|

রোগীর অবস্থা অনুসারে এটেন্ড করেন ডাক্তার: কে আগে , কে পরে :সেটা ম্যাটার করে না


Published: 2017-11-16 13:16:36 BdST, Updated: 2017-12-18 20:51:27 BdST

 

 

 


শওগাত আলী সাগর

_________________________________



১. : লিটল ফ্র্যাকচার? – ডাক্তারের কথাটা শুনে খানিকটা হতাশ হয়ে যায় কথামালা।
: আই হ্যাভ পেইন ডক্টর।
: ওয়েল, ইউ ক্যান টেক অ্যানি পেইন কিলার। ইফ ইট ইজ রিয়েলি ওয়ার্স, ইউ ক্যান কাম হিয়ার অ্যানি টাইম।
পাশে দাড়ানো নার্সকে প্রয়োজনীয় ইন্সট্রাকশন দিয়ে ডাক্তার অন্য রোগীর দিকে মনোযোগ দেন।

 

২. স্কারবোরো জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে বসে আছি প্রায় চার ঘন্টা। প্রাথমিক খোঁজখবর আর এক্স রে’র কাজ শেষ হয়ে গেছে এক ঘন্টার মধ্যেই। ডাক্তারের সাক্ষাত পেতে অপেক্ষার সময়টা দীর্ঘায়িত হতেই টের পেয়েছিলাম, খারাপ কিছু না। ইমার্জেন্সীর নিয়মই হচ্ছে রোগীর অবস্থা অনুসারে ডাক্তার এটেন্ড করেন। কে আগে আসলো, কে পরে আসলো সেটা ম্যাটার করে না।
ওয়েটিং রুম থেকে নাম ডেকে ডেকে একেকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়, কথামালার মধ্যে ততোই অস্থিরতা বাড়তে থাকে।

 


৩. বর্ণমালা হাত ভেঙ্গেছিলো ক্লাশ ফোরে পড়ার সময়। হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে নিয়ে আসার পর তার হাতে ‘কাষ্ট’ লাগানো হয়। হাতে ‘কাষ্ট’ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পর পুরো ক্লাশের ছেলে মেয়েরা এমনকি শিক্ষকরাও সেই ‘কাষ্ট’ এর উপর ‘গেট ওয়েল সুন’সহ নানা ধরনের কথাবার্তা লিখে সেখানে সাইন করে দিয়েছে। ভাঙ্গা হাতের উপর ‘কাষ্ট’টা যেনো হয়ে ওঠেছিলো অটোগ্রাফের খাতা। এটাই নাকি এই দেশের প্রথা।

 

৪. পুরো ক্লাশ ফোরটাই কথামালার কেটেছে এক ধরনের অতৃপ্তি নিয়ে। মাঝে মধ্যেই গা ঘেষে এসে বলতো , জানো বাবা, আপির হাত ভেঙ্গেছিলো ক্লাশ ফোরে। আমি এখন ফোরে পড়ছি। আমার হাতও কিন্তু ভাঙতে পারে। আমি হা করে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ক্লাশ ফোর শেষ হয়ে যাবার পর অনেকদিনই অতৃপ্তি নিয়ে কথাটা মনে করিয়ে দিতো- আপির হাত ভেঙ্গেছিলো ক্লাশ ফোরে। আমার কিন্তু ভাঙ্গেনি।

 

৫. নার্স এসে ডেকে নিয়ে যায় একটি নির্দিষ্ট রুমে। কথামালা বেডে, আমি বসে আছি পাশের একটি চেয়ারে। নার্স তার জিনিসপত্র গুছানোতে ব্যস্ত।
: ‘ইউ আর সো প্রেটি, নার্স’- নার্সের দিকে তাকিয়ে কমপ্লিমেন্ট ছুঁড়ে দেয় কথামালা।
:ও, থ্যাংক ইউ।
: ডু ইউ নো, থ্রি অব মাই ক্লাশ মেটস হ্যাভ কাস্ট অন দেয়ার হ্যান্ড।
আমি একবার কথার দিকে তাকাই, একবার নার্সের দিকে। নার্স তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আমি কথামালার চোখের ভাষা পড়ার চেষ্টা করি।
: এনাথার বয় কেম ইউথ ফ্র্যাকচার টুডে। হি টোল্ড মি দ্যাট, ওয়ান অব হিজ ক্লাশমেট অলসো কেইম উইথ ফ্র্যাকচার ইন হ্যান্ড । আই গেজ ইউ আর দ্যাট ক্লাশ মেট।‘- জিনিসপত্র গুছাতে গুছাতেই নার্স জবাব দেয়।
কথার উৎসাহটা যেনো খানিকটা বেড়ে যায়।- ডিড ইউ পুট কাষ্ট অন হিজ হ্যান্ড?
: নো । - নির্লিপ্তবে জবাব দেয় নার্স।
: সো, আর ইউ পুটিং কাস্ট অন মাই ফ্র্যাকচার?- এবার সরাসরিই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় সে।
: দ্যা থিং আই অ্যাম পুটিং ইজ অলমোষ্ট লাইক অ্যা কাস্ট। ইউ উইল কাম ব্যাক আফটার সেভেন ডেজ, স্পেশালিষ্ট উইল রিভিউ ইউর ফ্র্যাকচার, অ্যান্ড ডিসাইড হোয়েদার ইউ নিড কাস্ট অর নট।
: অলমোষ্ট লাইক কাষ্ট.... মিনিং কাইন্ড অব কাষ্ট.... কথা অনেকটা বিড়বিড় করে উচ্চারণ করতে থাকে কথাগুলো।


৬. হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পার্কিং এর দিকে যেতে যেতে কথা ফিস ফিস করে বলে, আপিকেও প্রথম দিন এমন ‘কাস্ট লাইক’ ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছিলো, রাইট বাবা?
: হুমম।- বলেই হাসি আড়াল করতে আমি দ্রুত গাড়ির দিকে পা চালাতে থাকি।


_________________________________
শওগাত আলী সাগর । প্রখ্যাত সাংবাদিক । কানাডা প্রবাসী।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদকঃ নতুন দেশ ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।