|

ডাক্তার ও রোগী : দুপক্ষেরই সতর্ক থাকা উচিত :অপ্রীতিকর ঘটনায় সম্মানহানি সকলেরই হয়


Published: 2018-01-11 09:33:26 BdST, Updated: 2018-05-26 00:56:07 BdST

 

 

 

 

ডা. মিথিলা ফেরদৌস
___________________________

আমরা একটা কথা বার বার ভুলে যাই ডাক্তাররাও মানুষ। মহামানব না।কেউ পাপ পুর্ণ্যের উর্ধ্বে না।সবার মধ্যেই কম বেশি লোভ,লালসা আছেই।কম আর বেশি। তফাৎ টা শুধু এইটুকুই।ডাক্তারি পাশ করেছি দেখেই সন্ন্যাস নিয়ে ফেলেছি তা কিন্তু না।

আমার মা ছোটবেলা থেকেই, যখন আমার বুদ্ধিই হয় নাই,একটা কথা বার বার বলতো,'বাবা ছাড়া পৃথিবীর কোন ছেলে মানুষকে বিশ্বাস করবানা।'এবং সে কোথাও আমাকে একা ছাড়তো না।আমিও বহুবার এমনকি মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় বহু ডাক্তার দেখিয়েছি,আমার মা আমার সংগেই থেকেছেন।বিয়ের পর জামাই সব সময় সংগে থাকে।

প্রতিটি মা-বাবার এমনই হওয়া উচিৎ। ছোটবেলা থেকেই মেয়েবাচ্চাকে এমন কি এ যুগে ছেলে বাচ্চাকেও সাবধানতার ব্যাপারগুলো বুঝানো উচিৎ। তাতে একটা আপনা থেকেই রিফ্লেক্স তৈরি হয়।

"প্রসংগ: বি এস এম এম ইউ এর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা"

অরিজিনাল ঘটনা আমি জানিনা।পত্রিকাওয়ালারা ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লিখতে লিখতে এমন অবস্থা হয়েছে,কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা বোঝা বড় দায়।আমি কখনও দেখিনি কোন পত্রিকা ডাক্তাররা প্রতিদিন কত ভাল ভাল কাজ করে তার বর্ণনা দিচ্ছে।ধরলাম এই ঘটনা সত্য।হতেই পারে,ডাক্তারদের মধ্যেও কিছু খারাপ আছেই,থাকবেই তাদের মুখোশগুলো খোলাও দরকার।


কিন্তু পুরা ঘটনার বর্ণনা একটু ভাল করে বুঝে দেখুন,একটা ১৭ বছরের মেয়ে কেন ডাক্তারের কাছে একা যাবে?একটা ১৭ বছরের মেয়ে কেন বুঝবেনা,ডাক্তার পরিক্ষা বা মলম মাখানোর নাম করে যা করছে তা ঠিক হচ্ছেনা।এই যুগের একটা মেয়ে বা তার অভিভাবক কি এতটাই বোকা!!


এরপর সেই মেয়ে আবার সেই একই ডাক্তারের কাছে কেন গেলো?তারা ভোলা থেকে ঢাকায় যখন আসলো,তখন ওই একই ডাক্তারের কাছেই তাদের দেখাতে হলো কেনো?ঢাকায় তো ডাক্তারের অভাব নাই তাই না?মরণব্যধিই যদি বলে থাকে তাহলে তো আরও রিকনফার্ম করা দরকার ছিলো অন্য ডাক্তারের কাছে।এখানে আরেকটা কথা আসছে বিয়ের প্রলোভন। আহলে কি তারা বিয়ের প্রলোভনেই পরেছিলো।


সাধারণ মানুষের জন্যে এখানে কয়েকটা ব্যাপার জানার আছে,একটা ডাক্তার যখন কোন মহিলা রুগী দেখে তখন তাদের অভিভাবক রেখেই দেখে,বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ের ক্ষেত্রে।তাছাড়া যখন কোন মেডিকেল বোর্ড বসে তখন অবশ্যই গার্জিয়ান রাখা হয়।

আপত্তিকর ছবি নেটে দেয়া এখন একটা কমন ইস্যু ব্লাকমেইলার দুই পক্ষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

এখন আসি ডাক্তার প্রসংগে--একজন পুরুষ ডাক্তার অবশ্যই যেকোন মহিলা রুগী দেখতে বা পরিক্ষা করতে রুগীর পক্ষ থেকে একজন এটেন্ডেন্ট আর হাসপাতালের পক্ষ থেকে একজন এটেন্ডেন্ট ছাড়া কোন রুগী দেখাই উচিৎ না।এইটা তো নিয়ম।আমি জানি না,এখানে অভিযুক্ত ডাক্তাররের ক্ষেত্রে ঘটনা কি ঘটেছিলো?

ঘটনা আসলে কি?কে দোষী কে নির্দোষ কিছুই বোঝার কোন উপায় নাই।একমাত্র উপরওয়ালাই জানেন আসল ঘটনা কি?

তবে দোষ উভয়ের পক্ষেরই কম বেশি আছেই।কেন একটা ১৭ বছরের মেয়ে একা বার বার একই ডাক্তারের কাছে একটা বাজে ঘটনা ঘটার পরেও গিয়েছিলো?কেনো একজন ডাক্তার কোন ফিমেল এটেন্ডেন্ট ছাড়া রুগী দেখেছিলো?ব্যাপারগুলো কেমন জানি খাপ ছাড়া লাগে?

তবে নিজ নিজ অবস্থানে সকলকেই সতর্ক থাকা উচিৎ।কারণ এখানে দুই পক্ষেরই সন্মানহানি হয়েছে।তাই আমি বলবো দয়া করে নিজেদের সন্মান রক্ষার জন্যে নিজেই সতর্ক হউন।কারণ সন্মান গড়তে যত সময় লাগে,ভাংগার জন্যে একটা ঘটনাই যথেষ্ট।

 

____________________________

ডা. মিথিলা ফেরদৌস । সুলেখক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।