Ameen Qudir

Published:
2018-10-15 16:35:04 BdST

ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে অশ্লীলতা ও কুৎসিত ট্রলিং : উপযুক্ত জবাব দিলেন চিকিৎসকরা


 

 

ডা. সাহানা পারভিন
___________________________

১৩ অক্টোবর ছিল নো ব্রা ডে। ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী সচেতনতা গড়ে তোলার প্রতিকী দিন। বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত প্রগতিশীল নারী চিকিৎসক লেখকসহ বিশ্বের আধুনিক মনস্ক চিকিৎসক বিজ্ঞানী সচেতক বৃন্দ এ দিন প্রচুর লেখা লেখি করেন।

পরিতাপের ও বিস্ময়ের ব্যাপার হল,বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল অশ্লীল চক্র গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুক ও অনলাইন নানা মাধ্যমে নো ব্রা ডে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য ,অশ্লীল ট্রলিং করে চলেছে।
নারীকে সম্মান করে না তারা , বস্তু হিসেবে দেখতে বংশানুক্রমিকভাবে অভ্যস্ত। সেই কদর্য বংশপ্রবৃত্তি ও নানা কুসংস্কারের কারণে এরা মাত্রা ছাড়ানো অশ্লীলতা করে যায়। প্রতিক্রিয়া শীলরা এর মধ্যে ধর্মীয় কুসংস্কারের বিষও ছড়াতে থাকে।
সেসব নিয়ে সমুচিত জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশেরই চিকিৎসক সমাজ।

ডা. শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন,
যে জাতি ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ট্রল করে, সে জাতির জন্মই বৃথা।
তারা কোন মায়ের গর্ভে জন্ম নিতে পারে না।


ডা. আব্দুল কাদের বলেন,সারা বিশ্বে প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জনের ব্রেস্ট ক্যান্সারর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।ভেবে দেখুন সংখ্যাটা কত বিশাল।
আর যারা ট্রল করে তাদের জানা দরকার ব্রেস্ট ক্যান্সার কিন্তু ছেলেদেরও হয়।

 


সুলেখক ডা. নাসিমুন নাহার মিম্ মি বলেন,

"নো ব্রা ডে" এর মতো এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও ট্রল হতে পারে ! সিরিয়াসলি ?

এসব ছেলেগুলোর জানা উচিত ব্রেস্ট শুধু কোন সেক্স অর্গান না। এটা হিউম্যান বডির একটা পার্ট যা এদের মতো মূর্খগুলোর শরীরেও আছে। এদের মত রাস্তার ছেলেগুলোর মা, বোন , বউ আর মেয়ের শরীরেও এই অর্গান আছে। যা দিয়ে মানব সন্তানের খাদ্যের ব্যবস্থা হয়।

ব্রেস্ট ক্যান্সার কোন ফানি বিষয় না।

আজব একটা বিকৃত জাতি । সবকিছুর মধ্যে ই খালি সেক্স খুঁজে পায়। অথচ এদের সেক্সের দৌঁড় কলিকাতা হারবাল পর্যন্তই। আর বড়জোর চটি এবং ইমু সেক্সেই সব শেষ।
সেই মেডিকেল তৃতীয় বর্ষের ক্লিনিক্যাল ক্লাস থেকেই এসব বিকৃত লোকগুলারে দেখছি ।

______


ডাঃ সওগাত এহসান
লেখেন,
ব্রেস্ট ক্যান্সার এবং আমাদের সমাজ সচেতনতা

#No Bra Day নিয়ে আমাদের যত নোংরামি ________________

#Cancer বা কর্কট মানে হলো #কাকড়া!
কাকড়া ইচ্ছে করলেই যেকোন সময় যেকোন দিক যেতে পারে তার চার পাশের পা দিয়ে! আমাদের মতো পুরো বডি ঘুরাতে হয় না তাকে কোন দিক যাবার সময়!

cancer বা কর্কট রোগের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনাই ঘটে ! যেখানে cancer হয়! সেখান থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পরার এক অসম্ভব ক্ষমতা আছে তার!

আমার সবচেয়ে কষ্ট লাগতো ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগী গুলো কে দেখে!আমাদের দেশে প্রতি বছর কত মা খালা রা যে মারা যাচ্ছে এই রোগে!!! যার প্রধান কারণ হচ্ছে লজ্জা!
এক রোগী কে দেখেছিলাম তার ব্রেস্ট পচে যখন গন্ধ হওয়া শুরু করেছিল তখনই তার বাড়ির লোকজন তাকে ধরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসে!এত দিন লজ্জা করে বাড়ির কাউকে সে বলেনি!

আর একটা কারণ হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ! মেয়েদের চিকিৎসা সেখানে একদমই অবহেলিত! ৫ বার অসুস্থ হলে একবার সরকারি হাসপাতালের দেখাও পায় না অনেকে!

অথচ প্রথম পর্যায়ে ধরা পরলে এই ক্যান্সার প্রায় ১০০ ভাগ নিরাময়যোগ্য!এই কথা মাথায় রেখে ডাক্তার রা প্রতিটি নারী কে প্রতি মাসে একবার নিজের ব্রেস্ট বা স্তন নিজে নিজে পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন! বিদেশে এটা অনেক সফল হয়েছে! কিন্তু আমাদের দেশে? এমন কি No Bra Day নামে একটা দিন তারা পালন করে থাকে জাস্ট #Breast_cancer_Awareness এর জন্য। অনেকে দেখলাম এটা কে বানিয়েছে যে ,Bra বেশিক্ষন পরে থাকলে Breast cancer হয়। তাই No bra Day ! সত্যি বলতে কোন মেডিকেল বই তে এমন কোন কথা লেখা নাই। Even wiki তে গিয়েও এরকম কোন কথা পাবেন না No Bra Day সম্পর্কে। তাই মনগড়া কথা না বলাই ভাল! কিছু পোলাপান আছে এটা নিয়ে হাসি ঠাট্টা ট্রল ইত্যাদি করতেছে। তাদের বলব, Family তে মা, বোন দের কারো ব্রেস্ট ক্যান্সার হলে কেমন লাগবে একটু চিন্তা করে দেখবেন।

#কখন_ব্রেস্ট_ক্যান্সার_সন্দেহ_করবো?

১)ব্রেস্টে যদি দলার মতো কিছু অনুভূত হয়!
২)স্তনের বোটা যদি ভেতরের দিকে ঢুকে থাকে!
৩)স্তনের কোথাও যদি হালকা গর্তের মতো দেখা যায়( dimple )
৪)স্তন থেকে যদি রক্ত কিংবা অন্য কিছু নিঃসরণ হয়!
৫) স্তনের উপরে লাল দাগ কিংবা ত্বকের কালার চেঞ্জ!

#কিভাবে_নিজে_নিজে_স্তন_পরীক্ষা_করতে_হয়

১)গোসলের সময় আয়নার সামনে দাড়িয়ে লক্ষ্য করা যে কোন অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ছে কিনা! বিশেষ করে হাত উপরে তুলে একবার এবং হাত জোর করে কোমড়ে বেধে একবার!(ছবির মতো)
২) হাতের আংগুল গুলো দিয়ে nipple থেকে শুরু করে চারিদিকে circular ভাবে press করা! উদ্দেশ্য কোন দলা পাওয়া যায় কিনা! (ছবির মতো)

উপরের ব্যাপার গুলো কেউ যদি ফলো করে নিয়মিত! অন্তত মাসে একবার! তার ক্যান্সার হলেও প্রথম স্টেজে ধরা পড়বে! এবং জীবন বাচবে!
তাই আর লজ্জা নয়! লজ্জার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি!আসুন সবাই সচেতন হই!
____________________________

ডা.সাহানা পারভিন । সুলেখক। ঢাকা।


মানুষের জন্য এর জনপ্রিয়