Ameen Qudir

Published:
2019-05-11 11:18:04 BdST

এইচএসসি পাস হলেও মেডিসিন স্পেশালিস্ট : বিরাট দালাল গ্যাং নিয়ে শত শত রোগী দেখত


 

ডেস্ক
____________________

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস পর্যন্ত । কিন্তু তাতে কি ! বাংলাদেশে সে দিব্যি মেডিসিন স্পেশালিস্ট হিসেবে শত শত রোগী দেখছিল। রোগীরাও তার ছিল ভক্ত। কেননা, এই সবজান্তা ডাক্তার রোগীর জন্য ওষুধ বিক্রেতা ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মর্জি মত ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাদি দিত।ডায়াগনস্টিক সেন্টারই দালাল লাগিয়ে রোগী সংগ্রহ করত। নেপথ্যে কাজ করত বিরাট প্রতারনা গ্যাং। ডাক্তারের সুনামের জন্য মাইকিং হত। দালালরাও কাজ করত অধিক কমিশনের আশায়। এই ভয়ঙ্কর প্রতারক নিজের ব্যবস্থাপত্রে তার পরিচয় লিখত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক! শিক্ষাজীবনে তার সম্বল হলো ২০০১ সালে এসএসসি পাস এবং ২০০৯ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পাস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে অনুমোদনহীন হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখে আসছিলেন। অবশেষে র‌্যাব ১১-এর একটি দল তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিবের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।এইচএসসি পাস করা সেই ভুয়া ডাক্তারের নাম মো. তানভীর আহমেদ সরকার (৩৪)।

র‌্যাবের দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার (০৮ মে) রাতে এ অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলমের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে মো. তানভীর আহমেদ সরকারকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও আবুল বাশারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এসময় অনুমোদনহীন হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

র‌্যাব-১১ এর মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভুয়া ডাক্তার মো. তানভীর আহমেদ সরকারের বাবার নাম আ. মতিন চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার শিবনগর এলাকায়। সে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী দেখে আসছে। গ্রেফতার তানভীর বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে নিজের নাম ডা.মো.তানভীর আহমেদ সরকার উল্লেখ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রোগীর প্রেসক্রিপসনে তিনি ভিন্ন ভিন্ন নামে স্বাক্ষর করেন। এমনকি ভর্তি হওয়া রোগীদের ফাইলে ও প্রেসক্রিপশনেও সে নিজেই ভিন্ন ভিন্ন নামে স্বাক্ষর করতো। তার এ সব কাজে হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল বাশার সহায়তা করতো। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ডাক্তারের অজান্তে তাদের নাম ব্যবহার করে রোগী দেখে আসছিলেন। র‌্যাবের এ দলটি চিকিৎসক হিসেবে তার নিবন্ধিত সনদ দেখতে চাইলে তিনি কোনও সনদ দেখাতে পারেননি।

জানা যায়, তানভির আহমেদ ২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও ২০০৯ সালে কারিগরী শিক্ষা বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে রোগী দেখা শুরু করেন। এভাবে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছেন তারা।

অভিযানে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সরকারি ওষুধ পাওয়া গেছে। এসময় সেখানে কোনও এমবিবিএস চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত দিন:


কলাম এর জনপ্রিয়