Ameen Qudir

Published:
2019-06-17 10:37:17 BdST

মানবিকে এইচএসসি পাশ 'এমবিবিএস’ এমডি ডাক্তার :বিএমডিসি নিবন্ধন আছে:ড্যাব সদস্যও!


 

ডেস্ক / সংবাদদাতা
______________________


মাসুদুল হক নামে এইচএসসি পাশ এক ব্যক্তি এমবিবিএস এমডি করা চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা চিকিৎসা কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতি। রোববার দুপুরে তারা এ স্মারকলিপি দেন।

মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহমেদের অভিযোগ, মাসুদুল হক নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মাগুরায় অস্ত্রোপচারসহ নানা অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চিকিৎসক নন। তিনি নিজেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দেবার পাশাপাশি পিজিটি, সিডিডি সার্জন বলে দাবি করেন। আসলে তিনি মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাশ। পরে ১৫ বছর রাশিয়ায় থেকে একটি ডিপ্লোমা সনদ জোগাড় করেছেন। দেশে ফিরে এমবিবিএস এমডি ডাক্তার পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা প্রকার চিকিৎসা শুরু করেন। তার ভুল অস্ত্রোপচারে অনেক রোগী মারা গেছে। অনেকে জটিল অসুস্থায় ভুগছেন।


মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা জানান,
২০০৫ সালে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে এক রোগীর খাদ্য নালিতে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তার একটি নাড়ি কেটে গেলে ক্ষত স্থান পলিথিন পেপার দিয়ে বেধে দেয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। ডাক্তাররা আবার অস্ত্রোপচার করে ওই পলিথিন উদ্ধার করেন। এ সময় মাসুদুল হককে পলিথিন ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করে পত্র-পত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হয়। যার সূত্র ধরে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত পেয়ে ২০০৬ সালে তিনি ড্যাবের সদস্য পদ নেন ও এমবিবিএস চিকিৎসক নিবন্ধক প্রতিষ্ঠান চিকিৎসক বিএমডিসিতে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন। যার নম্বর-এ-৪৩২১৪ তাং ১২.০৯.০৬।

মনিরুজ্জামান ও ফরহাদ আহমেদের আরও অভিযোগ, এই নিবন্ধনের পর মাগুরায় এসে মাগুরা ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসাবে যোগদান করে মাসুদুল হক। এখনো সেখানেই কর্মরত আছেন। পাশাপাশি মাগুরা সদর হাসপাতালের পূর্বদিকে ১০তলা ভবন নির্মাণ করে বানিয়েছেন নিজস্ব ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট।

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়