। সুযোগ বুঝে বাসায় ঢুকে আমাদের ওপর নির্যাতন করে।’

মেয়েটি বলে, ‘সারাক্ষণ অবিচার করে। আর শুধু মিথ্যা কথা বলে। অকল্পনীয় নির্যাতন করে আম্মুর ওপর।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে। লোকটির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন করাসহ নানা অভিযোগ করেছে ওই মেয়েটি ও তাঁর মা। আইন অনুযায়ী, ফেসবুক লাইভে এসে মেয়েটি যেসব অভিযোগ তুলে ধরেছে, সেগুলো দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত, যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। লোকটি যদি দোষী হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।’
তথ্যসূত্র : দৈনিক প্রথম আলো

 

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়