|

হেলথ কমপ্লেক্সে আমি দিনে সাড়ে তিনশর বেশী রুগী দেখছি : এটাই বাস্তবতা


Published: 2017-11-12 09:02:15 BdST, Updated: 2017-12-18 20:51:05 BdST

 

 

 

 

 

ডা. মিথিলা ফেরদৌস
______________________________


১৭ কোটি মানুষের জন্যে ৭২ হাজার ডাক্তার, একটা বেডের বিপরীতে কত রুগী ভর্তি হয়?একটা আউটডোরে একজন ডাক্তারকে গড়ে কত রুগী দেখতে হয়?একটা ইমার্জেন্সীতে একজন ডাক্তার কত রুগী তার ডিউটি টাইমে এটেন্ড করে?ব্রিটিশ জার্নালের অবস্থাও দেখি আমাদের দেশীগুলার মতই।চোক্ষুতে কালা চশমা পইরা একটা রিপোর্ট কইরা ছাইড়া দিয়া মজা দেখতেছে।

একটা হেলথ কম্পলেক্সে,আমি দিনে সাড়ে তিনশ এর অধিক রুগী দেখছি। কেমনে শুনেন?হেলথ কম্পলেক্সের রুগীরা অনেক কিউট।তারা আইসাই কয়,ভাইটামিন লাগবো,ক্যালসিয়াম লাগবো,প্যারাসিটামল লাগবো,গ্যাসের ঔষধ দেন।নিজেরাই একেকজন বিশাল ডাক্তার।প্রথম প্রথম, বার বার জিজ্ঞেস করতাম সমস্যা কি?কয় ঔষধ দেন।পরে এইটাকে সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদ হিসেবেই নিলাম।কারণ চিপ কম্পলেইন শুনে, এক্সামিন করলে জীবনেও এই তিনশ রুগী দেখা সম্ভব না।তাই সুইট কিউট রুগীদের জন্যে সুইট কিউট ব্যাবস্থা। ছোট চিরকুটে ঔষধ লিখে সাইন সিল দেয়া ছিল মুল কাজ।তাতেও ৪৮ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগার কথা।হেলথ কম্পলেক্স ডাক্তারদের কোয়ালিটি নষ্ট করার জন্যে যথেষ্ট।

 


শহরের গুলা বেশি কনসাস।তারা আসে জীবনের প্রথম থেকে যেইদিন আপনি দেখবেন সেইদিন যত ঔষধ খাইছে তার প্রেসক্রিপশন নিয়া,অথবা কেউ কেউ এক ব্যাগ ঔষধের খোসলা নিয়াই চলে আসে,সাথে তার জীবনে করা সব পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র।এইসব বাধ্যতামুলক দেখতেই হবে।সাথে তার রোগ হিস্ট্রি শুরু হয় জন্মের পর কবে জ্বর হইছিল,কবে পেট ব্যাথা হইছিল,কবে কোন এক্সিডেন্ট করছিল,কবে জামাইয়ের মাইর খাইছিল,কতটা গরীব সে,কত দূর থাইকা সে আসছে আরও অনেক কিছু।

 

এরপর এক্সামিনেসানের পালা।মহিলা রুগীর কথাই কই,হিজাবে আটকানো তিনচারটা পিন খুলবে,এরপর বোরখা, হাতে পায়ের মুজা তারপর মুল কাপড়।পরিক্ষা শেষে সেইসব আবার পরিপাটি করে পরবে।আমি হয়তো ধৈর্য নিয়া অপেক্ষা করি।কিন্তু বিরক্ত হয় বাইরের বিশাল লাইনের রুগীরা।এইটা কি ৪৮ সেকেন্ডে সম্ভব?ব্রিটিশ জার্নালে যারা এই রিপোর্ট বানাইলেন,তাদের কেউ কি এসে একটা সরকারী হাসপাতালের প্রকৃত অবস্থা দেখে রিপোর্ট করছেন?

আমরা যদি আপনাদের ষ্ট্যাণ্ডার্ড মেইনটেইন করতে পারতাম তাহলে লাভবান হইতাম আমরা ডাক্তার রা,সাফার করতো দেশের সাধারণ মানুষ।

 


________________________________

ডা. মিথিলা ফেরদৌস । সুলেখক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।