|

সাইক্লিং এ সুস্থতা সারা জীবন


Published: 2016-12-20 21:25:38 BdST, Updated: 2017-09-21 07:29:15 BdST


ডাঃ এ.হাসনাত শাহীন

____________________________

 


একসময় সাইকেল চালাতে দেখা যেত গ্রামে-গঞ্জে আর মফস্বল শহরে। কিন্তু বর্তমানে শহুরে কিশোর কিশোরী আর যুব সমাজের মাঝে সাইকেল চালনা বেশ জনপ্রিয়। ছুটির মাঝে দলবেঁধে অনেকেই সাইক্লিংয়ে বেরিয়ে যান।অনেকে আবার অফিস অথবা প্রাত্যহিক কাজেকর্মেও নিয়মিত সাইকেল ব্যবহার করেন। সময় ও অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি এর রয়েছে স্বাস্থ্যগত নানা উপকারী দিক।
নিয়মিত সাইকেল চালালে আমাদের শরীরের পেশী সুগঠিত ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। অস্থি-সন্ধি সবল হয়। ফলে আর্থাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। সাইক্লিংয়ে স্ট্যামিনা বৃদ্ধি পায়। সকালে যদি আধঘণ্টা সাইকেল চালাতে পারেন, তাহলে সারাদিনের কাজে এনার্জি পাবেন। সঙ্গে মুডও থাকবে ভালো। তবে সাইকেল চালাতে হবে নিয়মিত।
বৃটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনের এক গবেষণায় বলা হয়, ঘণ্টায় ২০ কিমি. গতিতে সাইকেল চালালে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ ক্যালরি শক্তি খরচ হয়। এই বিপুল শক্তি খরচ হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই ওজন কমে আসে।বাড়ে মেটাবলিজম বা বিপাকের হার।নিয়মিত সাইকেল চালালে তাই টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
যাদের ডায়াবেটিস মেলাইটিস আছে তারা নিয়মিত ব্যায়াম করলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। সাইক্লিং একটি ভালো ব্যায়াম। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সাইক্লিং তাই বেশ উপকারী।
নিয়মিত সাইকেল চালনা হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং রক্তচাপের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ায় , তাই হার্ট ভালো থাকে। ওজন কমার পাশাপাশি রক্তের মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমান কমাতে ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে। হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতেও সাইক্লিংয়ের ভূমিকা রয়েছে।
খোলা আকাশে ফুরফুরে বাতাসে সাইকেল চালালে মনটাও ফুরফুরে হয়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো একটি উপায় হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সাইক্লিং সহায়ক।
সাইকেল চালানোর সময় কিছু সতর্কতা, যেমনঃ মাথায় হেলমেট,কনুই ও হাঁটুতে বেষ্ষ্টনী পরিধান করা,অতিরিক্ত ঢিলাঢালা কাপড়চোপড় পরিধান না করা, ব্যস্ত রাস্তায় না চালানো প্রভৃতি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সঠিক পদ্ধতিতে সাইকেল চালানো জরুরি। অবশ্যই - চালানোর আগে ওয়ার্ম-আপ করে নিবেন, অন্তত পক্ষে ১৫-২০ মিনিট যদি একই গতিতে চালাতে পারেন, তা ৫ মিনিট খুব জোরে চালানোর থেকে ভালো। আর এই গতি ধীরে ধীরে বাড়ানোর চেষ্টা করলে আরো ভালো। প্রতি ২০ মিনিট চালানোর পর ৫ মিনিট হালকা গতিতে চালিয়ে বিশ্রাম নেয়া ভালো।

____________________________

লেখক
ডাঃ এ.হাসনাত শাহীন
ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, বি আই এইচ এস জেনারেল হাসপাতাল

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।