|

শুধু ডাক্তার কেন , মমতাজ, রুনা লায়লা ,ড:কামালের ফিও বলে দিন


Published: 2016-11-27 09:35:07 BdST, Updated: 2017-03-26 07:28:17 BdST

                        

 

 

 

ডা. আবদুন নূর তুষার


______________________________


এস এস সি, এইচ এস সিতে ভালো ফলাফল করার পর দেশের সবচাইতে কঠিন একটি ভর্তি পরীক্ষা পার হয়ে তাকে শুরু করতে হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়াশোনা।

 

এমবিবিএস হতে তাকে পাঁচ বছর জীবনপণ করে পড়তে হয়।

 

প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা দিয়ে , কঠিন পেশাগত পরীক্ষা দিয়ে সে ডাক্তার হবার পর ইন্টার্ণ করে একবছর।

 

এর মধ্যে এফ সি পি এস বা এম ডি করলে তার আরো লম্বা সংগ্রাম !

 

তারপর বেসরকারী খাতে তার সর্বোচ্চ বেতন ১৫ থেকে ২০ হাজার।

 

আর সরকারী বেতন ২৩ হাজার ১০০ যোগ বাড়ী ভাড়া ও অন্যান্য ...মোট বড়জোর ৩২ হাজার টাকা

 

টাকাটা অনেক মনে হচ্ছে?

 

ঢাকা শহরে একজন চিকিৎসক বাড়ী ভাড়া পাবেন মূল বেতনের ৫৫% , অন্য সিটি কর্পোরেশনে ৪৫% আর বাকি সব শহরে ৪০%।

 

সর্বোচ্চ ৯৬০০ টাকা। ঢাকা শহরে মেসে থাকা যায় এই টাকায়।

 

একজনেরই জায়গা নাই, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তানসহ, ডাক্তার কোথায় থাকবেন এই টাকা দিয়ে?

 

আর বেসরকারী খাতে বাড়ীভাড়া , চিকিৎসা ভাতা, কিছুই নাই। নাই বোনাস।

 

একটা নিয়োগপত্রও অনেক ক্লিনিক দেয় না।

 

ডাক্তারদের ভিজিট বা ব্যক্তিগত সম্মানী ধার্য্য করে দিচ্ছেন সরকার।

 

প্রাইভেট প্র্যাকটিস সবার সমান হয় না।

 

এটা অনেকটা গানের শিল্পীদের মতো।

 

সবাই গান গায় কিন্তু সবার জনপ্রিয়তা ও সম্মানী এক না।

 

কোন ডাক্তার যদি অতিরিক্ত পয়সা চান, রোগীরা তার সম্মানীর চাপ নিতে না পারলে তার প্র্যাকটিস কমবে।

 

তার চাহিদা কমে যাবে।

 

এটা সরকারীভাবে ধার্য্য করলে, সকল ব্যক্তিগত পেশাগত কাজের মূল্যও ঠিক করে দেয়া উচিত।

 

যেমন গানের শিল্পী মমতাজ আপা বা রুনা লায়লা কত টাকা নেবেন- বা একজন উকিল, ব্যারিস্টার রফিকুল হক বা কামাল হোসেন কত নেবেন- বা একজন স্থপতি খালিদ মাহমুদ পলাশ বা ইকবাল হাবিব কত নেবেন- সেটাও বলে দেয়া দরকার।

 

এটা ঠিক হবে না, কারণ এদের মতো মানুষ খুব বেশি নেই, এরা ইউনিক, একমে-বা- দ্বিতীয়ম !

 

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ডাক্তারদের চাকুরী, বেতন, সুবিধা বা দাবী দাওয়া নিয়ে গত ২০ বছর ডাক্তারদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিএমএ কি করেছে, তার বিবরন লিখতে বললে ডাক্তাররাই লজ্জা পাবেন।

 

আরো লজ্জা হলো, ভিআইপি রোগী হাসপাতালের বারান্দায় দাড়িয়ে মোবাইলে কথা বলার সময় জনৈক অধ্যাপক তার বুকে স্টেথো দিয়ে হৃদযন্ত্রের শব্দ শুনছেন, এমন ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।

 

চিকিৎসাবিদ্যার প্রাথমিক জ্ঞান আছে এমন লোকেরাও জানেন, রোগী কথা বলবে আর ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করবে বারান্দায়, এটা অমার্জনীয়।

 

এটা চিকিৎসাবিদ্যার অপমান।

যারা নিজেরা নিজেদের সম্মানের জন্য লড়েন না, তাদের জন্য অন্যরা লড়বে কেন ? সম্মানই বা দেবে কে ?

 

চিকিৎসকের সম্মান তলানীতে ঠেকেছে, এবার পাত্র ফুটা হয়ে শূণ্য হবার বাকি ।

____________________________

ডা. আবদুন নূর তুষার । সুলেখক। কলামিস্ট। জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক। গনমাধ্যম মধ্যমনি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।