|

চিকিৎসক সুরক্ষা আইন নিয়ে ওয়াদার রাজনীতি চাই না


Published: 2017-01-01 11:12:41 BdST, Updated: 2017-02-24 09:37:56 BdST


ডা. অঞ্জলি

________________________


চিকিৎসক সুরক্ষা আইন এখন সময়ের দাবি। অামরা ডাক্তার প্রতিদিনে ক্যাটাগরিক্যালি ছবি সহ তথ্য দিয়ে জানিয়েছিলাম, সভ্য দেশে ডাক্তার সুরক্ষা বাহিনী অাছে। মেডিকেল পুলিশ অাছে। ডাক্তারি সেবা সর্বোচ্চ জীবনরক্ষা পেশা। প্রতিমুহূর্তে জীবনরক্ষায় সার্বক্ষনিক অতন্দ্র প্রহরী ও সেবক হল ডাক্তার ও হাসপাতাল ।
দেশের অন্য যে কোন বাহিনী নানা দরকারে কাজে লাগে। দুর্যোগ, দেশ রক্ষায় যারা কাজ করেন তারা সেরকম ঘটনা কালে ভদ্রে ঘটলে কাজে নামেন। পুলিশ শান্তি রক্ষায় যায় পরিস্থিতির অবনতি হলে।
কিন্তু হাসপাতাল সার্বক্ষনিক জনসেবায় জাগ্রত।
সেই ডাক্তার ও স্বাস্থ্যপেশাজীবীদের সুরক্ষা জাতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ।

আমাদের ডাক্তার সমাজের পরিস্কার দাবি, ডাক্তার হয়রানি নয়, ডাক্তারদের সুরক্ষা দিন। সভ্য দেশের মত হাসপাতাল পুলিশ চাই। হাসপাতাল সিকিউরিটি ফোর্স গঠন করুন।
অনুৎপাদন শীল খাতে বাজেট ব্যয় না বাড়িয়ে সেবা সুরক্ষা খাতে খরচ করুন। দেশ বাচবে। জনগন বাচবে। দেশের মানুষ সেবা পাবে।

 

 

 

ডাক্তার প্রতিদিনের দৃষ্টি আকর্ষণে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডা. প্রাণগোপাল দত্ত স্যার চিকিৎসক সম্মেলনে সময়ের এই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার সম্পন্ন দাবিকে টেবিলে তুলেছেন।
ঘুম ভাঙছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।
মন্ত্রীও ওয়াদা করেছেন এ নিয়ে।

চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাদের সুরক্ষায় আইন ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে’ পাস হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

সম্প্রতি ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের সুরক্ষা আইনের কথা বলা হয়েছে। আমরা আইনের খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সেটা মন্ত্রিসভায় পাঠাব। অল্প সময়ে আপনারা আইনটা পাবেন।”

দশম সার্ক ইএনটি কংগ্রেসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত এই দাবি তোলেন।
এর আগে ডাক্তার প্রতিদিন সুনির্দিষ্ট তথ্য ছবি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিষয়টি চিকিৎসক সমাজের প্রাণকন্ঠ অধ্যাপক প্রাণগোপাল স্যারের নজরে আনেন।
স্যারকে ধন্যবাদ তিনি হাসপাতাল পেশাজীবী ও জনপ্রাণরক্ষক চিকিৎসক সমাজের এই প্রাণের দাবিকে সরকারের টেবিলে তুলেছেন।

প্রাণ গোপাল স্যার বলেন, “চিকিৎসক সুরক্ষা আইন আমরা চাই । সেটা পাস হলে চিকিৎসকরা স্বাধীনভাবে তাদের সেবা দিতে পারবেন। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ অধিক মাত্রায় সেবা পাবেন।

এই দাবি নিয়ে কোন ওয়াদার রাজনীতি চাই না। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ডাক্তার নিগ্রহ চলছে। এটা চলতে পারে না।
ওয়াদার ফুলঝুরি নয়, চাই একশন।


আমরা সবাই জানি ,

‘রোগী এবং স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন, ২০১৬’ নামে খসড়া আইন প্রণয়ন করেছে সরকার।। কিন্তু সেটা ডাক্তার সুরক্ষা না ডাক্তার সাইজিং আইন।


অামাদের পোড়া কপাল সেটা সবাই জানে।

এর আগে ২০১৪ সালে ‘স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন’ ও ‘রোগী সুরক্ষা আইন’ শিরোনামের দুটি পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করেছিল সরকার।

সেখানে ডাক্তার সাইজিং বেশী ছিল।

অবহেলার জন্য চিকিৎসককে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের বিধানই যেন ছিল মুখ্য।

ডাক্তারদের ধরে মারপিট বন্ধ করুন। হাসপাতালের সুরক্ষায় হাসপাতাল পুলিশ চাই।
সেটা করুন। পরিবেশ উন্নত করুন। তাহলে নিশ্চিত থাকুন , সর্বোচ্চ মেধা , পরিশ্রম ত্যাগের মনোভাবে সেবা দেবে ডাক্তাররা।

______________________

ডা. অঞ্জলি , ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।