Ameen Qudir

Published:
2017-09-11 10:39:46 BdST

ওসিডি ডায়েরী ১১" কোন সম্ভ্রান্তলোককে দেখলে জোরে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করে"






ডা. সুলতানা আলগিন

___________________________________

ত্রিশের কোঠায় ছেলেটির বয়স। বেশ ইন্টেলিজেন্ট । অস্থির ভাব। নড়াচড়া করছে । চুলে হাত দিয়ে আচড়ানোর চেষ্টা । কথায় কথায় জানালো সে ব্রোকেন ফ্যামিলি ছেলে । এখন সে বোঝে যে তার মা ওসিডি রোগী হওয়াতে সংসারে খাপ খাওয়াতে পারে নাই। এখন নিজেও সে একই রোগে ভুগছে । মায়ের কষ্ট সে বুঝতে পারে। আর সেরকম না বলা কষ্টও তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
জিজ্ঞাসা করলাম কি করছ ? কি সমস্যা তোমার ?


পড়াশোনা অনেক কষ্ট করে শেষ করেছে । কিন্তু চাকরী বাকরী যোগাড় হচ্ছে না । সংসারের দায়িত্ব নিতে পারছে না।
সে বলল কি ভাবে এগুবো ? রাস্তায় বের হলে রিকশায় উঠতে হয় । গাড়ীতো আর নাই। পাবলিক বাস রিকশা টেম্পো--- এগুলোই ভরসা। ছোটবেলায় কৃমির অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তারপর থেকে যখনই রিকশায় উঠি দেখি রিকশাওয়ালারা লুঙ্গী পরে কিন্তু কোন আন্ডারওয়্যার পরে না। কেমন ছড়িয়ে বসে আলাপ করে। মাঝেমধ্যে পা ছড়িয়ে ঘুমও দেয়। অমি যখন রিকশায় চড়ি মনে হয় ওদের কৃমি সীটে ছড়িয়ে যায় । এতে আমি আবার আক্রান্ত হবো। সেজন্য কোনমতে কাজ শেষে বাসার দিকে উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াই। রিকশাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে দিয়েই বাসায় ঢুকে কাপড়চোপড় নিয়ে বাথরুমে গোসল করতে যাই।


ছেলেটি বলছিল,

কোনভাবেই বাইরের কাপড় ঘরের কিছুতে যেন না লাগে সে ব্যপারে সচেষ্ট থাকি।। বাসায় কোন রিকশায় চড়া অতিথি আসলে তাদের জন্য কাপড়ে ঢাকা সোফা চেয়ার আছে সেখানে বসতে দেই। চলে গেলে কাপড়গুলো তুলে ধুতে দেই। অনেক সময় সম্ভব না হলে নিজেও কাপড় বিছিয়ে বসি।
সে আরও বলল কোন গন্ধ,নোংরা পানি ঘর্মাক্ত লোক দেখলে আমার প্রচন্ড অস্বস্তি হয়। আমার বিছানায় কেউ যদি ঘুমায় দেখি কোথাও কোন লালার ভিজা দাগ ,চুল পড়ে আছে কিনা,কোন গন্ধ লেগে আছে কি না তা আগে তা চেক করি। বুঝি এসব বাড়াবাড়ি ।অথচ না করে থাকতে পারি না।

লিফটে বাসে উঠলে ঘর্মাত লোকদের দেখলে বমি চলে আসে। পকেটে ম্যনথল/ ভিনেগার লোশন রাখি। এসব করে আমিতো নিজের পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা চালাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছি।


এ পর্যন্ত হলেতো ভাল হতো। ম্যডাম কি বলব ।যে কোন সম্ভ্রান্তলোককে দেখলে জোরে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করে। ইন্টারভিউবোর্ডে বসে আমার এরকম চিন্তা আসে। তখন কিভাবে ভাল পরীক্ষা দিব আপনিই বলেন? নামাজের রাকাতে দাড়ালে সামনের লোককে মনে হয় লাথি মারি। কাচের দরজা,জানালা আয়না দেখলে মনে হয় ভারী কিছু ছুড়ে মারি।যখন ছাত্র ছিলাম যে স্যারের লেকচার পছন্দ হতো না তাকে কলম ছুড়ে মারতে ইচ্ছে হতো। তাই সেই স্যারের ক্লাশে আমি কলম ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখতাম। বের করতাম না। যে কোন জায়গায় কারও ব্যবহার অপছন্দ হলে আমি এমন অঙ্গভঙ্গি করি যেন ওকে আমি কিলঘুষি মারছি। কিন্তু তার থেকে আমি অনেকখানি দূরে দাড়িয়ে এসব করি। কিছুতেই এসব থামাতে পারছি না।

আমিতো ঘরে বাইরে সব জায়গায় প্রচন্ড সমস্যায় আছি। ম্যডাম আমার মায়ের মত আমার জীবনটাও কি নষ্ট হয়ে যাবে ?

 

ছেলেটির চিকিৎসা কি !
_________________________


তার এই আকুল জিজ্ঞাসার উত্তর শুধু একটাই-- নিয়মিত চিকিৎসা নেয়া। একমাত্র ওষুধই তার এই লক্ষণগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে । তার এই অস্থিরতা ইমপাল্সিভিটি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার কোন বিকল্প নাই। আর যেহেতু তার মায়েরও এই রোগ আছে এব্যপারে তার কোনরকম গাফিলতি হবে চরম বোকামি। সুস্থ জীবন যাপন করতে সঠিক চিকিৎসা সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্য,শৃঙ্খখলাপূর্ণ জীবন কাম্য।

 

বি:দ্র: সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্যের একটা ছোট তালিকা দেয়া হলো। এসব খাবার আমাদের দেশে সবখানেই পাওয়া যায়। তবে কারও যদি কোন খাবারে নিষেধ থাকে তবে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্যান্য আইটেম আপনার প্রতি বেলার খাবারে রাখতে পারেন। ওষুধের পাশাপাশি এসব সিরোটনিন সমৃদ্ধ খাদ্য আপনার শরীরে সিরোটনিনের চাহিদা মিটাবে ।
আমিষ জাতীয় খাদ্য:মাংস,কলিজা,ডিম ,দুধ ও দুধ জাতীয় দ্রব্য, সামুদ্রিক মাছ
ফলমূল :পাকা কলা,আনারস, খেজুর, বাদাম, আম,আঙ্গুর,এ্যাভোকেডো
শাকসব্জি: পালং শাক,পুইশাক,বেগুন, শিম জাতীয় বীজ,ফুলকপি, ব্রকলি, টমেটো, মাশরুম ।

_______________________

 

 

 

 

প্রিয় সুজন ,
আপনি কি অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (ওসিডি) বা শুচিবাই রোগে
ভুগছেন ?

 

একটু সময় দিতেই হবে আপনাকে আপনার ও সকলের স্বার্থে। প্রশ্নগুলো পড়ুন অনুগ্রহ করে।

 

১।আপনি কি অতিরিক্ত ধোয়া-মোছা করেন অথবা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন?
২।আপনি কি কোন কিছু অতিরিক্ত চেক/ যাচাই-বাছাই করেন?
৩। আপনার মাথায় কি কোন অপ্রীতিকর/ অনাকাঙ্খিত চিন্তা আসে ? যা কিনা আপনি চাইলেও মাথা থেকে সহজে বের করতে পারেন না ?
৪।আপনার কি দৈনন্দিন কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়?
৫। আপনার মধ্যে কি আসবাবপত্র, বই খাতা, কাপড়-চোপড় অথবা যে কোন জিনিস নির্দিষ্ট ছকে গুছিয়ে রাখার প্রবণতা আছে ?

 

 

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর যে কোন একটির উত্তরও যদি হ্যাঁ বোধক হয় তবে মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন ।ভুক্তভোগীদের ওসিডি ক্লিনিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় প্রতি মঙ্গলবার , সকাল ১০টা থেকে ১টায় অাসার অনুরোধ রইল।
এ জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার আউটডোরের মাত্র ৩০ টাকার টিকেট নিতে হবে।

 

লেখার সৌজন্য

ওসিডি ক্লিনিক । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। প্রতি মঙ্গলবার ।
____________________________

 

ডা. সুলতানা আলগিন । সহযোগী অধ্যাপক , মনোরোগবিদ্যা বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।


মন জানে এর জনপ্রিয়