|

চিকিৎসা শিক্ষার মানহীনতার এই অধঃপতন রুখবে কে?


Published: 2016-12-22 10:01:42 BdST, Updated: 2017-09-21 07:21:48 BdST


ডা. বাহারুল আলম
______________________________

মানহীন চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংগঠন থেকে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা –সকলেই নির্লিপ্ত ও উদাসীন ।

মানহীন মেডিকেল কলেজের তালিকায় রাষ্ট্র ও ব্যক্তি মালিকানায় নিয়ন্ত্রিত – উভয়ক্ষেত্রে সমানতালে এগোচ্ছে।

রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা ক্ষমতার জোরে ও ব্যক্তি মালিকানাধীন অর্থের জোরে গড়ে তুলছে এ সকল মানহীন চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উভয় ক্ষেত্রে মানহীনতার মানদণ্ড সমান । কারণ উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য আধুনিক মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা নয়। রাষ্ট্রের কর্ণধারদের উদ্দেশ্য হল আধিপত্য ও এলাকাবাসীর ‘ভোটের জন্য স্টান্টবাজি’ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন-এর ক্ষেত্রে ‘মুনাফা অর্জন’।

রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের অর্থ কেলেঙ্কারির ফসল প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ। আর মন্ত্রীদের ক্ষমতার জোরে গড়ে উঠেছে রাষ্ট্রায়ত্ত মেডিকেল কলেজ। কোথাও কোন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নাই। মুক্ত বাজারের মত মুক্ত উদ্যোগ, জবাবদিহিতার কোন বালাই নাই।

সাংবিধানিকভাবে সরকারি/বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রে চিকিৎসা শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা “বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল” (BMDC) যারা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ হতে ভিন্ন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অপরিসীম। “জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত”। BMDC-র অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসা শিক্ষার কার্যক্রম শুরু করার ক্ষমতা কারো নাই, সেটা সরকারি বেসরকারি যেটাই হোক না কেন। তাদেরই চোখের সামনে একে একে মানহীন চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম গড়ে উঠছে এবং চলছে। কি রাষ্ট্রায়ত্ত! কি ব্যক্তি মালিকানাধীন!, উভয় ক্ষেত্রে।

চিকিৎসা শিক্ষার মানহীনতার এই অধঃপতন রুখবে কে? শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান থেকে জনস্বার্থে এ বিষয়ে কোন কথাই বলছে না।তারা জনগণের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসক প্রজন্ম সম্পর্কে একেবারেই উদাসীন। অথচ দুই রাজনৈতিক দলেরই শক্তিধর স্বাস্থ্য সম্পাদক রয়েছে। চুপ থাকার ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ, তবে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দু’দলের দুই সম্পাদক ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সংকট কোথায়?

চিকিৎসা শিক্ষার এ অধঃপতন একমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কারো প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নাই। রক্ষক ভক্ষক হয়ে বসে আছে। নির্লজ্জ যখন লজ্জা বুঝে হাসে, তখন নিশ্চিত হওয়া যায় এ অবস্থার আর কোন পরিবর্তন হবে না। চিকিৎসা শিক্ষার মানহীনতায় সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত ও দায়িত্বশীল সংস্থা, ব্যক্তি নির্লজ্জের মত হাসছে। অসহায় জনগণ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।

_______________________________

লেখক ডা. বাহারুল আলম। লোকসেবী ডাক্তার । সুবক্তা । প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা। সুলেখক। সমাজ অগ্রগতির কারিগর।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।