Ameen Qudir

Published:
2018-01-22 11:49:29 BdST

বিনা মানসিক চিকিৎসায় একটিও মৃত্যু নয়


 

 



ডাঃ শিরীন সাবিহা তন্বী

________________________

যদি আপনার শিশুর ডায়রিয়া হয়ে পানিশূন্যতা হয় আর আপনি তার চিকিৎসা না করান তাকে ওরস্যালাইন না দেন।তার শরীরের পানিশূন্যতা রোধ না করেন আর সে মৃত্যু বরন করে।তবে আপনি এই মৃত্যুকে বিনা চিকিৎসায় বা অবহেলায় মৃত্যু বলে মেনে নিচ্ছেন তো?


যদি আপনার বৃদ্ধ পিতা মাতা হৃদরোগ এ আক্রান্ত হন।হার্টে ব্লক নিয়ে বসে থাকেন আর আপনি তাদের চিকিৎসা না করান।আর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তারা মৃত্যুবরন করেন।তাহলে আপনি এই মৃত্যুতে আপনার অবহেলা বা মাতা পিতার বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু মানতে রাজী তো?


তাহলে, আপনার বয়ঃসন্ধি অতিক্রম করতে থাকা ছেলে বাচ্চাটা!আপনার প্রচন্ড মেধাবী মেয়েটি যখন ক্যানভাসে তুলির ছোঁয়ায় সারা বিশ্বকে জয় করতে চাইছে।পৃষ্ঠার পরে পৃষ্ঠা জুড়ে লিখছে কবিতা!তুলির আঁচড়ে বা কবিতার শব্দে জুড়ে থাকছে সৃষ্টিশীলতার অমোঘ বিষন্নতা!
সৃষ্টিশীলতা আমার কাছে এক ঐশ্বরিক ব্যাপার।পৃথিবীর স্রষ্টা সব ধর্ম এবং বিশ্বাস নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাণ সত্তার সর্ব বৃহৎ রহস্য বলে আমি বিশ্বাস করি।আর সৃষ্টিশীল মানুষদের মাঝে সৃষ্টিকর্তা তার নিজের গুন দিয়েছেন খানিক টা।আর সেই কারনে তাদের ভাবনার ব্যাপ্তি,চিন্তাশীলতা,যাপিত জীবন সাধারনের থেকে আলাদা।সাধারনের মত খাই দাই ফূর্তি করি,সেল্ফি তুলি তাদের জীবন কখন ই হবে না।


পৃথিবী নামক একমাত্র জীব বসবাসে উপযোগী গ্রহ,নক্ষত্রপুঞ্জ,গ্যালাক্সী,মানুষ নামক বহু রূপী প্রানী,মানব জন্ম,ইতিহাস,মানুষের সৃষ্টিশীলতা,মানুষের স্বল্পদৈর্ঘ্য জীবন এবং নিষ্ঠুর অবধারিত পরিনতি - মৃত্যু......ভাবনাগুলো অমূলক তো নয়।
কারো বয়ঃসন্ধির নিয়ন্ত্রনহীন ভাবনাতে এই সব জটিল আর রহস্যময় বিষয় হানা দিলে,,কারো মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হলে,এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা কেন তাকে রুগী ভাবতে নারাজ?


কারো শারিরীক অসুস্থতা যতটা সহজবোধ্য এবং গুরুত্ব বহন করে,কারো মানসিক স্বাস্থ্য,যত্ন,সুস্থতাও ও ততটাই এবং কখন ও কখন ও আরো বেশী গুরুত্ব বহন করা উচিত।

বয়ঃসন্ধির হরমোন পরিবর্তনের কারনে জড়িয়ে পরা কোন অসম, অনিয়ন্ত্রিত সম্পর্ক,ড্রাগ,অপরাধ সবটাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।আবার যৌবনে অস্বাভাবিক সম্পর্ক,প্রতারনার বা ব্যর্থতার শিকার হওয়া,একাকীত্ব সবটাতেই আপনার,আপনার সন্তানের বা কাছের আত্মীয়ের মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হতে পারে।এতটাই বিঘ্ন ঘটতে পারে যে আপনার সারা জীবনের কষ্ট পরিশ্রম মূহুর্তে ব্যর্থ করে আপনি নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবেন কোন অভিশপ্ত ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত লাশ হিসেবে বা উঁচু ছাদ থেকে সদ্য ঝাঁপ দেয়া লাশ হিসেবে কিংবা আপনার গোসলখানায় রক্তের স্রোতধারায় ভাসতে দেখবেন আপনার প্রিয় সন্তানকে না হয় আপনার ওড়না পেঁচানো সন্তানের ঝুলন্ত লাশ দেখার অশরীরী দৃশ্যটা সারা জীবন আপনাকে তাড়িয়ে বেড়াবে।

তাই সময় থাকতে সাবধান হোন।নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক সুস্থতার দিকে সদয় নজর দিন।কথা বলুন।হাসুন।মানসিক সুস্থতা এতটুকু বিঘ্নিত হলেই সাইক্রিয়াটিষ্ট বা সাইকোলজিষ্টের কাছে যান।সাইকোথেরাপী নিন।নিজেকে সুস্থ রাখুন।
নিজে বেঁচে থাকুন এবং পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখুন।।

অন্তত মানসিক অসুস্থতায় চিকিৎসা না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় একজন ও যেন মারা না যায়।আত্মহত্যা নামক পাপের পথ বেছে না নেয়।সেই ছোট চেষ্টাটুকু তো আমরা সবাই করতে পারি।তাই নয় কি?

____________________________________


ডাঃ শিরীন সাবিহা তন্বী

শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ,বরিশাল ।


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়