Ameen Qudir

Published:
2018-11-24 10:58:15 BdST

বাংলাদেশের এক মা জয় করে নিলেন বিশ্ববাসীর হৃদয়




ডা. সদানন্দ ঘোষ
____________________

বাংলাদেশের এক মা জয় করে নিলেন বিশ্ববাসীর হৃদয়। এই জননীকে স্যালুট ; হাজারো সালাম; মা তুঝে সালাম।
একজন মাজননী যে কত অসীম শক্তিমতী , সর্বংসহা শক্তি তার মধ্যে , সারা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করলেন তিনি।

১৮ বছরের প্রতিবন্ধী সন্তানকে কোলে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর পর আজ বিশ্বের ১শ’ জন অনুপ্ররণাদায়ী মা ও প্রভাবশালী নারীর তালিকার ৮১তম স্থানে আছেন নেত্রকোনার সীমা সরকার।
অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষককুল কেউ বুঝতে পারে নি এই মায়ের শক্তি কত! তারা ফিরিয়ে দিয়েছিল এই মায়ের সুযোগ্য সন্তানকে। মায়ের শক্তি , লড়াই ধৈর্য ডাক্তার প্রতিদিনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরাভব মানে।
নতি স্বীকার করে মায়ের পদতলে তাদের অশিক্ষা কুশিক্ষার ভার নামিয়ে নিজেদের বোঝা হালকা করে। ছাত্রটিকে ভর্তি করে। সে কাহিনি এখন ইতিহাস। এই শক্তিমতী মায়ের নাম সীমা সরকার। সন্তানের নাম হৃদয় সরকার। এই সীমা ও হৃদয় এখন বাংলাদেশের হৃদয়। বাংলাদেশের হৃদয় থেকে আবারও অপরূপ রূপে বাহির হয়ে জয় করেছেন বিশ্ববাসীর হৃদয়।

ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মা’র তালিকায় অন্তর্ভূক্তি হওয়ায় আনন্দিত ও গর্বিত নেত্রকোনা এলাকাবাসীসহ তার পরিবার। প্রতিবন্ধী সন্তান হৃদয় সরকারকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সরকারি সহযোগিতা ও বিশ্বের সকল মাকে তার প্রতিবন্ধী সন্তানদের অবহেলা না করে তার মতো সেবা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানান শ্রেষ্ঠ মা সীমা সরকার।

নেত্রকোনা পৌর শহরের কুরপাড় এলাকার বাসিন্দা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমা সরকার ও সীমা সরকারের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শারিরিক প্রতিবন্ধী হৃদয় সরকার। অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর দৃঢ় মনোবল থাকলেই যে কোন অসাধ্যকে সাধন করা যায় তারই প্রমাণ করলেন মা ও ছেলে।

 

প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলে নিয়ে হাঁটছেন সীমা সরকার

 

মিডিয়ার তথ্যে জানা যায়,
মায়ের স্বপ্ন ছিল জম্মগত ভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হৃদয় সরকারকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা। শিশুকালে সকলের আদরযত্নে বড় হতে থাকলেও শৈশব থেকেই কোলে-পিঠে করে বহন করে নিয়ে যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার পর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কলেজ,কলেজ থেকে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান করে নিয়েছে সে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মায়ের কোলে উঠে অংশ নিয়ে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। সীমা তার ১৮ বছরের প্রতিবন্ধী সন্তানকে কোলে করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে নিয়ে যাওয়ায় এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

যার ফলে সম্প্রতি সারা বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের ১শ’ জন অনুপ্রেরণাদায়ী মা ও প্রভাবশালী নারীর তালিকা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। বিশ্বের ৬০টি দেশের ১৫ থেকে ৯৪ বছর বয়সী নারীদের নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এবার সেই তালিকায় ৮১ তম স্থানে আছে নেত্রকোনার সীমা সরকার। প্রতিবন্ধী সন্তান হৃদয় সরকারকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সরকারি সহযোগিতা ও বিশ্বের সকল মাকে প্রতিবন্ধী সন্তানদের অবহেলা না করে তার মতো সেবা করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানান হৃদয় সরকারের মা আলোচিত এবং গর্বিত শ্রেষ্ঠ মা সীমা সরকার।

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হৃদয় সরকার জানান, ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল আজ সেই সপ্ন বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চাই এবং আমার মা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মা’র স্বীকৃতি পাওয়ায় আমি গর্বিত। পড়াশুনা শেষে দেশের প্রতিবন্ধী অসহায় ও অসুস্থ মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সকলের নিকট আর্শিবাদ ও দোয়া চাইলেন এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী।

হৃদয় সরকারের বাবা সমীরণ সরকার বলেন মায়ের চেষ্ঠায় ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ায় এবং হৃদয়ের মা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মায়ের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় আমি আনন্দিত সেই আনন্দে আনন্দিত এলাকাবাসী। নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, মা ও ছেলের এমন সফলতায় স্থানীয় প্রশাসন গর্বিত ও আনন্দিত। সরকারী ভাবে করণীয় যেকোনো সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন একটি উদাহারণ হিসেবে তুলে ধরার মতো বিষয় হয়েছে সন্তানকে অনুপ্রেরণাদায়ী মা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মা’র স্বীকৃতি পাওয়া। আমি আশাকরি প্রতিবন্ধী অসহায় ও অসুস্থ কোন সন্তান এখন আর কারো অবহেলার পাত্র হবে না।

 

বিবিসির ১০০ বিশিষ্ট নারীর তালিকায় বাংলাদেশের সীমা সরকার

বিবিসির ১০০ বিশিষ্ট নারীর তালিকায় বাংলাদেশের সীমা সরকার
__________________

২০১৮ সালের ১০০ বিশিষ্ট নারীর যে তালিকা করেছে বিবিসি তাতে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের সীমা সরকার। বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট ও অনুপ্রেরণা পাওয়ার মতো কাজ করা নারীদের নিয়ে করা এই তালিকায় সীমা স্থান পেয়েছেন তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নিয়ে যাওয়ার সূত্র। বিবিসির ওই তালিকায় যেমন নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নোবেল পুরস্কারজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানীর, তেমনি নাম রয়েছে শরিয়া আইনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আগ্রহী বিচারক ও নারীদের যৌন সামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহী করতে কাজ করে যাওয়া অ্যাক্টিভিস্টের। তালিকায় আছেন ‘যিশু খ্রিস্টের বাগদত্তাও।’

২০১৮ সালের জন্য প্রস্তুত করা বিবিসির সেরা ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৬০টি দেশের ১০০ জন নারী। এদের ভেতর রয়েছেন ১৫ বছর থেকে শুরু করে ৯৪ বছর বয়সী নারীরা। বর্ণের ক্রমানুসারে করা তালিকায় সীমা সরকারের নাম রয়েছে ৮১তম স্থানে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোলে করে ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন সীমা। তার সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখান থেকে সংগ্রামী এই মায়ের গল্প উঠে আসে মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে। সীমা সরকারের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলের নাম হৃদয়। মায়ের কোলে চড়ে তিনি স্কুলের গণ্ডি পার করেছেন, কলেজেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়েও মা-ই তার ভরসা।

সীমা সরকার ছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে সোমালিল্যান্ডের নাগরিক নিমকো আলির। তিনি নারীদের খতনার বিরুদ্ধে কাজ করা একজন অধিকার কর্মী ও লেখিকা।

পেরুর ইসাবেল আলেন্দে স্প্যানিশ ভাষার সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইয়ের লেখিকা।

ইয়েমেনের বুশরা ইয়াহিয়া আল মুতাওয়াকিল দেশটির একমাত্র পেশাদার ফটোগ্রাফার যার তোলা ছবি আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় স্থান করে নিয়েছে। গিয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামেও।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রান্সেস আর্নল্ড ২০১৮ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

নেপালের উমা দেবী বাড়ি অছ্যুত হিসেবে গণ্য গোত্রের সদস্য। তিনি এই সামাজিক প্রথা ভাঙার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের বারবারা বার্টন কারামুক্ত হওয়া নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য তাদেরকে পোশাক ডিজাইনিংয়ের প্রশিক্ষণ দেন। তিনি নিজেও এক সময় জেলে ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাসি কানিংহ্যাম নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির ২২৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও নারী প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।

মিসরের শ্রৌক এল আত্তার একজন শরণার্থী এবং ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বেলি ড্যান্সের মাধ্যমে সমকামীদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

ভারতের মিনা গায়েন সুন্দরবন এলাকায় অবস্থিত তার গ্রামের নারীদের সঙ্গে মিলে ইটের রাস্তা নির্মাণ করেছেন।

ইতালির ফাবিওলা জিয়ানোত্তি একজন পদার্থ বিজ্ঞানী। তিনি সার্নের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা হায়েস একজন ‘চিরকুমারী।’ খ্রিস্টান ধর্মীয় বিধি মোতাবেক তিনি এখন ‘কন্সেন্ট্রেটেড ভার্জিন।’ যার অর্থ, তিনি যিশু খ্রিস্টের জন্য নির্ধারিত বাগদত্তা।
পাকিস্তানের কৃষ্ণা কুমারী দাস থেকে দেশটির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সিরিয়ার নুজিন মুস্তফা হুইল চেয়ারে করে হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। এখন তিনি প্রতিবন্ধী শরণার্থীদের অধিকারের পক্ষে কাজ করেন।
হেলেনা ডুমে নামিবিয়ার একজন চিকিৎসক যিনি ৩৫ হাজার জনের চোখে অস্ত্রোপচার করেছেন বিনামূল্যে।
জাপানের ইউকি ওকোদো নতুন একটি নক্ষত্র আবিষ্কার করেছেন।
ক্লদিয়া শেইনবম পার্দো মেক্সিকো শহরের প্রথম নারী মেয়র। তিনি পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
ভারতের রাহিবি সোমা পোপেরে বীজ ব্যাংক তৈরি করে আদবাসি এলাকায় শস্যের জাত সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার জন্য প্রশংসিত।
সেনেগালের ফাতেমা সামৌরা ফিফার প্রথম মহিলা সেক্রেটারি জেনারেল।

ইরানের শাপারাক শাজারিজাদেহ প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলে হিজাব পরিধানের আইন ভঙ্গ করেছেন। তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে, যদিও তিনি এখন নির্বাসনে রয়েছেন।

মালয়েশিয়ার নেনে শুশাইদাহ বিন্তি শামসুদ্দিন একজন বিচারক, যিনি তার আদালতে যাওয়া নারীদের সহায়তার চেষ্টা করেন। তার লক্ষ্য শরিয়া আইন সম্পর্কে থাকা ঋণাত্মক ধারনার পরিবর্তন ঘটানো।

সৌদি আরবের হায়াত সিন্দি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের প্রধান বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা।

আফগানিস্তানের নারগিস তারাকিকে মেয়ে শিশু হওয়ার কারণে একটি ছেলে শিশুর সঙ্গে বদলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তিনি পড়াশোনা শেষ করে এখন নারী শিক্ষার প্রসারে কাজ করছেন।

৯৪ বছর বয়সী হেলেন টেলর থম্পসন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন গুপ্তচর ছিলেন।

৮৮ বছর বয়সী গ্ল্যাডি ওয়েস্ট ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ (জিপিএস) তৈরিতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রশংসিত।

চীনের জিং ঝাও নারীদের যৌন সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে উৎসাহিত করেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জুলিয়া গিলার্ড এখন কাজ করছেন নারী শিক্ষার প্রসারে।

১৫ বছর বয়সী হেভেন শেফার্ড ভিয়েতনামের সাঁতারু। তিনি প্যারালিম্পিকে অংশ নিতে যাচ্ছেন। বাবা-মায়ের বিস্ফোরণ ঘটানো বোমার আঘাতে তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন।


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়