Ameen Qudir

Published:
2019-01-10 11:30:07 BdST

সবিশেষ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে প্রথম বৈঠক হবে 'শিল্পমন্ত্রী'র সাথে:এরপর সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী সাথে



ডা. রাজীব হোসাইন সরকার
_____________________________


আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে প্রথম বৈঠক হবে 'শিল্পমন্ত্রী'র সাথে।
এরপর সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সাথে। মানুষজন হাসাহাসি করবে। পাগল মন্ত্রী হিশেবে ফেসবুকে গালিগালাজ করবে৷ আমি গালিগালাজ শুনতে শুনতে মন্ত্রীকে প্রস্তাব দিব, ঢাকা শহরের রিক্সা ৬ মাসের মাথায় অর্ধেক নামিয়ে ফেলুন।
সড়ক মন্ত্রী মানবে না। তিনি রিক্সাওয়ালাদের কথা চিন্তা করবেন। তারা তখন কী করবে?
আমি ৬ মাস আগেই শিল্পমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেই এসেছি। ৬ মাস আগেই ঢাকার বাইরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক আছে এমন একটি পিছিয়ে পড়া জেলায় যাব। দশটা গার্মেন্টস বানিয়ে ফেলব। পুরোটা সরকারের টাকায়। টাকাটা হবে ঋণের। সরকারের কর্মচারী হয়েও সরকারের কাছে ঋন নিব। মানুষজন আবার হাসাহাসি করবে। এ কেমন মন্ত্রী? নিজের টাকা নিজেই ঋণ নেয়? এই পাগলা স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন গার্মেন্টস বানাবে?

আমি তখন বসব বস্ত্রমন্ত্রীর সাথে। গার্মেন্টস বানানোর পুরো কাজটা তিনি আমাকে করে দিবেন। এই গার্মেন্টসে ঢাকার অর্ধেক রিক্সাওয়ালা চলে আসবে। কাজ শুরু করবে। অবশ্যই তাদের খুব স্বল্প সময়ে কাজ শিখিয়ে ফেলার জন্য ছোট্ট প্রজেক্ট চলবে। যখন তারা বেতনও পেতে থাকবে।

এবার বসব পিএসসির সাথে। মন্ত্রীকে বলে বিসিএসে ৫০০ টা নতুন সিট বাড়িয়ে ফেলব। এখানে টেকনিক্যাল ক্যাডার থাকবে। ১০০ জন ডাক্তার, ৫০ জন ইঞ্জিনিয়ার, ৫০ জন সেরা এমবিএ করা স্টুডেন্ট এই ৫০০ সিটে চান্স পাবে। সবাই চলে যাবে সেই নতুন শহরে। তাদের হাতে তুলে দেব পুরো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো। তারা হবে অল ইন অল। নিজেরা নিয়মিত মিটিং করবে। কার্যপ্রনালী ঠিক করবে। নিজেরাই পুরোটা চালিয়ে নেবে। তাদের নেতৃত্ব দেবে একজন সৎ আমলা। (পাওয়া দুষ্কর নয়)।

এবার আমি বসব বানিজ্যমন্ত্রীর সাথে। তাকে পটিয়ে ফেলব। গার্মেন্টস শিল্পের ১০০ টা বিদেশী বিগ ডিল তিনি আমাকে পাইয়ে দিবেন। এই ডিল চুক্তি হবে আমাদের নতুন গার্মেন্টসে। প্রোডাকশন হবে। অর্থ আসবে। লাভ্যাংশ দিয়ে সরকার থেকে নেওয়া ঋন শোধ শুরু হবে। শ্রমিকের বেতন হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর বাকী ক্যাডারদের বেতন হবে। তারা তখনো পুরো প্রজেক্ট চালিয়ে নিবে।
কর্মসংস্থান হল লাখ খানেক মানুষের। পুরোটা স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রজেক্ট। সেখানে শ্রমিকদের লাইফস্টাইল, সুযোগসুবিধা সব থাকবে৷ যেগুলো উন্নতদেশে শ্রমিকদের দেওয়া হয়। প্রোডাকশন বাড়লে লাভ বাড়বে। লাভ্যাংশ চলে যাবে তাদেরই মাঝে। বা ঐ লাভ্যাংশ দিয়ে আরেকটা ভিন্নধর্মী প্রজেক্ট শুরু হবে।

এবার আমি ফিরে আসব ঢাকা শহরে। ৫০০ বিসিএস সিটের ৫০ টা সিটে ক্যাডার হবে আরবান প্লানিং সাবজেক্টে পড়া স্টুডেন্টরা। তারা নগর পরিকল্পণা করবে। সবচাইতে জনবহুল এলাকা (মার্কেট প্লেসগুলো লাইক নিউমার্কেট এরিয়া ও রেসিডেন্সিয়াল এলাকা) থেকে রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করবে। এই এলাকাগুলোতে আর রিক্সা চলবে না। ঢাকায় তখন জট ড্রামাটিক্যালি কমে যাবে ৩৫%।

এবার শুরু হবে রাস্তায় রঙ করা। সারা ঢাকায় ৩০০ টা এরিয়া করা হবে, যেখানে কোন রিক্সা যাবে না। তাহলে মানুষ কী করবে?
হাঁটবে।
চাইনিজ, জাপানীজদের মত। শুরুতে বাধ্য হয়ে হাঁটবে। অথবা বাইসাইকেল ব্যবহার করবে। পাঁচ মিনিটের রাস্তা রিক্সায় উঠে যাবার প্রবণতা চাপে পড়ে কমে যাবে। লাভ?

এবার শুরু হবে কম্পাউন্ড ইন্টারেস্টের খেলা। এক বছরের মাথায় মানুষের মাথায় সেট হয়ে যাবে হাঁটাহাঁটির ব্যাপারটা। একদিন হাঁটলে আমরা চট করে ধরতে পারব না লাভটা কোথায়। কিন্তু ১ বছর পর ধরা যাবে। ডায়াবেটিকরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনবে তাদের রোগ। হাইপারটেনশনের রোগীদের কমে যাবে কমপ্লিকেশনস। যাদের আলস্য ও মেদ আছে, ডায়াবেটিস বা হাইপ্রেশার হবার কথা ছিল তাদের মধ্যে ৫০-৬০ ভাগ মানুষের এই রোগ হবে না বা দেরিতে হবে। ফলে ১ বছরের মাথায় মেডিকেলগুলোতে কমে যাবে রোগীর চাপ। সেটি সংখ্যায় যদি ১০ লাখও হয়, খুব কম নয় কিন্তু।

একজন সাধারণ ডাক্তার হিশেবে স্বচক্ষে দেখেছি চিকিৎসালয়গুলোতে সরকার বানের জলের মত ওষুধ সাপ্লাই দেয়। (বাজারের সব দামী ঔষুধ যে সরকার গভর্নমেন্ট হাসপাতালে সাপ্লাই দেয়, এটা অনেকেই জানি না। যার বেশীরভাগটা নিয়ন্ত্রকদের পেটে যায়। হরিলুট হয় ড্রাগ সংরক্ষণ কর্মকর্তা, কর্মচারী, নার্স, ওয়ার্ডবয়, অটিবয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দ্বারায়)। হাসপাতালে রোগীর অকল্পনীয় চাপ দেখেছি। এই ব্যাপারটাও কমে আসবে। অনেকটা। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ঔষুধ ও সংরক্ষণ খরচা বেঁচে গেল। হাসপাতালে চাপ কমে গেল। ফলে হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ আগের চাইতে ভাল হল অনেকটা। ঠিক ৫ বছরের মাথায় সংখ্যার হিশেবে ব্যাপারটা এমন একটা অবস্থায় দাঁড়াবে যেটা কল্পণাও করতে পারছি না।
অনেক পজিটিভ ব্যাপার আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। ধরতে পারি না৷ এই প্রজেক্টটাও সেই টাইপের হবে। মানুষজন রিক্সা না পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে গালিগালাজ করবে। সড়ক মন্ত্রী কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচবেন। কিন্তু তারা ধরতেই পারবে না পুরো প্রজেক্টে একটা পিছিয়ে পড়া জেলা উন্নত হবে, একটা বসবাসের অযোগ্য শহর এক ধাক্কায় বিশাল পরিমান জট কমিয়ে আনবে, বিসিএসে সরাসরি প্রতিবছর এভাবেই ৫০০ জন নতুন ফ্রেশ ট্যাকনিক্যাল ক্যাডার আসবে। রোগ হবে কম। স্বাস্থ্যখাতটা বদলে যাবে ম্যাজিক্যালি।

আমার কাজকর্ম দেখে সরকার খুশি হয়ে আমাকে দ্বিতীয় মেয়াদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বানাবে। এরপর তৃতীয় মেয়াদে.... এভাবে ২০ বছর পর যখন আমি আবুল মাল আবদুল মুহিতের মত স্বেচ্ছা(!) অবসরে যাব তখন রেখে যাব একটি পরিষ্কার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। যেটা এই স্ট্যাটাস পড়ার সময়ও আপনি ধরতে পারেন নি।
____________________________
.
.
ডা. রাজীব হোসাইন সরকার । সুলেখক। নিজের সম্পর্কে এ লেখায় বলেছেন, (কল্পণায় পরিকল্পণামন্ত্রী.... ব্যাসিক্যালি স্বাস্থ্যমন্ত্রী )


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়