|

স্বদেশী ডাক্তার 'কুকুর' : বিদেশী ডাক্তার হলেই ঠাকুর


Published: 2017-01-08 07:43:01 BdST, Updated: 2017-03-26 07:27:09 BdST


ডা. বুদ্ধদেব সাহা
_______________________

স্বদেশী ডাক্তার হল 'কুকুর' :
বিদেশী ডাক্তার হলেই ঠাকুর । এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন কি খোদ ডাক্তার সমাজের চোখেই। কথাটা কি ভুল বললাম ? না, ভুল বলি নাই। প্রমান করে দিচ্ছি।


বাংলাদেশে ডাক্তাররাই ডাক্তারদের সম্মান করে না । পাবলিক কেন করবে। ডাক্তাররাই নিজেরা বেশীর ভাগ হীনম্মন্যতায় ভোগে। তাদের আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব।
শুক্রবার ডাক্তার প্রতিদিনে এফসি পিএস পরীক্ষা নিয়ে একটা আর্টিকল লেখা হয়েছিল কঠিনতম পাশ পদ্ধতি নিয়ে।


তাতে দেখলাম, দেশের এই সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে তাচ্ছিল্যের অভাব নাই। মন্তব্যকারীদের পরিচয় দেখে অবাক হলাম। বেশীরভাগ ডাক্তার। ডাক্তারদের যদি এই অবস্থা হয় , তবে পাবলিকে তো চরম তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবে , সেটাই স্বাভাবিক।
দেশের সিনিয়র এক অধ্যাপকের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক লিখেছিল , এই ডিগ্রি বিশ্বমানের।
দেখলাম, তাতে ডাক্তার সমাজের বড় আপত্তি।

 

দেশের একজন চিকিৎসকের মন্তব্য নিয়ে আমার এই আলোচনার সূত্রপাত করতে চাই। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ডিগ্রির কোন দাম নাই বিদেশে। তা নিয়ে তার আক্ষেপের শেষ নাই।

 

বলে রাখা ভাল, আমি নিজে এফসি পিএস-এর দরজায় দুবার কড়া নেড়ে ক্ষান্ত দিয়েছি। পড়ে অতি সহজে এমডি কোর্স শেষ করে এনেছি। মনে মনে বলেছি, এফসি পিএসের খ্যাতা পুড়ি। দরকার নাই এই পাকিস্তান ফরোয়ার্ডেড ডিগ্রি।
কিন্তু তাই বলে বি সি পি এস বা এফসিপিএসর প্রতি শ্রদ্ধা কিন্তু কমে নাই।


আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি, কঠিন পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে বি সি পি এস কিভাবে এই ডিগ্রির উচ্চ মান ধরে রেখেছে।

 

ফেল করে কারও মনে আনন্দ হয় না। আমারও হয় নাই। পরীক্ষা পাশ করার জন্য আমার ক্লাস সেভেন থেকে অর্জিত অভ্যাস অনুযায়ী ১২/১৬ ঘন্টা পড়েছি। ফাঁকি দেই নাই। তারপরও কেন ফেল করলাম । ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করেছি। দেখেছি, প্রশ্নপত্র মঙ্গল গ্রহ বা সুদান, আলজেরিয়া ,আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আনা হয় না। বইতেই আছে উত্তর। আমি পারি নাই। সহজ স্বীকারোক্তি।

 

এ প্রশ্ন , অতি সঙ্গত, কঠিনতম প্রশ্ন বড় ডিগ্রি বা বিশাল জ্ঞানভান্ডারের পরিচয় কি না।
অামার উত্তর অবশ্যই না। এ নিয়ে আলোচনার অবকাশ অবশ্যই আছে।
কিন্তু এটাও তো সত্য এসব প্রশ্নের উত্তর জানা নাই বলেই তো ফেল করি। অাবার বেশ কবার দেয়ার পর পাশও করে অনেকে। বি সি পি এসর প্রশ্ন স্বাচিপ বা ড্যাব-- ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলশিবির কখনও ফাঁস করেছে , এমনটাও কখনও শুনি নাই।
যারা পাশ করেন , পড়ে শুনেই পাশ করতে হয়।

 

আরেকটা কথা।
বিদেশী ডিগ্রি দেখলে আমাদের অদিখ্যেতার শেষ নাই। আমরা ভাবি, লন্ডনের , আমেরিকার বা অস্ট্রেলিয়ার ডাক্তারি ডিগ্রি কি যেন বিশাল ব্যাপার। সেসব দেশে যখন আমাদের পড়াশোনার দাম দেয়া হয় না, সেটাকে আমরা খুব সম্মানের চোখে দেখি বেশরি ভাগ তরুণ ডাক্তার। সেখানে নানা ছুটা পুটা পরীক্ষার যাঁতাকলে বার বার ফেল করি , তখন ভাবি , কি বিশাল জ্ঞানভান্ডার নিয়ে সেখানকার ডাক্তাররা চলে যে , আমরা তা পাশ করতেই পারি না্ ।

আসল কথা হল, যেখানকার যা চল।


অামার একটা প্রস্তাব আছে। লন্ডন , আমেরিকার ডিগ্রি হলেই বাংলাদেশে যে খুব মর্যাদা দেওয়ার চল, এটা আইন করে বন্ধ করতে হবে। যত বড় ডিগ্রি নিয়েই আসুক , এই দেশে তাদের আবার পরীক্ষায় বসে তাদের বিরাট ডিগ্রির মাহাত্ম্য প্রমান করতে হবে।


বেশী কিছু দরকার নাই।
লন্ডনী বা আমেরিকান বা অস্ট্রেলিয়ান ডিগ্রি অলা ডাক্তারদের শুধু বি সি পি এসর পরীক্ষায় বসতে হবে। ফার্স্ট পার্টের পরীক্ষায় বসতে হবে। আমরা দেখতে চাই, কত পার্সেন্ট পাশ করে।
তাতে ওই সব বিলাতী ডিগ্রির মানও বোঝা হয়ে যাবে। আমাদের ডাক্তারদেরও হীনন্মন্যতা দূর হবে।

শুধু হীনম্মন্যতায় ভোগা ডাক্তারদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিএমডিসি একটা পরীক্ষা নেয় বটে। বিদেশে পাশ ডাক্তার যদি বাংলাদেশে প্রাকটিস করতে চায়, তাদের জন্য। তাতে কিন্তু পাশের হার হাস্যকররকম কম। খোঁজ নিয়ে দেখেন। কিছু দিন অঅগে ডাক্তার প্রতিদিনে ডা. সাঈদ সুজনের একটা প্রামান্য লেখাও পড়েছিলাম।


___________________________

লেখক প্রবাসী চিকিৎসক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।