|

ভ্যালিড-হীন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বলি ডা. শাম্মী : দায় রাষ্ট্রের না চিকিৎসকদের ?


Published: 2016-12-19 13:18:13 BdST, Updated: 2017-09-21 07:22:05 BdST

ডা. বাহারুল আলম

____________________________


চিকিৎসার বেসরকারিকরণ ও পুঁজি বিকাশের প্রয়োজনে ‘পণ্য’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার যে সংকট, তা বাস্তবে আবারো দৃশ্যমান হল ডাঃ নাইমুল হক শাম্মী-র মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ।

রাষ্ট্রের সম্মতিতে পুঁজি কেবল চিকিৎসার এই কর্পোরেট ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে না, সেইসাথে চিকিৎসকদেরকে পুঁজির সেবাদাস বা চাকর বানিয়ে ফেলেছে। ল্যাব এইড-এ কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এতটাই অসংবেদনশীল বা অন্ধ ছিল যে এনজিওগ্রাম করা কালীন সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা ঝুঁকি মোকাবেলার পুর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি ও প্রস্তুতি ছাড়াই এনজিওগ্রাম করা শুরু করে দিল।

অসম্পূর্ণ , ত্রুটি ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় ডাঃ শাম্মী বা যে কোন রোগীকে এনজিওগ্রাম করতে ল্যাব এইডের চিকিৎসকদের বাধ্য করেছিল অথবা ল্যাব এইডের চিকিৎসকরা অর্থ লোভে মেডিকেল এথিকসের সব নিয়ম কানুন পালনের বাধ্যবাধকতা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলো। উভয়ক্ষেত্রে চিকিৎসা দুর্ঘটনা বা রোগী মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে। তখনই চিকিৎসা দুর্ঘটনা -অপরাধের জন্ম দেয়।

সমগ্র বাংলাদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারি/বেসরকারি উভয়স্থলে ত্রুটিপূর্ণ, অপ্রতুল ব্যবস্থাপনাকে রোগী চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে।

চিকিৎসায়- “ল্যাব-এইড বা পুঁজির ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা- ত্রুটি ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড বহন করে”। এ সকল ব্যবস্থাপনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মানদণ্ডে ভ্যালিড নয় এবং ভ্যালিডিটি সনদ গ্রহণ করার কোন কর্তৃপক্ষ নাই এদেশে। ভ্যালিড-হীন চিকিৎসা ব্যবস্থার যূপকাষ্ঠে বলি হচ্ছে অসংখ্য রোগী প্রতিদিন।এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কখনও রোগী/কখনও চিকিৎসক নিজেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। উভয় ক্ষেত্রে দোষী হয় অর্থ ও পদ-পদবি নির্ভর চিকিৎসকরা। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে পুঁজি ব্যবস্থাপনা (বেসরকারি/ প্রাইভেট)ও সরকারি ব্যবস্থাপনা।

জনগণের অভিযুক্ত ও আক্রমণ করার দৃষ্টি কেবল চিকিৎসকদের দিকে। আক্রান্ত বা অপরাধী চিকিৎসক তখন কোনভাবেই ‘চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এর জন্য দায়ী’- তা বলতে পারে না বা বলে না।

অপরদিকে এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করতে চিকিৎসকদের অনীহা বা অস্বীকৃতি নেই বললেই চলে। লোভ না স্বার্থ না জ্ঞানের অভাব তা স্পষ্ট হয় না।

ডাঃ শাম্মীর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর দায়ভার কর্পোরেট পুঁজির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নাকি কর্তব্যরত চিকিৎসকরা- নাকি উভয়ের ?— সেটা রাষ্ট্রকে তার জনগণের কাছে এ মুহূর্তে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবস্থাপনায়ও এ ধরণের চিকিৎসা দুর্ঘটনা প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে এবং রাষ্ট্র নিয়োগকৃত চিকিৎসকরা বাধ্য হচ্ছে কোন প্রকার প্রতিবাদ ছাড়া বা এককথায় নীরবে এ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে।

চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমডিসি ও বিএমএ, পুঁজি ও রাষ্ট্রের এ ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একেবারেই নীরব। ফলে সকল দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত ও আক্রান্ত হচ্ছে চিকিৎসক। জনগণ ও চিকিৎসক একই ধারায় ,একই কাতারে এ অব্যবস্থাপনার বলী হচ্ছে।

ডাঃ শাম্মীর মৃত্যুতে যদি বিএমডিসি ও বিএমএ মুখ খোলে তাহলে অনেক জীবন বাঁচবে।


________________________________

 

লেখক ডা. বাহারুল আলম। লোকসেবী ডাক্তার । সুবক্তা । প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা। সুলেখক। সমাজ অগ্রগতির কারিগর।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।