SAHA ANTOR

Published:
2020-07-28 10:56:23 BdST

আরেক কোভিড রহস্য :কেন কেউ কেউ দুবার করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন


 


অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী
________________________

আটলান্টার এক নার্সিং হোম আর পুনঃ বাসন কেন্দ্রে কাজ করতেন ৩৩ বছর বয়সী নার্স হাইন্স । তিনি বলছিলেন করোনা জয় করেছি ।
কয়েক হপ্তা কফ কাশ আর পেটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে শ্বাস ক্রিয়া সাবলীল রাখার চেষ্টার পর তিনি একদিন বললেন যে অপরিসীম ক্লান্তি তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছেল তা থেকে মুক্তি মিলেছে , উপসর্গ ও নাই
ভাইরাস টেস্ট এল নিগে টি ভ । মুখে ক্লিষ্ট হাসি । বলেন বেচে গেলাম।
অতি মারীর গোঁড়ার দিকে করোনা নিয়ে জানা ছিল কমই তাকে আর সহকর্মী নার্সদের বলা হয়েছিল মাস্ক না পরতে যাতে মানুষ ভয় না পায়
যে কেন্দ্রে তারা কাজ করতেন , মৃত্যু ছিল বিরল ঘটনা কিন্তু যেই করোনা এল , সব পালটে গেল । তিন চার জন হোম বাসীর মৃত্যু হল তারা ভাবলেন , হচ্ছে কি ?
এপ্রিলের গোঁড়ার দিকে তাদের কয়েকজনের কো ভি ড টেস্ট করা হল। ১৮ জনের হল পজিটিভ এর মধ্যে ছিলেন তিনিও । পরপর উপসর্গ দেখা দিল , হাইন্স এর ছিল এজমা , তার মাকে তিনি বলছিলেন সে রাতে মনে হলে আমার বুকে যেন হাতি চেপে বসেছে । ঘরেই ইনি নিজের খেয়াল নিলেন , টাইনেলল । প্রেসক্রিপশন ইনহেলার , আর ডাক্তারের সাথে নিয়মিত টেলি মেডিসিন ভিজিট । ভেবেছিলেন একবার হয়ে গেছে আর হবেনা , রোগী সেবায় করেছিলেন আত্ম নিয়োগ , কিন্তু ১০ দিন পরই ক্লান্তি ফিরে এল । বাসায় এসে ক্লান্তিতে শুয়ে পড়লেন শয্যায় । এরপর গাঢ় ঘুম । তার মা উদ্বিগ্ন । এলেন হাসপাতালে । পাওয়া গেল করোনা পজি টি ভ । ফিরে এল করোনা ।
অনেক কিছু অজানা ।
রিবাউনড , ফিরে আসা না পুন সংক্রমণ /?
এখনও পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে , নাক আর গলার পেছন দিকে যে ভাইরাস থাকে আর যেখান থেকে সুয়াব করে নমুনা নেয়া হয় , সঙ্ক্রমনের কয়েক দিন পর আর সেখানে থাকেনা । তবে তা রিবাউননড করতে পারে কয়েক হপ্তা / মাস । সেজন্য কিছু লোক প্রথম পজি টি ভ পরে নিগে টি ভ , আবার পজিটি ভ হতে পারে । উপসর্গ মিলিয়ে গেলেও । আমেরিকার এন আই এন আই এর সংক্রামক বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্নেলার বলেন এটি পুনঃ সংক্রমণ নয়
হাইন্সের যে দ্বিতীয় বার সংক্রমণ হল , উপসর্গ হল তাহলে ? কলাম্বিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডোনা ফারবার বলেন এমন হতে পারে তার হয়েছিল পুন সংক্রমণ ।আমাদের চারপাশে আছে নানা রকমের রোগ জীবাণু , ম্যলেরিয়া হয় বার বার , কানের সঙ্ক্রমন একই জীবাণু আবার সংক্রমণ ঘটায় ,
আমাদের ইম্মুন সিস্টেম , বাহির থেকে আসা হুমকি মোকাবেলা যার কাজ এ বড় জটিল আর প্রতি রোধের আছে নানান সারি । সামরিক বাহিনির নানা স্তর আর্মি , নেভি , এয়ার ফোরস । বলেন ফারবার।
বাহিনীর কোন সারি লড়াই করল পর্যুদস্ত করল এর পর মিইয়ে গেল
বাহিনীর অন্য স্তর থাকল রক্ষী সেনা হিসাবে আবার সেই সংক্রমণ হলে একে ঠেকাবার জন্য । প্রথম দেহে ইম্মুন সাড়া পড়ল , সক্রমন চলে গেল । এর স্মৃতি কতটুকু অটল হয়ে থাকল এও কথা । আর তা দেবে পরবর্তী সংক্রমণের জন্য ইম্মুনিটি । এখনো স্পষ্ট নয় যারা করোনা আক্রান্ত হন এরা প্রত্যেকের দেহে ইম্মুন স্মৃতি সৃষ্টি হয় কিনা
আগে দেখা গেছে প্রত্যেকের দেহে তা হয়না । পেন সিল ভেনিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইম্মুনলজিস ট জ ওহে রি বলেন ক্যান্সার এর ক্ষেত্রে ইম্মুন রেস্পন্স নিয়ে গবেষণা করেন , বলেন এজন্য কারো কারো ক্ষেত্রে ওষুধ কাজ করে , আবার কারো ক্ষেত্রে করেনা । তিনি বর্তমানে কো ভি ড ১৯ ১২৫ জনের উপর বিস্তৃত ইম্মুন স্টাডি করছেন ডিপ ইম্মুন প্রফাইলিং ।
সঙ্ক্রমনে নানা রোগী বিভিন্ন ভাবে সাড়া দেয় ।
বিভিন্ন ইম্মুন সাড়াদের তিনি বলে ইম্যুনোটাইপ ।

সেরে উঠার কাল হল দীর্ঘ
হাইন্স এর ব্যাপারে তেমন ঘটেছিল ?
তার করোনা সংক্রমণ দ্বি তী য় বার হবার সুচনার দিকে তার এন্টিবডি টেস্ট করা হল । ইম্মুন সিস্টেম উৎপন্ন করে এই প্রোটিন এন্টিবডি । তারা অনুপ্রবেশকারী ভাইরাসের সাথে বন্ধনাবদ্ধ হয় আর ভাইরাস্ কে প্রবেশ এ বাধা দেয় । নতুন ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেহে এন্টিবডি তৈরি হতে সময় নেয় ২-৩ হপ্তা । হাইন্সের রক্তে ছিলনা কোন এন্টিবডি ।
আরও কারণ থাকতে পারে । ওহেরি মনে করেন হয়ত যে টেস্ট করা হয়েছিল তা হয়ত ছিল ফলস পজিটিভ বা ফলস নিগে টিভ। ফলাফল ছিল ভুল । তাদের শরীর ভাইরাস মুক্তই হয়নি আর তাই গর্জন করে উঠেছে আবার ,
তবে আমাদের আরও অনেক জানার আছে ।
হাইন্স পেলেন কনভালেসেন ট প্লাজমা , সঙ্ক্রমন থেকে সেরে উঠা লোকের রক্তের থেকে প্লাজমা পৃথক করে দেয়া হল তাকে । স্বচ্ছ এই রস সুরক্ষা এন্টিবডিতে পূর্ণ ছিল । তাকে দেয়া হল এন টি ভাইরেল রেমডেসিভির । তাকে ভেন্তিলে টারএও যেতে হল । বিশেষ শয্যায় তিনি থাক্ লেন , ১৬ ঘণ্টা দিনে থাক্ লেন পেটের উপর উপুড় হয়ে, শ্বাস কর্ম যাতে ভাল হয় । এভাবে ৯ দিন । হাসপাতাল বাস করতে হল এক মাস।
চিকিৎসায় কাজ হল তবে তিনি অকর্মণ্য হয়ে গেলেন । ক্লান্তির শেষ নেই মাঝে কাশির দমক , দুর্বল , খাওয়া , চলা ব,আ আবার তাকে নতুন করে শিখতে হল । ৩৬ দিন হাসপাতালে থাকায় এল আকাশ চুম্বি বিল । ৪২১০০ ডলার ।
তবু তিনি মনে করেন তিনি সৌভাগ্য বান ।
জনগনের জন্য তার বার্তা । জেনে রাখুন কো ভি ড ১৯ হল রিয়েল , আর এটি গুরুতর ।
একে ঠেকাতে সহজ সতর্কতা "ঃ মাস্ক পরা , হাত ধোয়া আর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ।
আমরা মনে করি করোনা থেকে সেরে উঠেই আমরা হব ইম্মুন , উপাত্ত তা বলেনা ।
তাই সেরে উঠলেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন কারন আপনি জানেন না সত্যি ইম্মুন কি না ।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়