Ameen Qudir

Published:
2019-09-04 08:26:37 BdST

ভাবী ভয়ংকর: এ ঘর ও ঘরের কাহিনি


ডাঃ জোবায়ের আহমেদ
সুলেখক
______________________

বিয়ের পর নব দম্পতি কে সমুদ্র তার কাছে ডাকে।ভালবাসার মানুষ কে সমুদ্রের মত স্থির ও গভীর ভাবে ভালবাসতে দীক্ষা দেয়।
নীল আকাশ মিশে যায় যেমন সমুদের নীল জলরাশিতে তেমন করেই দুজন মানুষকে ভালবাসার সমুদ্রে মিশে যাবার আকুতি জানায়।
সমুদ্রের আহবান উপেক্ষা করার শক্তি থাকেনা অনেকের।

তাই আমার বন্ধু রফিক তার ব্যক্তিগত ভালবাসার সমুদ্র কে সাথে নিয়ে বিয়ের পর প্রথম হানিমুনে গেলো কক্সবাজারে ।অন্যরকম ছিল সেই অনুভূতি রফিক ও আইরিন এর।

সুখের সময় তাদের।
প্রতিদিন ঘোরাফেরা ও খাবার শেষ করে রাতে হোটেলে ফিরে ফেসবুক এ ছবি আপ্লোড দিতো।নব বিবাহিত দম্পতিকে আমরা সবাই শুভেচ্ছা জানাতাম,সুন্দর সুন্দর কমেন্ট ও শুভকামনায় তাদের প্রতি মায়া ও ভালবাসার প্রকাশ ঘটাত অনেকে।
একরাশ মুগ্ধতা ও সুখ স্মৃতি নিয়ে বাসায় ফিরলো রফিক দম্পত্তি।।

পাশের ফ্ল্যাটের সায়মা ভাবী এই দম্পতির সুখ দেখে জ্বলে পুড়ে কিছু আগুন উনার স্বামী রাশেদ ভাইয়ার অন্তরে লাগাই দিলেন।রফিক বউ নিয়ে হানিমুন করতে গেলো,আর তুমি বইসা বইসা লাভ রিয়েক্ট দাও।
ব্যাপার কি তোমার?
আরেক জনের বউ রে সুন্দরী,মায়াবিনী বলো?
তোমার ত কোন পারসোনালিটি ই নেই।
ফালতু একটা লোক কে আমি বিয়ে করেছি।।
রাশেদ ভাই এর মেজাজ গেলো চরমে।এখানে ফালতুমির কি দেখলা?

রফিক এর বউ তো সুন্দর, মাশাল্লাহ।
কি কইলা তুমি,সায়মা ভাবী জিগায়?
এই মাইয়ার মাঝে সুন্দর এর কি দেখলা।
কাইল্যা ভুত একটা।।কি মোটা?
আর এরে কও তুমি সুন্দরী, মায়াবিনী।?
তুমি একটা লুজ মিয়া, ভাবী কইলো।
রাশেদ ভাই চুপ মেরে গেলো।
মনে মনে ভাবলো যে যেমন সে তেমন ই ভাবে সবাইরে।
কালো,মোটা বউ রাশেদ ভাই এর।
তাই ভাবী হীনমন্যতায় ভুগে।।

রফিক আর রাশেদ ভাই পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকে।
রফিক এর বউ এর প্রশংসা সায়মা ভাবীর ভেতর একটা জ্বালা তৈরী করে রেখেছিল।
সে জ্বালা মিটানোর একটা সুপ্ত ইচ্ছা নিয়ে সুযোগ এর অপেক্ষায় সায়মা ভাবী।।

রফিক এর বউ আইরিন এর সাথে খাতির জমানোর জন্য প্রায় ই বাসায় আসতো।
রফিক এর খুব প্রশংসা করত।
আইরিন খুশি হতো।।
একদিন রফিক বাসায় ফিরে বাসায় না ঢুকে ছাদে চলে গেলো।
সায়মা ভাবী নীচে ঘুরাঘুরি করছিলেন।
উনিও লিফট এ উঠলেন।
সায়মা ভাবী তিন তলায় নেমে গেলেন।রফিক নামলো না।লিফট টা দশতলায় উঠে গেলো।
ভাবী নিজ ফ্ল্যাটে না গিয়ে গেলেন রফিক এর ফ্ল্যাটে।
গিয়ে আইরিন কে বললেন, রফিক ভাইয়া কই?
আইরিন বললো,অফিসে,এখনো আসেনি।
সায়মা ভাবী বললেন,,একটা ফোন দেন তো।
কি অফিস করে খবর রাখেন আপনি?
আইরিন বললো,বুঝলাম না।কি অফিস করে মানে?
রফিক এর নাম্বার ব্যস্ত।
আইরিন বললো, ব্যস্ত অফিসের কাজে মনে হয়।

এইবার সায়মা ভাবী মনের বিষটা আইরিন এর অন্তরে ঢেলে দিলেন।
রফিক ভাইয়া কে ছাদে দেখলাম হেসে হেসে এক সুন্দরী মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে।আমি গেছিলাম দুপুরে বেড শীট রোদে দিয়েছিলাম,তা আনতে।আমাকে দেখে কেমন যে চোর চোর ভাব করলো ভাবী।।
পুরুষ মানুষ হলো হারামি।
এদের বিশ্বাস করতে নেই।
দেখেন না তিন মাস আপনাদের বিয়ে। আপনি কত্ত কিউট,মায়াবতী, আর উনি প্রেম শুরু করে দিলেন।।
কি বজ্জাত পুরুষ লোক।
আমি হলে এমন জামাই এর ঘর একদিন ও করতাম না।।

আইরিন এর মাথা গরম হয়ে গেলো।
মুখ চোখ লাল হয়ে গেলো।।
সায়মা ভাবী আইরিন এর লালচে ভাব দেখে মনে মনে মুচকি হাসলেন।
বুঝলেন ডোজ ঠিকমত দিতে পেরেছেন।।
উনার সামনেই বারবার ফোন দিলো রফিক কে।
রফিক অফিস এর কল কেটে আইরিন এর ফোন রিসিভ করলো।ভাবলো বাসায় কি হলো আবার।
ফোন রিসিভ করতে না করতেই আইরিন বললো,,ছাদে প্রেম কর না? এক্ষন বাসায় আসো।
আইরিন এর গলার আওয়াজ এ রফিক এর মেজাজ গেলো আরো বিগড়ে।।

বেচারার অফিসে বস আসছে নতুন।
আগের বস খুব কো-আপারেটিভ ছিলেন।
নানা রকম ঝামেলা পাকাচ্ছেন।এইসব নিয়ে সে তার এক কলিগ এর সাথে কথা বলছিল।
ভাবলো,বাসায় কথা বললে, আইরিন শুনলে টেনশন করবে।।অফিস এর ঝামেলা বাসায় আনা ঠিক না।।

বাসায় আসলো দ্রুত।
আইরিন তখন উত্তপ্ত উনুন।।
কি হইছে??
কি হইছে মানে?
বাসায় ঢুকে ছাদে গিয়ে প্রতিদিন ভিডিও কলে প্রেম করবা আর বলবা কি হইছে।
আমি ছাদে গেছি কে বললো তোমারে?
আইরিন বললো, কে মেয়েটা।
কোন মেয়ে,রফিক এর জিজ্ঞাসা।
যার সাথে ইটিশ পিটিশ করছো। কতদূর বাকী আর।
শুয়া বাকী।না তাও হয়ে গেছে।।

রফিক এর মাথা গেলো আউলাইয়া।।
এই বেয়াদব, কি বলো এগুলো।
উলটাপালটা কথা বলবা না।রফিকের হুঁশিয়ারি।
আইরিন গেলো আরো ক্ষেপে।
চোর একটা।এখন ধরা পড়ছ।।
কথা বার্তা দুজন এর আউট অব কন্ট্রোল হয়ে গেলো।

এক পর্যায়ে রফিক কাপুরুষ এর মত থাপ্পড় দিলো আইরিন কে।।
আইরিন লাউড স্পীকারে কান্নাকাটি শুরু করলো।
আমি তোমাকে ডিভোর্স দিবো।
তুমি প্রেম করো।আমাকে ঠকাচ্ছো।লুচ্চা একটা।
ফুঁপিয়ে কান্না করছে আর বলছে।

রফিক এর বাবা মা ছেলের রুমের উত্তপ্ত পরিবেশ,চিল্লাফাল্লা শুনে দরজায় নক করলেন।
এই সময় আইরিন বের হলো।
সে এখন ই বাবার বাসায় চলে যাবে।।
রফিক চুপ, চোখ মুখ বিমর্ষ।।
রফিক এর বাবার মোবাইলে তখন রফিক এর শ্বশুর এর ফোন।
আপনার ছেলে পাইছে কি?
আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে।
প্রেম করে আবার আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে।
উচিত শিক্ষা দিবো।।
আমরা আসতেছি।

পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেলো।
আইরিন আজেবাজে বকেই যাচ্ছে।
তার বাবা, ভাই অগ্নিমূর্তি নিয়ে তাদের বাসায় আসলো।।

রফিক এর বাবা তার শ্বশুর এর হাত ধরে বললো,বেয়াই কিছুই বুঝলাম না।
আচ্ছা আমি দেখবো।
আমার ছেলের কোন দোষ থাকলে আমি শাসন করবো
আপনি বউমা কে নিয়ে যাবেন না।।

উনারা কারো কথা শুনলো না।।
আইরিন রাতেই বাবার বাসায় চলে গেলো।।।

পরের দিন সায়মা ভাবী পায়েস নিয়ে সন্ধ্যায় রফিক এর ফ্ল্যাটে আসলো।
এসে রফিকের মা রে জিগায়,খালাম্মা আইরিন ভাবী কই?
রফিক এর মা বললো,আমার বউ টা কি শান্ত ছিলো,কাল কি ফোনে কথা বলা নিয়ে ঝামেলা।
তারপর তুলকালাম।এখন বাপের বাসায় গেছে।
সায়মা ভাবী, রফিকের রুমে উঁকি দিলেন।
রফিক মন খারাপ করে শুয়ে ছিলো।
ভাবী বললো, ,আরে ভাই আজকাল এর মেয়েরা বহুত লোভী, এদের দুনিয়া দিয়েও আপনি মন ভরাতে পারবেন না।।
আপনার মত জামাই লাখে একটা পাওয়া যাবে।
টেনশন করবেন না।
কত্ত মেয়ে আপনার জন্য লাইন ধরবে।।
আমার ননদ নওরিন সেদিন ফোন দিয়ে বললো,রফিক ভাইয়া কি হ্যান্ডসাম, আর উনি কি ক্ষেত বিয়ে করছেন।

রফিক ফ্যালফ্যাল করে সায়মা ভাবীর দিকে তাকিয়ে ছিলো।।

ভাবী মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলেন।।

##

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়