Ameen Qudir

Published:
2017-01-04 11:27:45 BdST

প্রেগন্যান্সীতে পারিবারিক হিংস্রতা


 

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী
_________________________

সেদিন করনীয়টা করতে পারিনি বলেই হয়ত ঘটনাটা আজ ও মনে দাগ কেটে আছে।সেবার মাত্র এস এস সি দিয়েছি।দিনভর টিভি দেখা,রাত ভর উপন্যাস পড়া আর বেলা করে ঘুমোনো!!
ঐদিন বেশ সকালে হৈ চৈ চিৎকার চেচামেচিতে ঘুম ভাঙ্গল!ঘটনাটা এই।


আমাদের বাসার সামনের প্লটটা বাদ দিয়ে যে বাসা ওখানে কিছু মাস হলো ভাড়াটিয়া এসেছিল।নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার।ভদ্রলোক চাকরী করেন।দুটো বাচ্চা,সন্তান সম্ভবা স্ত্রী।উনি একটু বাল্কি ছিলেন।

বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে ভদ্রমহিলার ছোট ভাইয়ের বউ এসেছিল মাসখানেক আগে।তারপর যা হয়।শ্যালক বউয়ের সাথে ভদ্রলোকের একটা অনৈতিক সম্পর্ক তৈরী হয়।সবথেকে বিশ্রী ব্যাপার ছিল,যে বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য উনার স্বামী শ্বশুরবাড়ীর সকলে ওনাকে এখানে পাঠালেন সেই বাচ্চাদের সামনেই উনি ননদ জামাইয়ের সাথে গর্হিত কাজে লিপ্ত হন এবং বড় বাচ্চাটি তা মাকে বলে দেয়।


ভদ্রমহিলা ঐ শারিরীক অবস্থায় প্রচন্ড মানসিক কষ্ট পেয়েও শক্তি সঞ্চয় করেন,,যতদূর মনে পরে হাতে নাতে ধরে ফেলেন এবং প্রতিবাদ করেন।এখন আর উনাকে ভদ্রলোক বলছি না।ঐ পাষন্ড টা তখন বাঘের মুখ থেকে অন্ন কাড়ার মত পাগলের মত আচরন শুরু করে।প্রথমে অস্বীকার! পরে স্বীকার করে কিন্ত স্ত্রীকে খুব মারে।


আমার এখন ও মনে আছে।মহিলা এবং বাচ্চারা খুব কাঁদছিল।প্রেগন্যান্সির শেষের দিক।মহিলা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।পরে শুনেছি এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়।দুদিনেই ওরা বাসা ছেড়ে চলে যায়।আর খোঁজ জানি না।কিন্তু ঐ সকালটা একটা ব্যথার স্মৃতি হয়ে আমার মনে আছে।


আমার দুর্ভাগ্য।প্রেগন্যান্সীতে পারিবারিক হিংস্রতা ঐটাই আমার দেখা শেষ ঘটনা ছিল না।বরং আমাকে অনেক ঘটনা দেখতে হয়েছে।আলট্রাসনোতে মেয়ে বাচ্চা শুনে স্বামী ক্লিনিকে ফেলে চলে গেছে!মা চেয়েছে বলে অন্তঃস্বত্তা বউকে ফেলে চলে গেছে এমন অনেক ইভেন্ট দেখেছি।অত্যাচারে এবরশন হতে দেখেছি।।
কিন্তু আমার একটি ছোট্ট অনুরোধ।


যে মেয়েটি আপনার সন্তানের মা হতে যাচ্ছে,আপনাকে বাবা ডাক শোনাতে গিয়ে আপনার বংশ রক্ষা করতে গিয়ে সে হারাচ্ছে সুস্থতা,শারিরীক সৌন্দর্য,মানসিক দৃঢ়তা!সন্তান ধারনের মত পবিত্র কাজটি তো সে একা করছে।তাহলে আপনি কেন তার সুস্থতা আনছেন না?আপনি কেন তার মানসিক শক্তি বাড়াচ্ছেন না?যে পরিবারে একটি অন্তঃস্বত্তা মেয়ে রয়েছে তাদের তো পূন্য করার সুযোগ।জীবনের সবথেকে কঠিন কষ্টকর আর দুর্বল সময়টি পার করছে সে।আপনাদের একটু আদর,স্নেহ,ভালবাসা,ভরসাই তার এবং অনাগত সন্তানের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে রঙ্গীন করতে পারে।

 

আর পতি পরমেশ্বর,আপনাকে বলছি।আপনার সন্তানকে গর্ভে ধারন করে যে খানিকটা খিটমিটে,অস্থির,স্থুলাকার স্ত্রী রত্নটিকে অযত্ন অবহেলা করছেন।সেই আপনার জীবনের সবথেকে মূল্যবান সম্পদটির ধারক।একটু যত্ন করুন।পাশে থাকুন।সময় দিন।বার বার বলুন,সে মোটেই অসুন্দর হয়ে যায়নি।আরো সুন্দর হয়েছে।হাত দুটো ছুঁয়ে বলুন,ভালবাসুন।।
দেখবেন চোখের সামনে এক স্বর্গীয় অপ্সরীকেই দেখবেন,যে আপনার সন্তানের মা !!

__________________________

 

ডা. শিরিন সাবিহা তন্বী । জনপ্রিয় কলামিস্ট। কথাশিল্পী। মেডিকেল অফিসার, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়