Ameen Qudir

Published:
2018-03-29 11:46:45 BdST

ওসিডিকে করব জয় প্রত্যয়ে নোয়াখালি মেডিকেল কলেজে সেমিনার হলো বিপুল অংশগ্রহনে



ডাক্তার প্রতিদিন
______________________

নীরবে মহামারীর মত বেড়েই চলেছে অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি নামের রোগটি। আমরা অবহেলা করছি। নিজেরা ওসিডি রোগীদের সঙ্গে নানারকম অসচেতন আচরণ করে এই রোগকে যেমন প্রশ্রয় দিচ্ছি; তেমনি রোগীর প্রতিও যথাযথ আচরণ করছে না আত্মীয়স্বজন। দেয়া হচ্ছে না সঠিক চিকিৎসা। ওসিডি নিয়ে নানা ভ্রান্তি নিরসন , সচেতনতায় স্বাস্থ্যসেবীদের উদ্বুদ্ধকরণ করার লক্ষেই বাংলা দেশের শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ওসিডি ক্লিনিকের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ , হাসপাতাল সহ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অক্লান্ত ঘুরে চলেছেন ওসিডি প্রতিরোধ মটিভেটর ডা. সুলতানা আলগিন। আয়োজন করা হচ্ছে সচেতনতা ও নীরব মহামারী প্রতিরোধ কল্পে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম।
২৮ মার্চ ২০১৮ এ বুধবার এক অংশগ্রহনমুখর সেমিনার হল নোয়াখালী জেলার চিকিৎসা ভরসা আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ,বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যসেবীরা এতে অংশ নেন


প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ,বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যসেবীরা এতে অংশ নেন।
এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মীর হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কলেজের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডা. আবু নাসের। সাধারন সম্পাদক ডা. হরিভূষণ সরকার। সহসভাপতি ডা. বিমল চন্দ্র দাস।
সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
এবং ওসিডি ক্লিনিকের কনসালটেন্ট ডা. সুলতানা আলগিন ।
সেমিনার পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নে একাডেমিক ডিসকাশনে অনুষ্ঠান প্রানবন্ত ও সচেতনতাসহায়ক হয়ে ওঠে।
ডা. সুলতানা আলগিন নিজে এবং ওসিডি ক্লিনিক টিম সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 ডা. সুলতানা আলগিন

 

আসুন “ওসিডি” রোগটিকে চিহ্নিত করি। জানি। মানি এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নিয়ে সমাজকে নীরব ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা করি।
_______________

কতগুলো কমন অজুহাত আছে ।

যেমন *একটু ভাল বোধ করলে ওষুধ আনার কেউ ছিল না বা পাওয়া যায় নাই বা *আপনার কাছে আসার সময় হয়ে গেছে তাই নতুন কোন ওষুধ যদি দেন আর কেনা হয় নাই। প্রেসক্রিপশনে লেখা আছে কোন ওষুধ চলবে কোনটা কতদিন পর বন্ধ হবে তারা কেউ একবারও চোখ বুলায় না বা কাউকে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করে না। আবার ওষুধ বাজারে কিনতে গিয়ে হারিয়ে ফেলা নিয়মিত একটা ব্যপার। অথচ প্রথম দিনের ইন্টারভিউটা যে কত প্রয়োজনীয় বুঝতে চায় না।


ওসিডি একটা ক্রনিক রোগ। মানসিক চাপের কারনে রোগের বাড়তি কমতি থাকবে । ধৈর্য ধরে ওষুধ খেতে হবে। নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে।
__________________________

কিছু দরকারি পরামর্শ
বি:দ্র: সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্যের একটা ছোট তালিকা দেয়া হলো। এসব খাবার আমাদের দেশে সবখানেই পাওয়া যায়। তবে কারও যদি কোন খাবারে নিষেধ থাকে তবে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্যান্য আইটেম আপনার প্রতি বেলার খাবারে রাখতে পারেন। ওষুধের পাশাপাশি এসব সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্য আপনার শরীরে সিরোটনিনের চাহিদা মিটাবে ।
আমিষ জাতীয় খাদ্য:মাংস,কলিজা,ডিম ,দুধ ও দুধ জাতীয় দ্রব্য, সামুদ্রিক মাছ
ফলমূল :পাকা কলা,আনারস, খেজুর, বাদাম, আম,আঙ্গুর,এ্যাভোকেডো
শাকসব্জি: পালং শাক,পুইশাক,বেগুন, শিম জাতীয় বীজ,ফুলকপি, ব্রকলি, টমেটো, মাশরুম

____________________

প্রিয় সুজন ,
আপনি কি অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি) বা শুচিবাই রোগে
ভুগছেন ?

একটু সময় দিতেই হবে আপনাকে আপনার ও সকলের স্বার্থে। প্রশ্নগুলো পড়ুন অনুগ্রহ করে।

১।আপনি কি অতিরিক্ত ধোয়া-মোছা করেন অথবা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন?
২।আপনি কি কোন কিছু অতিরিক্ত চেক/ যাচাই-বাছাই করেন?
৩। আপনার মাথায় কি কোন অপ্রীতিকর/ অনাকাঙ্খিত চিন্তা আসে ? যা কিনা আপনি চাইলেও মাথা থেকে সহজে বের করতে পারেন না ?
৪।আপনার কি দৈনন্দিন কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়?
৫। আপনার মধ্যে কি আসবাবপত্র, বই খাতা, কাপড়-চোপড় অথবা যে কোন জিনিস নির্দিষ্ট ছকে গুছিয়ে রাখার প্রবণতা আছে ?

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর যে কোন একটির উত্তরও যদি হ্যাঁ বোধক হয় তবে মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন ।ভুক্তভোগীদের ওসিডি ক্লিনিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় প্রতি মঙ্গলবার , সকাল ১০টা থেকে ১টায় অাসার অনুরোধ রইল।
এ জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার আউটডোরের মাত্র ৩০ টাকার টিকেট নিতে হবে।

লেখার সৌজন্য

ওসিডি ক্লিনিক । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। প্রতি মঙ্গলবার ।


মন জানে এর জনপ্রিয়