|

চিকিৎসকদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের গোড়াপত্তনকারী : আমরা তোমাদের ভুলব না


Published: 2017-12-14 20:24:32 BdST, Updated: 2018-01-22 14:30:34 BdST

 

 

 

 

 

 

 



ডা. সাঈদ সুজন

______________________


মুক্তিযদ্ধের সময় চিকিৎসকদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের গোড়াপত্তনকারী হলেন ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগের জাঁদরেল প্রফেসর "ডা: ফজলে রাব্বি"। তিনিই ঢাকা মেডিকেলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দের সেবা দিতে টিম গঠন করেন। তার সাথে যুক্ত হন মিডফোর্ড হাসপাতালের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক "ডা: আলিম চৌধুরী"। সাথে ডা: আজহারুল হক রোগীর চিকিৎসা করতেন তার নিজস্ব বানানো ডিস্পেন্সারিতে । নাম "সাঈদা ফার্মেসী"। সেটা বর্তমান হাতিরপুলের কাছে ছিল।

 

মিডফোর্ডের ডাক্তার হলেও সেবার সার্থে বেশির ভাগ সময় তিনি ঢাকা মেডিকেলেই থাকতেন। যুদ্ধে আহত রোগীদের অপারেশন রিলেটেড সব দায়িত্ব ছিল সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক "ডা: সামসুদ্দিন আহমেদ" এর । তার সহযোগী হিসেবে সহকারী সার্জন ছিলেন সাঈদা ফার্মেসীর মালিক "ডা: আজহারুল হক" ও "ডা: এ বি এম হুমায়ুন কবির"। এই দুজনে ইমার্জেন্সি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। আর জরুরী কল পেলে অপারেশন থিয়েটারে ।

 

পেশেন্ট ভর্তি করার জন্যও অনেক প্রতিকূলতা পোহাতে হতো। অনেক সময় ডাক্তারদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে হতো রোগী হিসেবে। । ডা: ফজলে রাব্বি ডাক্তার ও মেডিকেল স্টুডেন্ট দের ভাগ করে দেন বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিয়ে। প্রধানত ৩ টা ডাক্তার গ্রুপ ছিল। এদের অনেকেই অস্ত্র হাতে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। আবার কেউ কেউ হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা এবং অসহায় বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।


মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভূমিকা তিনভাগে বর্ণনা করা যেতে পারে-
১। যারা ঐ সময়ে কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের তৎপরতা।


২। পাশকৃত চিকিৎসকদের একটি অংশ যাঁরা অন্যান্য হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে কর্মরত ছিলেন কিন্তু মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন।

 

৩ । যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বাঙালিদের চিকিৎসা করেছেন।
মজার বিষয় হলো - সেই সময়ে মুক্তিযদ্ধে মেডিকেল স্টুডেন্টদের ভূমিকাও অনন্য ছিল। ঢাকা মেডিকেলের ৫ম বর্ষের ছাত্র "সিরাজুল ইসলাম", "নীপা লাহিড়ী", "মোঃ হুমায়ুন ফরিদী" , "মোঃ হাসান শহিদ" ও অন্যান্য কিছু ছাত্রছাত্রীর ভূমিকা ছিল অসামান্য। ছাত্রছাত্রীরা ছোট ছিল বলে এদের বাইরে ঔষধ আনতে পাঠানো হলে কেউ সন্দেহ করত না। অনেক ক্ষেত্রে তারা রোগীর এটেন্ডেন্ট সেজে থাকত । ডাক্তাররা চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসত ছাত্রছাত্রীরা। এমন ছাত্রছাত্রী সব মেডিকেল কলেজেই কম বেশী ছিল।


দেশের এই সব অবিসংবাদিত যোদ্ধাদের নাম হয়তো ইতিহাসের নামের তালিকায় সবার নিচে। কিন্তু তাদের নিভৃত সেবা যেসব মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছিল, তারাই শুধু জানে এই সেবার মূল্য কতো ছিল।


___________________________

 

Image may contain: 1 person, indoor

 

ডা. সাঈদ সুজন , সুলেখক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।