|

উত্তম জীবন:১০টি গাইড লাইন


Published: 2016-12-08 13:26:35 BdST, Updated: 2017-02-24 02:42:11 BdST

 

 

অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম
___________________________


১। আশাবাদের চাষাবাদ(cultivate hope): আশাবাদী হওয়া:
আশার বাগান যেন ফুলে-ফলে ভরা থাকে
.............................
আশা বা ভরসা হচ্ছে কাঙ্খিত কোন কিছুর ব্যাপারে প্রত্যাশা করা।

আশাবাদী হলে ভবিষ্যতের আনন্দ- সুখের ব্যাপারে মনে পূর্ব অনুমান কাজ করে ও সে বিষয়টি অর্জন করতে পারার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে বিশ্বাস জন্মে।

মনো বিজ্ঞানী এরিকসন তার " মানব জীবন বিকাশ" যে তত্ব দাঁড় করেছেন তার ভিত্তিমূল ছিল এই "আশা"।

শিশুর এই আশা প্রাপ্ত বয়সের " বিশ্বাসের" জন্ম ভূমি।

মানব জীবনে " আশা" ও " বিশ্বাস" হচ্ছে নিয়ামক শক্তি

আশা মনের ক্ষত নিরাময়ে ভূমিকা রেখে থাকে; মনে শক্তি,সাহস জোগায়; সার্বিক ভালো লাগা বোধ সৃষ্টি করে,; যা শারিরীক- মানসিক উভয়বিদ অসুস্হতা থেকে আরোগ্য লাভে আমাদের সমর্থ করে তোলে।

যে ডাক্তারের উপর মানুষের আস্হা রয়েছে তিনি যে ঔষধই দেন না কেন, অনেকে তাতে সুফল পান।একে আমরা বলি placebo effect।

এর মূল কারন রোগীদের আশাবাদ যে দক্ষ,অভিজ্ঞ ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন তাই তিনি ভালো হয়ে যাবেন।

পীর,কবিরাজী,টোটকা ঔষধে ভালো হওয়ার কারনও এই বিশ্বাস বা আশাবাদ।

ধর্ম বিশ্বাস অকল্পনীয় ঘটনা ঘটাতে পারে

বিশ্বাসের শক্তি "অবিশ্বাস্য"

সঙ্কটের সময় আশাবাদ আমাদেরকে:

সমস্যার চতুর্দিক সঠিক ভাবে দেখতে সাহায্য করে এবং এ সব সঙ্কট,হতাশা,যন্ত্রনা সত্বেও যতটুকু সম্ভব পূর্ন ভাবে জীবন যাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

গবেষনায় দেখা গেছে, যারা আশাবাদী:

তারা অন্যদের তুলনায় কমই জীবনের চাপে-তাপে পুড়তে পুড়তে নিঃশেষ হয়ে যায়(burn-out);বন্দি জীবনকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে; গুরুতর ও মারাত্মক রোগ ব্যাধী মোকাবিলা করতে সহায়ক হয়; এমনকি জাহাজ ডুবি মানুষকেও উজ্জীবিত রাখে এই " আশাবাদ"।

এক কথায় জীবনের বড় বড় সঙ্কট,বাধা অতিক্রম করতে আশাবাদ আমাদের সামর্থ্য জোগায়।

অনেকে ছোট বেলা থেকেই আশাবাদী, তারা জন্ম সৌভাগ্যবান।অনেকে জন্ম আশাবাদী নন।আবার কেউ কেউ জীবনে এমন ভয়ঙ্কর,নৈরাশ্যজনক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন যে তাদের আশাবাদের ভিত্তিমূল গুড়িয়ে যায়,তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পরেন।
তাই আমাদেরকে আশাবাদের " চাষাবাদ" করতে হবে
এবং

আশাবাদ অর্জন করা যায়।
কি ভাবে:

মানসিক চাপ- পীড়নের নেতিবাচক দিকগুলো যতটএকু সম্ভব কমিয়ে রেখে; বিষয় বস্ত্বটিকে অধিকতর ইতিবাচক আলোকে দেখে; এবং এ বিশ্বাস দৃড় ভাবে মনে রেখে যে

যে কোন ভাবেই হোক আমরা টিকে যাবো,জয়ী হবো।

তবে জীবনে কখনো কখনো অতীব নিষ্ঠুর,নির্মম ঘটনাও ঘটে, যখন হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।
তখন আমাদের মনে হতে পারে যে স্রষ্টা এমন নিষ্ঠুর কেমনে হতে পারে।বিশ্বাসের সকল ভিত তখন ভেঙ্গে পরতে পারে।

রাব্বী হেরল্ড কুসনার তার "when bad things happen to good people" বইতে এ রকম কষ্ট যন্ত্রনার মধ্যেও বিশ্বাস বজায় রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কুসনার বাইবেল থেকে উদ্বৃতি দেন " আমার সাহায্য আছে মহা প্রভু থেকে,যিনি আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন। "
কুসনার বলেন এখানে বলা হয়নি " আমার দুংখ,কষ্ট মহা প্রভু থেকে এসেছে"। বরং বলা হয়েছে " আমার সাহায্য আছে প্রভু থেকে"।

তার মানে স্রষ্টা কখনো সৃষ্টির অকল্যান করেন না বরং কল্যান করে থাকেন।

তাই ধর্মীয় বিশ্বাস:
আমাদের মন- মননকে সবল, দৃড় রাখে;
এ সব ট্রাজেডি আমাদের জীবনকে যে ভাবে সঙ্কোচিত করেছে বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে সে গুলো মেনে নিতে সাহায্য করে;
তারপরও যে সব ভালো কিছু এখনো রয়েছে সেগুলোকে যথাযথ ও সঠিক ভাবে মূল্যায়নে সাহায্য করে।
# আশার বাগান যেন শুকিয়ে না যায়

গাইড-২:
নতুন অভিজ্ঞতা থেকে সুযোগ গ্রহন করা(take opportunities from new experiences):

আমাদের বিকাশ অব্যাহত থাকে নিত্য দিনের নতুন/অভিনব ধরনের অভিজ্ঞতা সমূহকে শক্ত করে আকড়ে ধরার উপর ভিত্তি করে।

প্রাথমিক স্কুল থেকে প্রতিটি পরীক্ষায় আমরা নতুন কিছু শিখি।
কৈশোরকাল হচ্ছে একটি সম্পূর্ন নতুন,আনকোরা জীবন।
অনেক কিছুই তখন তরতাজা চ্যালেন্জ।

যতবার আমরা একেকটি চ্যালেন্জ অতিক্রম করে ওস্তাদি দেখাতে পারি,ততবারই আমরা জীবনের সামনে এগিয়ে যাই

আরো আনন্দ ও সৃজনশীলতার সঙ্গে

কেউ সহজাত ভাবে অধিকতর ঝুকি নিতে তৈরী থাকে;
আবার অন্যরা হয়তো থাকে ভীত,শঙ্কিত( কোন মহিলা হয়তো ৫৫ বছর বয়সেও নতুন কোন নাচ শিখতে উল্লসিত আগ্রহ দেখায়)।

অনেকেই স্হবির,নিশ্চল, নিষ্ক্রিয়,নিরুদ্যম জীবনে আটকে থাকেন।

অথচ নতুনের প্রতি, অগ্রসরমানতার প্রতি, প্রগতি,আধুনিকতা ও বিজ্ঞান মনস্কতার প্রতি চিত্ত,মন উন্মুখ থাকলে:

জীবন আরো সমৃদ্ধ হতে পারে;
আরো বর্নিল,উজ্জ্বল,আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে।
কারন :
এতে আমাদের অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়,পূর্ন হয়;
আমরা আরো দক্ষ,পরিশীলিত,প্রাজ্ঞ হয়ে উঠি।

ফলে জীবনের ঘাত- প্রতিঘাত, চাপ- পীড়নকে মোকাবেলা করা সহজ হয়।

যে সব ভিন্ন ধর্মী ও চ্যালেন্জিং সেগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনকে ভিন্ন ভাবে দেখার, বোঝার,জানার ও জয় করার পথ দেখায়।

জীবনে চ্যালেন্জ, বিপদ, বাধা,প্রতিরোধকে মোকাবিলার মাধ্যমে, আমরা অপ্রীতিকর পরিস্হিতির ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও অনুভূতির জন্ম হয় সেগুলেকে ভালো ভাবে ম্যানেজ করতে শিখি।


_________________________

 

লেখক অধ্যাপক ডা . তাজুল ইসলাম
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।
সুলেখক। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের নিয়মিত কলামিস্ট

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।