Ameen Qudir

Published:
2016-12-30 08:21:22 BdST

আসুন আমরা সভ্য হই


                             

 

প্রকৌশলী মীর্জা শামীম হাসান
______________________


ম্যানহোল আমাদের ঢাকা শহরে যে ভাবে আছে, তাতে আগামী ক’বছরে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে জীবনযাপন সম্ভব হবে না। আশে পাশের নব নির্মিত দালানের “ওয়েস্ট ওয়াটার + বৃষ্টি পানি + অন্যান্য “ প্রবাহ যে ভাবে প্রতিদিন আসে তাতে সামনে বড়ো বিপদ আছে। তাছাড়া, ম্যানহোলে দেখা যায় প্লাস্টিকের বোতল বা ব্যাগ।
প্রকৃত দেশ প্রেম মনোভাব নিয়ে আমাদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

 


বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকায় এম্বুলেন্স যদি সকালে রোগী নিয়ে রওনা দেয় তাহলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছাবে। আর রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ না থাকলে ডান দিকের গাড়ী বা দিকে চলে আসবে।
যদি সামান্য বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে কেনো জানি জ্যাম লেগে যায়। রাস্তায় যা জায়গা আছে তাতেই যদি সঠিক ভাবে ভাগ করে দেয়া যায়, তাহলে রাস্তায় হয়রানি কমে যাবে আশা করা যায়। বিশেষ করে যদি কালকে সকালে এম্বুলেন্সের জন্য আলাদা রাস্তা দেখা যেতো , হয়তো কিছু কিছু মানুষের জীবনে শান্তি আসতো। আসুন আমরা সভ্য হই।

 

 

জীবন বাঁচাতে আছেন বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার আর সমাজ দেখাশোনায় আইন। আর সমগ্র তলানী থেকে জাগ্রত করতে এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন। এখন আমাদের সারা দেশে যার সংখ্যা হাজার-হাজার। স্কুল কলেজের পরে ভর্সিটির সময়টা পার করে চাকরী বা নতূণ উদ্যোগে কিছু সৃস্টি করবে। আর সেভাবে চলবে সমাজ। এ ধারা ঠিক থাকলে কোন স্তরেই সমস্যা হবে না। অন্যান্য দেশের মতো এগিয়ে যাবে । কিন্তু কথা গুলোর মাঝেই দু:স্বপ্নরা খেলা করে আর টেনে নিয়ে যায় পরাজয়ের কঠিন সত্যের দিকে। কিচ্ছু করার থাকে না। অনিয়ম অন্যায় বাড়তে বাড়তে সেটাই হয়ে যায় আসল সত্য।
কোন বিষয় নিয়ে লেখা যায় আজকে নতূণ করে সেটাই বিবেচনা করার ঝামেলা।

 

মানুষের মনটা যেনো এখন পাথর, আর তা নিয়ে খেলা করে যাচ্ছে কিছু চটুর প্রকৃতির প্রাণীগুলো। ওরাও ওদখতে মানুষের-ই মতো। সব ছেড়ে নিজের ভালো করতে হবে। কিন্তু যে ডালে বসে আছি তা কেটে দিলে কি হবে তা নিয়ে বলার কোন সময়নেই। আর সে জন্যই দিনদিন দেশটাতে কালো পানিতে জমে যাচ্ছে, পিছলে পড়ছে সমগ্র , তার খেয়াল নাই। বাজরের নিতি যেকোন বই খুল্রেই অনেক কথা জানা যায়, আর ভুলতে সময় লাগে ক-এক সেকেন্ড মাত্র। রাজধানীতে কিছু সময় বৃস্টি হলে রাস্তায় ছোট মাছ দেখা যায়, রূগী নিয়ে হাসপাতালে রউনা দিলে বলা যাবে না কখন পৌঁছাবে আর ডাক্তারের দেখা মিরবে। ম্যান হলে ঢাকনী আজকে দিলে রাতেই চুরি হয়ে যাবে গ্যারান্টিতে। রাস্তার ফ্রাইওবারের সিঁড়ি গলোতে থাকে ভাঙ্গা আর পা দিলেই একটা মানুষের ওজনে সমস্তটা কেপে ওঠে।

 

আর বড়ো চেয়ারের মানুষগুলো কোন প্রতিষ্ঠানে চেহারা দেখাতে গেলে সততার বিবরণ দিয়ে ওডিটরিয়ামটা শব্দে মুখরিতো করে দেবে ওনেক সুনিপুন ভাবে। সূত্র একটাই , আমি করবো , আর আমার নিয়ম ছাড় নিয়ম ছাড়া কেউ আসতে পারবে না। আর কিছু দিন পরপর নিয়ম টা যদি একটু একেবেকে দেয়া যায় তাহলে সাধারণ মানুষ তো অিনেক দূরে চলে যেতে বাধ্য। আর আমরা তো শান্তি প্রিয় জাতি। কার দায় পড়েছে সামান্য কিছু বলতে গেলে যদি আবার ঝামেলা হয়। সবাইতো বলে যায়, করে যেতে পরে ক’জনে। আর করবে কি ভাবে, নিয়মের সূতো চলতেচলতে চূল পেকে জীবন পার। তার থেকে ভালো যারা আছেন তা্রাই থাক।

 


কোন সরকার-ই চায় না তার দেশটা অসুস্থ থাকুক। আর তাই সরকারে দপ্তরে দপ্তরে কাজের তাগিদ। কিন্তু তার পরেও অস্থির কেনো আমাদের দেশ? কেনা আজও টেবিলের নিচের ব্যপারটা দূর হয়নি দেম থেকে। আমাদের দেশে অনেক উঁচু মাপের শ্রদ্ধেয় স্হপতি আর প্রকৌশলী আছেন। অনেক সৌভাগ্যের বিষয় যে, দেশের বাইরেও অনেকেই কর্মে নিয়োজিত। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় ব্যপক ভাবে ট্রফিক ম্যানেজমেন্টে , পানি ডিস্ট্রিবিউশনে , নির্মাণে। সমস্যা টা কেনো হচ্ছে? অফিসিয়াল ত্রুটি, নাকি কজে সমস্যা, নাকি দুটোতেই ঝামেলা। কেনো কোন কাজে খোলামেলা জনসাধারণের মতামত নেয়া হয়না। ওখানের সবাই লয়েলব্লাডেড আর বাকি মানুষগুলো দুতভাত। ছোটবেলায় দেখেছি যে খেলা পারতো না তাকে আলাদা বসিয়ে রাখতো যারা শক্ত সমর্থ্য। তাকে বলে দুতভাত।

 

আজ বিক্রিত হচ্ছে কাগজ , হাড়িয়ে যাজে সততা বিবেক বান মনুষ। অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি আমরা যারা নতূণ বাচ্চারা বড় হচ্ছি। ভূমির নিচে নস্ট পানির প্রবাহ ধারণ হিসেব না করে অথবা না মেনে রাস্তার দু’ধারে নির্মাণ করা হচ্ছে দারান / মার্কেট। সামান্য বৃষ্টিতে ভেতরের আবর্জনা ভেসে ওপরে এসে স্বাস্থের হানি করছে। বর্জে্র লাইন মিশে যায় মাঝেমধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির সাথে। বর্ষায় বেড়ে যায় কলেরা আর ডায়রিয়া। পলিব্যাগ পরে নালা দূষিতো হচ্ছে। ব্যবহারের পরে সেগুলো সঠিকভাবে ফেলা হচ্ছেনা। একর পর এক নতূণ জমিতে নির্মিত হচ্ছে দালান। কেটে ফেলা হচ্ছে গাছপালা। এতোটাই প্রকৃতি অসহায় হয়ে পড়েছে যে সরকারের গাছ-রোপন অভিযান ও ঠাঁই দিতে পারছে না। গরমে প্রচন্ড গরম আর বর্ষায় পানি বদ্ধী হতে হচ্ছে। কোথায় মনিটরিং কোথায় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও সুনামধণ্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলো? তাহলে সবাইকি নির্দিষ্ট সময়ে গোল দেবার জন্য আত্বপ্রকাশ করে খেরা শেষে হারিয়ে যায়?

 


২০১৫ সালে এসেও রাস্তায় বসে থাকতে হয় রূগীসহ এম্বুলেন্সের গাড়ী। কিন্তু এসবের চলাচলের পথ পাশে আলাদা করে দেয়া সভ্য মানুষের প্রথম বিবেচনা করা উচিত। যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সেবা দানে নিয়োজিতো আছেন তাদের ওপরে মনিটরিং দরকার। কে কি ব্যবসা করছেন এবং তার যুক্তি কি সেটা জেনে লাইসেন্স দেয়া উচিত। তাহলে ব্যবসারে সেবা ভালো হবে এবং দেশ সুন্দর । তাহলে অর্থের অভাবে বা প্রভাবে পিষ্ঠ হবে না কোন যোগ্য মানুষ। মনে রাখতে হবে যতোই অর্থের জোর থাকুক মুরগী কখোন হাসের ডিম দিতে পারবে না। তাই যাকে যেখানে উচিত সেখানেই রাখা প্রয়োজন। তা নাহলে দেশের ভাবমূর্তি অসুস্থ হয়ে যাবে।
যা হচ্ছে তা প্রকট হবে।

_________________________________


লেখক প্রকৌশলী মীর্জা শামীম হাসান ২০১৩ তে বি.এসসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে উত্তীর্ন হন।
তিনি নির্মাণের স্ট্রাকচার এবং ট্রান্সপোর্টে থিসিস করেন। পরের বছর সিলেকশনের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারস ইস্টিটিউশন , বাংলাদেশ –এ সদস্য সম্মান লাভ করেন। কবিতা লেখা এবং পত্রপত্রিকায় লেখা নেশা।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়