Ameen Qudir

Published:
2018-12-03 19:34:06 BdST

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অভাব : দূর করতে বিশেষজ্ঞদের তাগিদ


 

ড. আলতাফ হোসেন
________________________

কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা টেকসইকরনে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিষয়ক গোল-টেবিল আলোচনা অনন্য আয়োজনে হয়ে গেল ঢাকাতে। ২ ডিসেম্বর (রবিবার) ২০১৮ সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমুনিকেশন প্রোগ্রাম এর সেমিনার হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাবরশন, বাংলাদেশ (বাপ্সা) এর উদ্দ্যেগে সুইডেন ভিত্তিক দাতা সংস্থা RFSU( The Swedish Association for Sexuality Education)এর আর্থিক সহযোগিতায়“Improving SRHR Situation through comprehensive Sexuality Education (CSE) Amongst Adolescent & Youth in Selected Areas of Bangladesh প্রকল্পের আওতায় ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা টেকসইকরনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত’ বিষয়ক এ  গোল টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাপসার নির্বাহী পরিচালক ড.আলতাফ হোসেন, পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ ভুঁঞা,
প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীমা আক্তার চৌধুরী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-র  সহযোগী অধ্যাপক এবং কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ডাঃ সুলতানা আলগিন ;  মেডিকেল অফিসার (বাপসা),
ডাঃ নাহিদ সুলতানা , বাপসার উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকল্প এলাকার শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এবং
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের আমন্ত্রিত সাংবাদিক ও অতিথিবৃন্দ। গোল-টেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ‘ডেইলী সান’ এর সিনিয়র রির্পোটার তারিক হাসান শাহরিয়ার। 

 


নির্বাহী পরিচালক ড.আলতাফ হোসেন উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে জনগনের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতায় শিক্ষক, অভিভাবক ও গনমাধ্যমের ব্যাপক অবদানের কথা উল্লেখ করে আলোচনায় সবার স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনের আহবান জানান । তিনি বলেন
বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের বাবা-মা, অভিভাবকদেরর
শিক্ষা এবং সচেতনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সমাজের অন্যান্য শ্রেণী/গোষ্ঠীর ইতিবাচক মনোভাব। তাই প্রয়োজন সমাজের বিভিন্ন
স্তরের সচেতনতা বৃদ্ধি, যার ফলে কিশোর-কিশোরীরা বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন, প্রজনন ও যৌন ¯স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতন হবে এবং এবং
বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারবে। তিনি প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সেবার ক্ষেত্রে এনজিওদের প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার কথা
উল্লেখ করে প্রকল্পে মেয়াদ শেষে বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা টেকসইকরনের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় ও পরিবারের
সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনা আহ্বান করেন।


প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীমা আক্তার চৌধুরী বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কিশোর-কিশোরী ও যুবদের যৌন ও প্রজনন  স্বাস্থ্যগত সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলেধরেন। তিনি বলেন- যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিয়ে রয়েছে নানামুখী সমস্যা। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অর্ন্তভুক্ত থাকলেও বেশীরভাগ শিক্ষক যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত আলোচনায় আগ্রহী নয়। মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনও এ ব্যাপারে উদাসীন থাকে। এছাড়াও রয়েছে সামাজিক
কু-সংস্কারজনিত বাধা। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অভাব । বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও
প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার জন্য ‘জাতীয় কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য কৌশল, ২০১৭-২০৩০’ উল্লেখ করে সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার উদ্দ্যেগ
ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, কিশোর-কিশোরীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক জীবনসংশ্লিষ্ট জ্ঞান, তথ্য ও দ¶তা শেখার
যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, সেবা সহায়তা দেয়ার সাথে সাথে জীবনের চ্যালেঞ্জ-ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য
অভিভাবক, পরিবার, সমাজকে সুযোগ তৈরী করে দেয়ারও প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য অনুষ্ঠানের শুরুতে কিশোর- কিশোরীদের জন্য বাপসা কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচী গ্রহনে প্রজনন ¯স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সেবার অনুকুল পরিবেশ
হিসাবে বাপসার যুব-বান্ধব সেবাকেন্দ্রের (মনের জানালা) সেবাসমূহের একটি বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
এই আলোচনায় আপনাদের থেকে কিছু সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ আশা করছি যা আমাদের কার্যক্রমকে আরো সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত
করতে সাহায্য করবে।

_____________________________

ড. আলতাফ হোসেন
নির্বাহী পরিচালক,বাপ্সা


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়