|

মেডিসিন পাঁচ মাস, সার্জারি পাঁচ ঘন্টা আর আমরা পাই পাঁচ মিনিট


Published: 2017-01-09 10:59:23 BdST, Updated: 2017-01-20 05:30:43 BdST

 

ডা. নিবেদিতা নার্গিস পান্না
_________________________


পনের বছরের সাতকাহন দ্বিতীয় পর্ব______
৩।ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে তোমরা কি কেউ দেখেছ- বাঘ কেমন করে তাঁর শাবকের ঘাড়ে ধরে ক্ষিপ্র গতিতে দৌড়ায়? ঘাড়ে দাঁত কামড়ে ধরাটা শিথিল হলে যেমন বাচ্চার জীবনের ঝুকি, একটু বেশি শক্ত কামড় দিলে ঠিক তেমনি জীবন বিপন্ন হয় । অজ্ঞান করবার বিদ্যাটি ঠিক এমনি।
মেডিসিনের স্পেশালিষ্ট রোগ ভাল করবার জন্য কমপক্ষে পাচমাস সময় পান, সার্জারির ডাক্তার সময় পান পাঁচ ঘণ্টা আর আমরা পাই মাত্র পাঁচ মিনিট। পাঁচ সেকেন্ডের অসাবধানতায় ঘটে যেতে পারে নিশ্চিত মৃত্যু। উন্নত বিশ্বে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় একজন এনেস্থেসিয়ার কনসালটেন্টকে।
এসব শুনে শুনেই এই বিষয়ে পড়াশুনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব শুনে শুনেই একনিষ্ঠতায় নিজেকে এই টেকনিকে পারদর্শী হতে সম্পৃক্ত করেছি। আমি আমাকে এই ককপিট ড্রিলে পাইলট হিসেবে দেখতে পছন্দ করি। এঞ্জয় করি টেক অফ এবং সফল অবতরণ। জীবন মরনের এক অপূর্ব খেলা।

 


আমার ডিপার্টমেন্টকে আমি দেখি একটি পরিবারের মতন। আমাদের চাইতে বড় অন্য কোন ডিপার্টমেন্ট অ্যাপোলোতে নেই। আমাদের লাউঞ্জটার পরিবেশ এক্কেবারে সবথেকে আলাদা। আমাদের কফি ক্লাব, আমাদের একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া আর খুনসুটি অনেকেই ঈর্ষার দৃষ্টিতে দেখেছে। আমাদের সকাল দুপুর বিকেল রাতের বহু মজার কাহিনী এখানকার ইটে ইটে গাঁথা। এই হই হুল্লোড় আমি কখনোই ভুলবো না।
মাঝে মাঝেই আমরা ইকবাল স্যারের বাসা সংলগ্ন রেস্টুরেন্টে ফ্যামিলি গেট টু গেদার করেছি। বেড়াতে গেছি হাসিনা, পুস্প, নাহিদ আপা, আছিয়া আপা, সিজান স্যারের বাসায়। অনেক আনন্দ কুড়িয়েছি আর ভেতরে রেখে দিয়েছি সেসব সুখস্মৃতি।
দল বেঁধে একবার ঘুরতে গেছি বান্দরবন। সোসাইটির এই প্রোগ্রামে আমরা সাতজন গিয়েছি। শ্যামল, জাহিদ, ফেরদৌস, লিটন, আহসান, হাসিনা আর আমি। নীলগিরি, স্বর্ণ মন্দির আর চিম্বুক পাহাড়ে আমাদের কিছু অপূর্ব সময় কেটেছে। আরেকবার গিয়েছি কুমিল্লা বার্ডে। এছাড়াও তিনবার পিকনিকের গল্পও শোনাবো তোমাদের। আজকের মতন আমার সাতকাহন এখানেই শেষ করি।

 


৪। আমার ভালবাসা কিছুতেই কমে না, বরং বাড়ে দিন দিন প্রতিদিন। অদুর ভবিষ্যতে পৃথক পরিকল্পনায় তাঁদের নিয়ে লিখব- কথা দিচ্ছি। যারা আমাকে ছেড়ে গেছে তাঁদের কথা আগে লিখব। তারপর লিখব- তাঁদের কথা; যাঁদের ছেড়ে যাবো আমি। এক এক পর্বে এক এক জনের জন্য রচিত হবে এক একটি কাহন। আমি কিছুই হারাইনি এ কর্মজীবনে। সবকিছু সঙ্গে নিয়েই আমি আগামীর পথ খুঁজি, সকলকে সঙ্গে নিয়েই আমি অন্তরে গাঁথি সুগন্ধি বকুলের মালা। আজকে এই পর্বে তোমাদের নিয়ে যাবো অ্যাপোলোর ছোটো বড় পিকনিকের দৃশ্যপটে।
অ্যাপোলো হাসপাতালের কলিগদের নিয়ে প্রথম পিকনিক করি এক্কেবারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। সাত গাড়িতে দশ পরিবার মিলে প্রথম যাই গাজীপুর। আমাদের বাচ্চারা তখন কত্ত ছোট ছিল। সেখান থেকে যাই ভালুকায় বিকন প্লান্ট এ। সে এক মজার বীকনের গেস্ট হাউজ খুব চমৎকার। দিনভর খেলাধুলা করেছে সব্বাই। পানিতেও নেমেছে বাচ্চারা। জাহিদের যাদু দেখে তো ওরা থ!

 


দ্বিতীয় পিকনিকের আয়োজন করে হাসিনা আর সুমনা মিলে। টিপু মুনসীর তৈরি বৃদ্ধাশ্রম( নির্মাণাধীন) আর তাঁর বাংলোর চারপাশে বিশাল এলাকায় এত অদ্ভুত কিছু স্থাপত্য! আমি ইন্ডিয়া যাবার অল্প কদিন আগের সেই পিকনিক এতসব উপাদানে সমৃদ্ধ ছিল। বাচ্চাদের বিস্কিট দৌড়, মেয়েদের পিলো পাসিং- খুব জমেছিল। ছিল আকর্ষণীয় সব পুরস্কারের উৎসব। দিনভর আনন্দ করে আমরা হৃষ্টচিত্তে ফিরে আসি যে যার আলয়ে। তৃতীয় আয়োজনে ছিল দুটি পর্ব। প্রথমে যাই বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে। সেখান থেকে আসি গাজীপুরের এক রিসোর্টে। সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে দায়বদ্ধতা, বেড়েছে কাজের পরিসর। এর মাঝেই এক আধটু বিনোদন এনে দিয়েছে বৈচিত্র্য।
এরই ধারাবাহিকতায় ঘুরে এসেছি কলিগদের নিয়ে। আসিয়া আপা, জুল কিফ ল স্যার, আজহার স্যার, নোমান ভাই, হাসিনা আর আমি রওনা হই সকাল সাড়ে সাত টায়। গন্তব্যে পৌঁছই সাড়ে দশটায়। তৈরি হচ্ছে মাওনার কাছাকাছি সখিপুরে সিজান স্যারের চমৎকার বাংলো। চারপাশ দেখে মুগ্ধ হই। খিচুরী, ডিম আর মুরগীর মাংসের ভুনা তৃপ্তি সহকারে খেয়েছি। যেতে আসতে সময় লাগলেও ওখানকার মনকাড়া দৃশ্য দেখে আমরা বেশ খুশিমনেই ঘরে ফিরেছি।

___________________________________

লেখক ডা. নিবেদিতা নার্গিস পান্না

Consultant ,Sheikh Fazilatunnessa Mujib Memorial KPJ Specialised Hospital
Past: Apollo Hospitals Dhaka and Mymensing medical College, Dhaka Medical college

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।