|

"সন্তানদের কিভাবে ডাক্তার বানাতে হবে"


Published: 2018-01-09 15:54:16 BdST, Updated: 2018-02-23 16:16:50 BdST

 

 


ডা. রেজাউল করীম

___________________________

 

স্কুলের বাচ্চাদের মত বসে বসে লেকচার শুনলুম। বিষয়বস্তু: সন্তানদের কিভাবে ডাক্তার বানাতে হবে। যা বুঝলুম তার নির্যাস হল- একাদশ দ্বাদশ শ্রেনীর ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা, নাচ-গান, অঙ্কন ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করবে না। তারা পড়াশোনা করবে। বাবা মা তাদের মডারেট চাপে রাখবে যাতে তারা পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। যেহেতু দ্বাদশ শ্রেনীর সিলেবাস সমুদ্রের মত, তাই সাঁতার শেখার জন্য তাদের স্কুলে ভর্তি হতে হবে। ইংরেজী বা বাংলার জন্য খুব বেশী সময় নষ্ট না করে বিজ্ঞানের বিষয় গুলি পড়তে হবে..ইত্যাদি।

 

বেশ বোঝা গেল- ডাক্তার হওয়া বেশ কঠিন। সে গোটা কয়েক বিজ্ঞানের বই মুখস্থ করে ডাক্তার হবে, সাহিত্য পডবে না, সংস্কৃতি চিনবে না- এক কথায় জীবনের কোন সুকুমার বৃত্তির সাথে তার কনামাত্র সম্পর্ক থাকবে না। যে জীবনকেই চিনল না সে কোন জীবনকে বাঁচাতে যমের সাথে লড়াই করবে?


তারা যা বললেন নিশ্চয় সমাজের ভালোর জন্যই বললেন। কথাগুলো শুনে সবাই তো খুশি হয়ে নানারকম আলোচনা করতে লাগলেন।

ছেলেমেয়েরা ডাক্তার হবে, সমাজে মান্য হবে, অর্থ বিত্ত হবে। কিন্তু একটি অনুচ্চারিত প্রশ্ন নিয়ে আমি ফিরে এলাম- সব পাওয়া হয়ে গেলে সে কী করবে? আর তো কিছু সে শিখছে না। জীবন মানে কি শুধু পেশা? সে অনন্ত আকাশের দিকে চোখ মেলে তাকাবে না, রোদে তাপে শরীর কে পোড়াবে না, জনস্রোতে পা মেলাবে না...তাহলে জীবনে কী পাওয়া হবে তার হিসাব মেলানোর সময় কি জমার ঘরে কিছু রইবে?

 

আজকের শিশুদের কি বলতে ইচ্ছে করে না- আমাদের সম্পদ দাও, ঐশ্বর্যশালী করো- এমন সম্পদ, যা আমাদের অমরত্ব দিতে পারে। তারা কি ভুল সময়ে জন্মেছে নাকি আমাদের লোভের আগুন, আমাদের অবদমিত, অপূর্ণ ইচ্ছা-ভারের যূপকাষ্ঠে তাদের সুকুমার বৃত্তির অপমৃত্যু ঘটছে!!


____________________________

ডা. রেজাউল করীম। কলকাতার প্রখ্যাত চিন্তক , লোকসেবী চিকিৎসক ও লেখক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।