Ameen Qudir

Published:
2019-08-20 20:13:02 BdST

'কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দুর্নীতির জন্য ডেংগু": এই ধরণের একটা চপেটাঘাত দরকার ছিল


 

 

ডা. কামরুল হাসান সোহেল
_____________________________

উচ্চ কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে , জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ আকার ধারণ করতো না। সরকারের এই ব্যাপারে সদিচ্ছার কোন ঘাটতি নেই, সরকার অনেক টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দুর্নীতির জন্য ডেংগু পরিস্থিতির এত অবনতি।

এই ধরণের একটা চপেটাঘাত দরকার ছিল। প্রায় সব পেশার মানুষ যখন ঈদুল আযহা ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে টানা নয় দিন ছুটি উপভোগ করেছেন,পরিবারের সবার সাথে ঈদ উদযাপন করেছেন।তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারা দেশে সকল চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যসেবা খাতের সব কর্মকর্তা, কর্মচারীর ঈদের ছুটি বাতিল করে আদেশ দেন। ডেংগু রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য ছিল এই আদেশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ মেনে চিকিৎসকগণ তাদের পরিবার পরিজনকে ঈদের আনন্দ বঞ্চিত করে ডেংগু রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যান।

যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেংগু রোগীদের ব্যবস্থাপনায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং না করতো, রোগীরা যেন যথাযথ চিকিৎসা পায়, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেংগু রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না করে দিতো, ডেংগু রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব না দিতো তাহলে পঞ্চাশ হাজারের অধিক ডেংগু আক্রান্ত হলে ও এই পর্যন্ত ডেংগুতে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ৪০ (সরকারি হিসাব) এ সীমাবদ্ধ থাকতো না।ডেংগুতে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতো অনেক আগেই।

এই বছর ডেংগু পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে তা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে গত বছরই জানানো হয়েছিল। তারা এডিস মশা নিধন,বংশবিস্তার রোধে তেমন কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয় নাই। তাই ডেংগু পরিস্থিতি খারাপ আকার ধারণ করেছে। জনগণের সচেতনতার অভাবও ডেংগু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পেছনের অন্যতম একটি কারণ। ডেংগু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা চিকিৎসকরা কোনভাবেই দায়ী নয়।

চিকিৎসকরা দিন রাত এক করে ডেংগু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডেংগু রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেরাও ডেংগু আক্রান্ত হচ্ছে। বেশ কয়েকজন চিকিৎসক নিজেও ডেংগু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অনেক চিকিৎসকের সন্তান মারা গেছে ডেংগু আক্রান্ত হয়ে।নিজের সুস্থতার কথা চিন্তা না করে, পরিবারের কথা চিন্তা না করে, নিজের বাচ্চার কথা না ভেবে দিন রাত হাসপাতালে থেকে ডেংগু রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরও যদি এই ধরণের অপবাদ শুনতে হয় তাহলে সত্যি এই দেশে চিকিৎসক হওয়াটাই আজন্ম পাপ।
____________________

ডা. কামরুল হাসান সোহেল :
আজীবন সদস্য, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ , কুমিল্লা জেলা।
কার্যকরী সদস্য স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ
আজীবন সদস্য,বিএমএ কুমিল্লা।
সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বিএমএ কুমিল্লা

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়