Ameen Qudir

Published:
2018-02-15 11:26:05 BdST

২০২১ সালে অতিরিক্ত ডাক্তার হবে ৫৪ হাজার: ২০২৬ সালে বেকার ডাক্তার ১ লাখ ২৩ হাজার


 

ডা. সুরাইয়া খাতুন
__________________________

ডাক্তার তৈরী করা হচ্ছে দেদার সে। ডাক্তার আর ডাক্তার। জেলা, থানায় তৈরী হচ্ছে নামকা ওয়াস্তে বিচিত্র মেডিকেল কলেজ। তৃণমূলে যেখানে ডাক্তার নেয়ার কথা ; সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আস্ত মেডিকেল কলেজ। বলিহারি স্বাস্থ্য পরিকল্পনা।

২০২১ সালে ৬৭ হাজার ২৬৫ চিকিৎসকের চাহিদার বিপরীতে জোগান দাঁড়াবে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৬৭ জন। এ হিসাবে ২০২১ সালেই চিকিৎসকের উদ্বৃত্ত সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৩ হাজার ৪০২ জন। ২০২৬ সালে ৭১ হাজার ৩৭০ জনের চাহিদার বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৩৫। উদ্বৃত্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৬৫ জনে ।

ভাবুন একবার কি হারে ডাক্তার তৈরী করা হচ্ছে।

বিআইডিএসের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী এসব তথ্য জানা গেল। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৬ সালেই দেশে চাহিদার তুলনায় ১১ হাজার ৫২৯ জন চিকিৎসক উদ্বৃত্ত ছিলেন। ওই বছর দেশে ১৬ কোটি মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের চাহিদা ছিল ৬৩ হাজার ৩৯৫ জন। ডাক্তার ছিল ৭৪ হাজার ৯২৪।

 

দেশে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বব্যাংক নিরূপিত এক দশমিক শূন্য এক শতাংশ ধরে বিআইডিএস এই গবেষণা কর্মটি পরিচালনা করে। এতে প্রতি ২ হাজার ৫২২ জনের বিপরীতে একজন করে চিকিৎসক ধরা হয়েছে। ২০১৪ সালের হিসেবে ১০ শতাংশ হারে চিকিৎসক বৃদ্ধি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারিভাবে ৯৯টি মেডিকেল কলেজে এবং ১৫টি ডেন্টাল কলেজ এবং ২১টি ডেন্টাল ইউনিট রয়েছে। এগুলোতে প্রতিবছর ১১ হাজার ৪৪২ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়।

 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭৬৩ জন। তাদের মধ্যে এমবিবিএস ৮৫ হাজার ৬৩৩ জন এবং বিডিএস (ডেন্টাল) ৮ হাজার ১৩০ জন। তবে কত চিকিৎসক অবসরে গেছেন, সে সম্পর্কিত কোনো হিসাব প্রতিষ্ঠানটির কাছে নেই। বর্তমানে প্রতি বছর নতুন করে আরও ১০ হাজারের বেশি চিকিৎসক স্বাস্থ্য খাতে যুক্ত হচ্ছেন। সে তুলনায় নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে না। এমনকি অবসরে যাচ্ছেন মাত্র দুই থেকে আড়াইশ' চিকিৎসক। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রতি বছর গড়ে ৩ শতাংশ চিকিৎসক কর্মক্ষেত্র থেকে চলে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ অবসরে, কেউ স্বেচ্ছায়, আবার কেউ মৃত্যুবরণ করেন। অবসরে যাওয়া চিকিৎসকরা আবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের বিদেশে চাকরির সুযোগও দিন দিন কমছে। এ কারণে নতুন চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কমবে। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিআইডিএসের গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বিদেশে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ দিন দিন কমছে। ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ৬৮ জন চিকিৎসক বিদেশে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ২৯, ২২ ও ১২ চিকিৎসক বিদেশে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব মিডিয়াকে বলেন, কতসংখ্যক চিকিৎসক প্রয়োজন আর কতসংখ্যক তৈরি করতে হবে- সে সম্পর্কে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। এ কারণে এমবিবিএস ও বিডিএস পাস করা চিকিৎসকরা এক সময় গলার কাঁটায় পরিণত হবে। এ বিষয়ে সরকারকে জরুরিভিত্তিতে পরিকল্পনা করে রোডম্যাপ করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশে মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার নজির আছে। প্রয়োজনে সে ধরনের সিদ্ধান্তও নিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়